ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
পাকিস্তানের আকাশসীমা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে বিকল্প পথে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিপি) জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলিবাহী গাড়িবহর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িবহরটি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পের ভেতরে প্রবেশ করে। স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন (বায়েক) এবং মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (এএসই)-এর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের এই চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ত্রুটিজনিত কারণে ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থায় রাশিয়ার রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে একটি কার্গো উড়োজাহাজ শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এরপর শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে বিকিরণ প্রতিরোধী তিনটি কন্টেইনারে করে সুরক্ষিত 'গ্রিন করিডর'-এর মাধ্যমে জ্বালানিগুলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। এ সময় রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনী, পুলিশ, এসআরবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কড়া পাহারা প্রদান করেন।
প্রকল্প সূত্র আরও জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং কাজের জন্য দুটি—সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে এই জ্বালানি দেশে আসার কথা রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এসব চালানের সরবরাহ সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও ৯টি পৃথক ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী রূপপুর গ্রামে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। রাশিয়ার রোসাটমের কারিগরি সহায়তা এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এর আগে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশে আসে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আশা, সব প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
