মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লাউয়াছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল ও কোনাগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে দুই গ্রামের অন্তত ৩০টি বাড়ি-ঘর এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত থেকে কমলগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে উজানের ঢল নেমে আদমপুর ইউনিয়নের লাউয়াছড়ায় তীব্র স্রোত ও পানির চাপ সৃষ্টি হয়।
শনিবার দুপুরে অতিরিক্ত পানির চাপে ভানুবিল ও কোনাগাঁও এলাকার মাঝামাঝি অংশের বাঁধটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ৩০টি পরিবারে প্রবেশ করে।
এদিকে বন্যার পানিতে গ্রাম দুটির একমাত্র চলাচলের পাকা রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কার্যত চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার প্রায় পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ রোপা আমন ধানের ক্ষেত এবং কৃষকের মৌসুমী শাকসবজি, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শমসের মিয়া ও ইসমাইল হোসেন জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে দ্রুত পানি প্রবেশ করায় বাড়ির আসবাবপত্র ও মালামাল সরানোর সুযোগ মেলেনি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ধানের ক্ষেত সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে।
এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান, টানা ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণেই আকস্মিক বাঁধ ভেঙে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে আসায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়ে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।