ছবি: ফাইল।
সরকারি হাসপাতালের জং ধরা লোহার ফটক পেরিয়ে কয়েক কদম এগোলেই চোখে পড়ে আরেকটি দৃশ্য। একদিকে জরাজীর্ণ অবকাঠামো, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা আর রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা; অন্যদিকে কাচঘেরা, ঝলমলে আলোয় সাজানো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—‘কেয়ার সোনো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একেবারে কাছেই এই প্রতিষ্ঠান। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা অভিযোগ।
চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে—স্বল্প খরচে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি অচল থাকা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠলে রোগীদের ভরসা গিয়ে পড়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর। আর সেই পরিস্থিতিতে সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা কীভাবে প্রভাবিত হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন সেবা এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা না পাওয়ায় রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের কেউ কেউ রোগীদের কেয়ার সোনোতে পাঠান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও সেবার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে চিকিৎসক ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ডা. শুভর নামে। অভিযোগ রয়েছে, কেয়ার সোনো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে তাঁর মালিকানা বা অংশীদারত্বের সম্পর্ক রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এবং একই এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নটি তাই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
অভিযোগের বিষয়টি শুধু একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন, রোগীকে কোথায় পরীক্ষা করাতে বলা হচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং রোগীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া—সবকিছুই জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম বা স্বার্থের সংঘাত থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ডা. শুভর পারিবারিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তাঁর বাবা লিয়াকত আলী দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সামনে এসেছে। জীবননগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব রয়েছে। এসব সম্পর্কের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব বা সুবিধা যুক্ত ছিল কি না, তা নির্দিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
বক্তব্য জানতে ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল (শুভ)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জনস্বাস্থ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে জিম্মি হতে পারে না। সরকারি হাসপাতালের সেবা দুর্বল থাকলে তার দায় নির্ধারণ করতে হবে; আর সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কেয়ার সোনোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাস্থ্য বিভাগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং স্বাধীন তদন্তের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা কি কেবল অব্যবস্থাপনার ফল, নাকি এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থের যোগসূত্র রয়েছে? অভিযোগের উত্তর মিলবে নথি, যন্ত্রপাতির বাস্তব অবস্থা, রোগীদের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই।
চার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ থেকে বদলি—স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরে কারা তাকে রক্ষা করেছেন?
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
