নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর অধীনে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে "তার কাছে কোনো তথ্য নেই" মর্মে লিখিত দেবেন বলে জানিয়েছেন। তথ্য চাওয়াতে এক পর্যায়ে তালবাহানা শুরু করেন
নেত্রকোনা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ঔষধ বরাদ্দ, ভ্যাকসিন মজুদ ও বাজেট এলডিপির প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন জাতীয় দৈনিক সংবাদ সারা বেলা সাংবাদিক সারোয়ার পারভেজ বাবু
আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আরিফা পারভিন রিপা উপজেলা নেত্রকোনা সদর কার্যালয়ে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তার কাছে চাওয়া তথ্য নেই এবং তিনি লিখিতভাবে তা জানিয়ে দেবেন। এই বক্তব্যের গোপন ভিডিও ধারণ করেন সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে আবেদনকারী সাংবাদিক সারোয়ার পারভেজ বাবু বলেন , "আমরা জনস্বার্থে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিনের তথ্য চেয়েছিলাম। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী ২০ দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু জেলা কর্মকর্তা বলছেন তার কাছে তথ্য নেই। তাহলে সরকারি ঔষধ ও কোটি টাকার বাজেট কোথায় যাচ্ছে? এটা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। আমাদের কাছে তার বক্তব্যের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে আছে।"
তথ্য অধিকার আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ৭ ধারা অনুযায়ী কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে (যেমন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা) তথ্য না দেওয়া যায়। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ঔষধ ও বাজেট সংক্রান্ত তথ্য জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা দিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য। তথ্য না থাকলে আইনের ৯(৮) ধারা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করে দিতে হবে অথবা কোথায় তথ্য পাওয়া যাবে তা জানাতে হবে, "তথ্য নেই" বলে দায় এড়ানো যায় না
তবে ভুক্তভোগী খামারিদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে গেলে বিনামূল্যের ঔষধ পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে কিনতে হয়। তথ্য গোপন করার চেষ্টা সেই অভিযোগকেই আরো জোরালো করছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকরা তথ্য কমিশনে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।