× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নীলফামারীতে জেলা ইজতেমায় ছয় দেশের ১২ নাগরিকের অংশগ্রহণ

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৯ পিএম

ছয় দেশের ১২ জন বিদেশি নাগরিকসহ দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে নীলফামারীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। ধর্মীয় বয়ান, ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস কলোনি মাঠে এ ইজতেমা শুরু হয়। আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন।

ইজতেমায় অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকেরা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরবের বাসিন্দা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজারো মুসল্লি এতে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ তাবলিগ জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মুনির বিন ইউসুফসহ ঢাকা থেকে আসা ধর্মীয় ব্যক্তিরাও ইজতেমায় উপস্থিত রয়েছেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের আগেই মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করায় বুধবার সন্ধ্যায় আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাঠে মুসল্লিদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। ধর্মীয় আলোচনা শুনতে এবং সম্মিলিতভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে অংশ নিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মাঠে সমবেত হন।

ইজতেমায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ধর্মীয় বয়ান, নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এসব আলোচনায় ইসলামের মৌলিক শিক্ষা অনুসরণ, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরকালীন জীবনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

আয়োজক কমিটির উত্তরবঙ্গের সভাপতি প্রভাষক দিদারুল ইসলাম বলেন, “ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানানো, আত্মশুদ্ধির চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা। আমরা চাই, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হোক। ইজতেমা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

ইজতেমায় অংশ নেওয়া ডিমলা উপজেলার কাঁকড়া চৌপথী এলাকার মুসল্লি মোসলেম উদ্দিন বলেন, “ইজতেমায় এসে ধর্মীয় বয়ান শোনা এবং দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়। আমরা চাই, ইসলামের শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে এবং পরিবার ও সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে। এ ধরনের আয়োজন মানুষকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করে।”

ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী হাসপাতাল এলাকার মুসল্লি বাবলু মিয়া বলেন, “ধর্মীয় আলোচনা থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। ইজতেমার শিক্ষা যেন আমরা দৈনন্দিন জীবনেও কাজে লাগাতে পারি, সেটাই প্রত্যাশা।”

নীলফামারী সদরের পুলিশ লাইন্স এলাকার ষাটোর্ধ্ব মুসল্লি জামালউদ্দিন বলেন, “বয়সের এই পর্যায়ে এসে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং ভালো কাজ করার গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করি। ইজতেমায় এসে ধর্মীয় বয়ান শোনা ও সম্মিলিতভাবে ইবাদত করার সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। দেশ ও জাতির শান্তি, মানুষের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য দোয়া করতে এসেছি।”

ইজতেমায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগমকে কেন্দ্র করে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অন্যান্য সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ইজতেমা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে মোট ১৮৪ জন পুলিশ সদস্যকে দুটি সেক্টরে ভাগ করে মোতায়েন করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আয়োজকদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে।

ইজতেমার শেষ দিনে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে আয়োজনে যাতায়াত, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে নীলফামারীর এ জেলা ইজতেমা।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.