× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মাদক ও দুর্নীতি ঠেকাতে কারা সেক্টরে উচ্চপর্যায়ে রদবদল

হালিম মোহাম্মদ

১১ মে ২০২২, ২০:২১ পিএম । আপডেটঃ ১১ মে ২০২২, ২০:২২ পিএম

ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ৬৮টি কারাগারের প্রায় সবগুলোতে টাকার বিনিময়ে বন্দিদের মাদক সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। এর মধ্যে মাদক কারবারিদের রোধে কঠোর হস্তে দমন করা হচ্ছে। কারারক্ষী থেকে শুরু থেকে শীর্ষ কারা কর্মকর্তারাও এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। মাদক পাচার রোধসহ এসব দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করতে কারাগারগুলোতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা কর্মচারী বা কারারক্ষীদের পুরাতন কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেয়া। কারণে গণবদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে কারাগারে বড় ধরনের রদবদল হচ্ছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষোভ জানানো হয়। যারা দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করছেন তাদের বদলি করার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর কারা অধিদপ্তর একটি কমিটি করে। ওই কমিটির সুপারিশে বড় ধরনের বদলি করার উদ্যোগ নেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এবিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সম্পতি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, দেশ থেকে দুর্নীতি নানা অনিয়ম দূর করতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। কারাগারসহ সব স্থানে অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কাজ করছে। কারাগারে যারাই অনিয়ম দুর্নীতি করছে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বছরের পর বছর ধরেই কারাগারে নানা অনিয়ম চলে আসছে। এই নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিক মিটিং হচ্ছে। কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার। কিন্তু বন্দিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ভেতর মাদক কারবারও চলছে। বেশিরভাগ কর্মকর্তা কারারক্ষী একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর ধরে চাকরি করছেন। অবস্থা থেকে বের হতে কারা অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন বলেন, কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যেই তাদের কাজ সম্পন্ন করেছে। আশা করছি কারাগারের গার্ডিং স্টাফ বদলি প্রথা সারাদেশে উন্মুক্ত করা গেলে ভালো কিছু আশা করা যাবে।

কারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা  কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সবকটি কারাগারেই নানা অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। বিশেষ করে মাদক কারবার। এর সঙ্গে বন্দিদের পাশাপাশি কারারক্ষীরা পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েছে। বন্দিদের জন্য কেনা খাবারের উপকরণ হরিলুটের ঘটনাও ঘটেছে। বছর খানেক আগে কুমিল্লা  কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী রোমান ভূঁইয়া বন্দিদের মাদক   মুঠোফোন সরবরাহের সময় ধরা পড়েন। এর আগে লালমনিরহাটে মাদক পাচারের অভিযোগে একযোগে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয় ১৪ কারারক্ষীকে। দুর্নীতির অভিযোগে সাত বছর কারাদন্ড হয়েছে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা(ডিআইজি প্রিজন্স)পার্থ গোপাল বণিকের। ছাড়া একই অপরাধের অভিযোগে আরো এক ডিআইজি প্রিজন্স ( কারা অধিদফতর) বজলুর রশীদের বিচার চলমান রয়েছে।

কারা সূত্র বলেছে, প্রায়ই কারা অভ্যন্তরে মাদক পাচারের অভিযোগে আটক হন কারারক্ষীরা। কিন্তু ঘটনার পেছনের রাঘব-বোয়ালরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা কারা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কারাগারে অপরাধে জড়াচ্ছেন কারারক্ষীরা।

কারা সূত্র জানায়, অনেক কারারক্ষীর বাড়ি এবং কর্মস্থল একই বিভাগে হওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে কারা অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে। এতে একদিকে যেমন কারারক্ষীদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে কারাগারগুলোতে তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বদলি প্রথায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে অধিদপ্তর। সম্প্রতি বদলি প্রথা পরিবর্তন করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন, সভাপতি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক, সদর দপ্তরের ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক, খুলনা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক, পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) ওই কমিটিকে মতামত নির্দেশনা জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পরই বদলির বিষয়টি কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কারারক্ষী মহিলা কারারক্ষী থেকে প্রধান কারারক্ষী পর্যন্ত পদগুলোতে দায়িত্বরতদের বলা হয় গার্ডিং স্টাফ। তারা মূলত কারা অভ্যন্তরের স্পর্শকাতর দায়িত্বগুলো পালন করে থাকেন। এজন্য বন্দিদের খুব কাছাকাছি থেকে কাজ করার সুযোগও তৈরি হয় তাদের। আর এই সুযোগে বন্দিদের মাদক, ফোন সরবরাহসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হয়। নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের পরেও এমন অনিয়ম থেকে বের হতে পারেনি দেশের কারা সেক্টর।

একাধিক কারা কর্মকর্তা বলেন, নিজ বিভাগে কারারক্ষীদের পদায়ন করা হচ্ছে। বদলি করা হলেও তা ওই বিভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে করে দীর্ঘদিন তারা নিজ বিভাগেই কর্মরত থাকছেন। আবার কারাগারগুলোতেও একই বিভাগের অপরাধীরা থাকেন। এতে করে তাদের মধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন কারারক্ষীরা। আবার কিছু কিছু কারারক্ষী স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে আঁতাত করে কারা অভ্যন্তরে ক্যান্টিন বাণিজ্যেও জড়িয়ে পড়েন।

সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে মাদক পাচারের অভিযোগে লালমনিরহাট কারাগারের ১৪ কারারক্ষীকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। ঘটনার পর কারা অধিদপ্তরের গোয়েন্দারাও মাঠে নামেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে কারা সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ে গোপনে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে জানা যায়, দীর্ঘদিন ঘুরেফিরে একই বিভাগে চাকরি করার সুবাদে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। আর কারণে কারারক্ষীরা অপরাধে জড়াচ্ছেন। এরপর কারারক্ষীদের বিভিন্ন বিভাগে বদলি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এবিষয়ে কারা সেক্টরের ডিআইজি প্রিজন্স (ঢাকা বিভাগ এবং চলতি দায়িত্বে অধিদফতর) মো. তৌহিদুল ইসলাম সংবাদ সারাবেলাকে বলেন, কারাগার সংশোধনাগার। এখানে মাদকের বিষয়ে কঠোর কারা প্রশাসন। বিষয়ে কোন ছাড় নয়। ঢাকা গাজীপুর এবং কাশিমপুরসহ সকল বিভাগীয় কেন্দ্রীয় কারাগারে কিছুদিন পর পর মাদক নির্মূল অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক সংশ্লিষ্ট সকল বন্দি এবং কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে বদলী,বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বন্দিকে স্থানান্তরের মাধ্যমে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। তারপরও বিচ্ছিন্ন ভাবে ঘটনা ঘটছে। আমরা বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.