ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও বিষ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জিল্লুর মোল্লাকে (৪২) দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
আদালত একই সঙ্গে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ওই আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার দণ্ড কার্যকর হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর মোল্লা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের শিকার তার স্ত্রীর নাম সালেহা বেগম (২৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে জিল্লুর ও সালেহার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সালেহাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন জিল্লুর। একই দাবিতে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল দুপুর একটার দিকে সালেহাকে পিটিয়ে এবং মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করেন স্বামী জিল্লুর। পরে তিনি প্রচার করেন, তার স্ত্রী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওইদিনই আলফাডাঙ্গা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরে ঘটনার আড়াই মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক মো. জহিরুল ইসলাম ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন, ওই নারীর মৃত্যু অস্বাভাবিক এবং তাকে জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এরপর ২০১৯ সালের ৬ জুলাই নিহত সালেহা বেগমের দুলাভাই ইমরান মোল্লা (৪২) বাদী হয়ে সালেহার স্বামী জিল্লুর মোল্লাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন আলফাডাঙ্গা থানার একজন উপপরিদর্শক এবং পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একজন পরিদর্শক। ২০২১ সালের ২ নভেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফরিদপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে নিহত সালেহার স্বামী জিল্লুরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া বলেন, আসামি হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।