লালমনিরহাট-বুড়িমারি মহাসড়ক থেকে রাতে উদ্ধার করা বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ সকালে বনবিভাগের হেফাজত থেকে নিখোঁজ হয়েছে। উদ্ধারের পর সাপটিকে নিরাপদে রাখার কথা থাকলেও পরদিন সকালে সেটি আর পাওয়া যায়নি। কীভাবে বনবিভাগের হেফাজত থেকে অজগরটি বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারি মহাসড়কের সরকারি কলেজ বাজার এলাকায় বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ দেখতে পান পথচারীরা। পরে স্থানীয়দের খবর দেওয়া হলে তারা সাপটি উদ্ধার করে বনবিভাগে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় হাঁস-মুরগি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছিল। এর মধ্যে মহাসড়কে বিশাল আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
জানা গেছে, রাতে অজগরটি উদ্ধারের পর বনবিভাগের সংশ্লিষ্টরা সেটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। নিরাপদে রাখার জন্য সাপটিকে একটি খাঁচায় রাখা হয়েছিল। তবে পরদিন সকালে বনবিভাগের হেফাজত থেকে অজগরটি আর পাওয়া যায়নি।
বনবিভাগ লালমনিরহাটের ডেপুটি রেঞ্জার আনিসুল ইসলাম বলেন, সাপটিকে একটি খাঁচায় রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা যে বস্তায় করে সাপটি নিয়ে এসেছিলেন, সেটিতেই রাখা হয়। কিন্তু বস্তাটি ফুটো হয়ে যাওয়ায় অজগরটি সেখান থেকে বের হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, বনবিভাগের পর্যাপ্ত লজিস্টিক ও জনবল না থাকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে অজগরটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে সেটি খুঁজতে বনবিভাগে যান বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার সংগঠন ওয়াইল্ড লাইফ স্নেক রেস্কিউ টিমের সদস্য মো. ফুয়াদ আল হাসান অপু। তিনি বলেন, বনবিভাগে এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সাপটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। আশপাশে কোনো নদীও নেই যে বন্যার পানিতে ভেসে সাপটি অন্য কোথাও চলে যাবে।
অন্যদিকে বনবিভাগের পাশের বাসিন্দা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মান্নান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের হাঁস-মুরগি হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন অজগরটি নিখোঁজ হওয়ায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়েও তারা চিন্তিত।
স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী নিরাপদে সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই বনবিভাগের হেফাজতে থাকা অজগরটি কীভাবে বেরিয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলায় বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও অবমুক্তকরণে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও জনবল বৃদ্ধির দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।