মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা গ্রামে ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে চা বিক্রেতা দুরূদ মিয়াকে হত্যার ঘটনায় ছেলে মকবুল মিয়ার দায়ের করা মামলায় ১৮ বছর পর প্রধান আসামী ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ওই ঘটনায় হত্যাকারী আসামী ছাদিক মিয়ার মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম। একই মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে পাওনা ১ হাজার ২’শ ৬৩ টাকা চাওয়ায় চা বিক্রেতা দুরূদ মিয়াকে হত্যা করেন সাদিক মিয়া ও তার সহযোগিরা। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী সাদিক মিয়া ও নিহত দুরূদ মিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও প্রতিবেশী। আদালত মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি সাদিক মিয়া’কে ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডও দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মকবুল মিয়া ২০০৮ সালের ১১ জুন ইট ভাঙ্গার কাজের জন্য দিঘীরপার বাজারের পাশে শাহজাহান মিয়ার ইট ভাটায় যান। পরদিন ১২ জুন দুপুরে মকবুল মিয়ার বোন জয়নব বেগম ইট ভাটায় এসে মকবুল মিয়াকে জানায়, সকালে তাদের পিতা দূরুদ মিয়াকে আসামী ছাদিক মিয়া চা খাওয়ার সময় তাঁর কাছে দোকান বাকীর পাওনা টাকা চাইলে সাদিক মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বাড়ী চলে যায়। পরবর্তীতে তার চাচা ও ভাইদের নিয়ে এসে ধারাল চাকু দিয়ে দূরুদ মিয়ার পেটের বাম দিকে আঘাত করে। ঘটনার পর রক্তাক্ত দূরুদ মিয়াকে স্বজনরা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এর পর চিকিৎসারত দূরুদ মিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে সিলেট যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নির্মম ওই ঘটনার পর দূরুদ মিয়ার ছেলে ইট ভাঙ্গা শ্রমিক মকবুল মিয়া বাদী হয়ে ১২ জুন রাতে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় ১। ছাদিক মিয়া ২। তছকির মিয়া (৪৫) পিতা মৃত আবাছ উল্লা, ৩। সিরাজ মিয়া (৩০) পিতা ময়না মিয়া, ৪। নুরুল ইসলাম (২৮) পিতা ঐ, ৫। ছাইফুর রহমান (৩০) পিতা ইদ্রিস মিয়া, ৬। আতাউর রহমান (২৬) পিতা ঐ, ৭। শফিক মিয়া (৩০) পিতা মৃত লেফাছ মিয়া, ৮ । আছার মিয়া (৩৮) পিতা ছুবান মিয়াকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। আসামীরা একই গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় ঘোষণার পর আসামি ও তাঁদের স্বজনদের আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ওই মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. বিল্লাল হোসেন। আর রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধান অনুযায়ী ছাদিক মিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মৌলভীবাজারে দ্রুত মামলার রায় হচ্ছে,এটাকে সরকারের সফলতা হিসেবেই মনে করি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
