বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবকে সামনে রেখে বান্দরবানে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে আয়োজনের ব্যস্ততা। কেউ তৈরি করছেন রঙিন ফানুস, কেউবা ব্যস্ত রথ নির্মাণে। বাঁশ, কাঠ, কাগজ আর নানা উপকরণ দিয়ে নিপুণ হাতে এসব সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
কর্মশালায় কারও ব্যস্ততা ফানুসের কাঠামো তৈরিতে, কেউ আবার কাগজ লাগিয়ে ফানুসে দিচ্ছেন বাহারি রূপ। অন্যদিকে, রথ তৈরির কাজেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উৎসবের আমেজকে আরও বর্ণিল করে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারীগররা।
আয়োজকরা জানিয়েছে, জেলার কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন স্থানে ফানুস ও রথ তৈরী চলমান রয়েছে। এবার প্রবারণাতে সাত শতাধিক ফানুস উত্তোলন করা হবে। আর এবারে রথের মুল আকর্ষণ রয়েছে। সবকিছু প্রস্তুতি শেষ হলে রথী জনসম্মুখে আনা হবে বলে জানানো হয়। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফানুস ও রথ তৈরির কাজ শেষ হবে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে উদ্যাপিত হবে প্রবারণা পূর্ণিমা।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে এ উৎসব উদ্যাপিত হয়। উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এসব আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ফানুস ওড়ানো ও রথযাত্রা। ফলে উৎসবের আগে ফানুস ও রথ তৈরির কাজে ব্যস্ততা বেড়ে যায় কারিগরদের।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফানুস ও রথ তৈরিতে প্রয়োজন হয় সময়, ধৈর্য ও দক্ষতার। প্রতিটি ফানুসের কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে কাগজ লাগানো ও সাজসজ্জার কাজ করতে হয় যত্ন নিয়ে। একইভাবে রথ তৈরিতেও কাঠামো নির্মাণ, সংযোজন ও সাজসজ্জার বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ করতে তাই বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট রাজার মাঠে রথ তৈরীতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কারীগররা। একই চিত্র রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে জাদীতে ফানুস তৈরীতেও। একদল কারীগর বিভিন্ন রং-বেরঙের ফানুস তৈরীতে মগ্ন। রথের তৈরীতেও চার থেকে পাঁচজন দিনরাত ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত। প্রবারণাকে সামনে রেখে ফানুস ও রথীকে সাজাতে ব্যস্ত অনেকেই।
রথ ও ফানুস কারীগর মংমং থুই ও উমংসিং মারমা বলেন, প্রবারণাকে ঘিরে ফানুস ও রথী বানাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছি। বালিশ, ড্রাগন, হাতি ফানুস ও রথী তৈরী হচ্ছে। প্রবারণা আরো কয়েকদিন রয়েছে আশা করছি শেষ মুহুর্তে সবকিছু শেষ করতে পারবো।
প্রবারণা উৎসব উদযাপন কমিটি সভাপতি চনুমং মারমা বলেন, এবারে প্রবারণাকে ঘিরে নানা আয়োজন হাতে নেয়া হয়েছে। ফুটবল, পিঠা তৈরী, রথযাত্রা সবকিছু মিলিয়ে এবারে প্রবারণায় জাকজমকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।