× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে আলীকদম-থানচি সড়ক থেকে দুই শ্রমিক অপহরণ - সেনাবাহিনী-পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

তৌহিদুল ইসলাম, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণকাজে নিয়োজিত দুই শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন, আলীকদম থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উদ্ধার তৎপরতার পর শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে থানচি সড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকা থেকে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলমের ব্যবস্থাপনায় তাঁদের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘিরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং প্রত্যন্ত সড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দের আওতায় বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ডিম পাহাড়সংলগ্ন থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকায় দোকান প্লট ও পর্যটন স্পট নির্মাণের কাজ চলছিল।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে হেডমাঝি এরশাদের নেতৃত্বে চার শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ১ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চার সদস্যের একটি সশস্ত্র দল নির্মাণস্থলে এসে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখায়।

এ সময় অস্ত্রের মুখে দুই শ্রমিককে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা অপর দুই শ্রমিকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অপহৃত শ্রমিকরা হলেন—চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আমিন (২৮) এবং আলীকদম সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শামুসু (৩৮)।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সশস্ত্র দলের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং অপর একজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তবে তাদের পরিচয় কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করে হেডমাঝি এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপহরণকারীরা। দুই শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তারা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ঘটনার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল নম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ঘটনার সময় নির্মাণস্থলে থাকা অপর দুই শ্রমিক মো. ইমরান (১৭) ও সাহিদুল ইসলাম (১৬) কোনোভাবে সেখান থেকে সরে গিয়ে পরে মোটরসাইকেলে আলীকদমে পৌঁছান বলে জানা গেছে।

ইমরান আলীকদম সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী পাড়ার বাসিন্দা। সাহিদুল ইসলামও একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁরা বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দুই শ্রমিক নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলমের নেতৃত্বে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। পাশাপাশি আলীকদম জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আলীকদম থানা পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় নামে।

২ অক্টোবর দুপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট দল ডিম পাহাড়সংলগ্ন থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অনুসন্ধান চালায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়েও সাবেক আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে অবহিত করা হয়। এরপর প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত তৎপরতা জোরদার করা হয়।

সাচিং প্রু জেরী বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এ তথ্য সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত শুরু

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেদ পারভেজ জানান, দুই শ্রমিককে অপহরণের বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। পরে সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপহরণের পর দুই শ্রমিককে কোথায় রাখা হয়েছিল, মুক্তিপণ দাবির নেপথ্যে কারা ছিল, ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোবাইল ফোনের বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, আলীকদম-থানচি সড়কের দুর্গম পাহাড়ি অংশে সরকারি নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি এ ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে। প্রত্যন্ত এলাকায় রাতের বেলায় নির্মাণকাজ পরিচালনা এবং শ্রমিকদের অবস্থানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, কেন দুই শ্রমিককে তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং সত্যিই মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটেছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.