× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অশনি’র প্রভাবে দিনভর বৃষ্টি

শাহনাজ পারভীন এলিস

১১ মে ২০২২, ২০:১৫ পিএম । আপডেটঃ ১১ মে ২০২২, ২০:১৬ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে গতকাল রাজধানীতে দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। ছবিটি মতিঝিল থেকে তোলা। ছবি: সংবাদ সারাবেলা

পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখনও বাংলাদেশের স্থলভাগ থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করায় তা এদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে  আঘাত করার আশঙ্কা নেই। তবে অশনির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সানাউল হক মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় অশনি’র গত সোমবার থেকে সারাদেশে থেমে থেমে চলা মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি আরও দুই থেকে তিনদিন চলতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলার গভীর সাগরে বিচরণ না করে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে আজ থেকে দেশের উপকূলীয় তিন বিভাগে (খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম) অতিভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় এই তিন বিভাগে আগামী তিনদিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় অশনি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার তেমন সম্ভাবনা না থাকলেও এর প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতেও হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রাখা এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোয় সতর্কতামূলক প্রচারণাও অব্যাহত রয়েছে। 

এদিকে অশনির প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশেই দিনভর হালকা ও ভারী বর্ষণ হয়েছে। তবে বেলা ৩টার পর থেকে মেঘের আনাগোনা বেড়ে যায়। সাড়ে তিনটার দিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যেন সন্ধ্যা নামে রাজধানীতে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী (২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটার বা এর বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে অশনি’র প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কেবল বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে তিন শতাধিক ট্রলার ফিরে এসেছে। প্রতিটি ট্রলারেই লোকসান হওয়ায় মলিনতা ছিল জেলেদের চোখেমুখে। কারণ ট্রলারপ্রতি দেড় থেকে দুই লাখ টাকার লোকসান গুনতে হবে মালিকদের। ঘূর্ণিঝড় কেটে গেলে ফের সমুদ্রে যাওয়ার পুঁজি সংকটেও পড়বেন অনেকেই।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) পরিচালক অপারেশন নূর ইসলাম খান অসি সংবাদ সারাবেলাকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় অশনি সমুদ্র থেকে স্থলভাগে চলে আসায় তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সাথে দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থানরত সুন্দরবন থাকায় অশনি বাংলাদেশে প্রবলভাবে আঘাত করতে পারবে না। বিগত দিনে ঘটে যাওয়া অন্যান্য ঘূর্ণিঝড়ের মতো এবারের ঘূর্ণিঝড় থেকে সুন্দরবনই আমাদের রক্ষা করবে। তারপরও এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সাতক্ষীরার আশাশুনি পর্যন্ত উপকূলীয় ১৩টি জেলার ৪২টি উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নামাতে প্রস্তুত রয়েছে ৭৬ হাজার ১২০ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক। পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে স্বেচ্ছাসেবক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সাইক্লোন শেল্টার সেন্টারে নিতে তথ্য আদান-প্রদানে স্বেচ্ছাসেবকদের ওয়্যারলেস সরবরাহ করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার, নিরাপদ খাবার পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অশনি’র প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ কলকায়ও তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। সেখানকার উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, ঝড় বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের কোন সম্ভাবনা নেই। তবে প্রবল বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ বঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায়। মঙ্গলবার দুপুরে বিশাখাপত্তনম সৈকত থেকে ঘূর্ণিঝড় অশনি ছিল ৩শ’ কিলোমিটার দূরে। রাত পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকেই এগুবে সে, স্থলভাগে আছড়ে পড়বে না। সমুদ্রে থেকেই হালকা বাঁক নিয়ে ওড়িশা উপকূলের দিকে গিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে ঘূর্ণিঝড় অশনি’র প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত কলকাতা ও হাওড়ায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার-সহ পাঁচটি জেলায় ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গের তিনটি জেলাতেও। দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.