ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চাষকৃত মাছ নিধন এবং বসতঘর সংস্কারে প্রতিপক্ষের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের মিনারাই গ্রামের রুপজান বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়েছে। মাছ নিধনের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, জরাজীর্ণ বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়ায় শিশুসহ নয় সদস্যের পরিবারটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিনারাই গ্রামের আব্দুল গণির স্ত্রী রুপজান বেগমের দাবি, তিনি প্রকৃত অংশীদারের কাছ থেকে ২৪ শতক ৬০ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে নামজারি ও খারিজের মাধ্যমে বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। তবে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আব্দুল মন্নাফ, আব্দুল বারী, আবরুজ মিয়া ও আলআমীন ওই জমিতে শরিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এর মধ্যে রুপজান বেগমের বসতঘরটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। ঘর সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরও আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
রুপজান বেগম বলেন, ‘আমি প্রকৃত অংশীদারের কাছ থেকে জমি কিনে নামজারি-খারিজ করে বৈধভাবে বসবাস করছি। এই জমিতে অন্য কারও অংশ নেই। দীর্ঘদিনের পুরোনো টিনের ঘরটি এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নিলেই প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। শিশুসহ নয়জনের পরিবার নিয়ে এভাবে বসবাস করা খুবই কষ্টকর।’
এদিকে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বসতবাড়ি সংলগ্ন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চাষকৃত মাছ নিধনের অভিযোগও করেছেন রুপজান বেগম ও তার ছেলে আব্দুল নসাদ। তাঁদের দাবি, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ চাষ করা হয়েছিল। বিষ প্রয়োগের পর এসব মাছ মারা যায়। এ ঘটনায় আব্দুল মন্নাফ, আব্দুল বারীসহ চারজনকে আসামি করে গত ২২ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।
আব্দুল নসাদ বলেন, ‘জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী। তাঁরা বলেন, পুকুরে কে বা কারা বিষ দিয়েছে, তা তাঁরা জানেন না। তাঁদের দাবি, ওই বাড়ির জমিতে শরিকানদের মালিকানা রয়েছে। শরিকানদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলায় মাছ নিধনের মামলায় তাঁদের অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে।
পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, ‘জমি নিয়ে তাঁদের পারিবারিক জটিলতা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়েছে। কিন্তু উভয়পক্ষের অসহযোগিতার কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’
পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রনি তালুকদার বলেন, ‘মামলার আসামিরা জেলহাজত থেকে জামিনে রয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন। বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়টি রুপজান বেগমের পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
