প্রথমবারের মতো উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েই ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ১৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৬ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থীই অর্জন করতে পারেনি জিপিএ-৫।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফলাফল অনুযায়ী, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। মানবিক বিভাগের ১৪ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। বাকি ১৩ জনই ফেল করেছে। অর্থাৎ দুই বিভাগের ১৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল সাতকানিয়ার শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই এত কম পাসের হার প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংকট এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।
তবে ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে প্রথমবার পরীক্ষা পরিচালনার অভিজ্ঞতার ঘাটতি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী স্বল্পতা, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক।
তিনি জানান, প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এসব কারণে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি এ বছর প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি কলেজেও ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান শিক্ষক।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। সে হিসাবে বোর্ডের গড় পাসের হারের তুলনায় ছদাহা কলেজের পাসের হার ৪৬ দশমিক ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কম।
সাতকানিয়ার অন্যান্য কলেজের ফলাফলের চিত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান। সাতকানিয়া সরকারি কলেজে পাসের হার ৫১ দশমিক ০২ শতাংশ, চিবাড়ী এমএ মোতালেব কলেজে ৭২ দশমিক ৯৯ শতাংশ, আল-হেলাল আদর্শ ডিগ্রি কলেজে ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ, সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজে ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম কলেজে ১৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।
এ ছাড়া উত্তর সাতকানিয়া জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজে পাসের হার ২০ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মির্জাখীল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪০ শতাংশ এবং বারদোনা শাহ মজিদিয়া মাওলানা আব্দুল বারী বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি নতুন কলেজের প্রথম ব্যাচের ফলাফল মূল্যায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির মতো সমস্যাগুলো শুরুতেই চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে পরবর্তী ব্যাচগুলোর ফলাফলও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবে ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে প্রথমবার পরীক্ষা পরিচালনার অভিজ্ঞতার ঘাটতি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী স্বল্পতা, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক।
তিনি জানান, প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এসব কারণে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি এ বছর প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি কলেজেও ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান শিক্ষক।
প্রথম এইচএসসি পরীক্ষাতেই এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। আগামী দিনে শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘাটতি কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রতিষ্ঠানটির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এবিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থের মতামত জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কল গ্রহণ না করায় মতামত জানা যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
