একটি গোছানো মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন হুট করেই নিভে গিয়েছিল গত ১২ মার্চ ২০২৬। সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সাতক্ষীরা আনসার ব্যাটালিয়নের (৩০ বিএন) সিপাহি জয় গাইন। রেখে যান স্ত্রী মণিষা বিশ্বাস আর দুটি নিষ্পাপ সন্তান—একজনের বয়স তখন তিন বছর, অন্যজন মাত্র সাত মাসের। পরিবারে শোকের পাশাপাশি বড় পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ব্যাংকের ৪,২১,৭৬৩ টাকার ঋণের বোঝা।
সংসার চালানোর শক্তি যখন মণিষার নেই, তখন নিয়তির নির্মম পরিহাস হয়ে আসে ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধের অসম্ভব বোঝা। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় ৪ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সিপাহি জয় গাইন। সুদসহ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪,২১,৭৬৩ টাকা। দুটি অবুঝ শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে মণিষা যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই মানবিকতার ধারায় এলো কিছুটা স্বস্তি।
মণিষা বিশ্বাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ নভেম্বর, সোমবার খিলগাঁওস্থ বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরের নিজ দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ মহোদয় যখন মণিষার হাতে পুরো ঋণের ৪,২১,৭৬৩ টাকার চেক তুলে দিচ্ছিলেন, তখন দপ্তরজুড়ে নেমে আসে এক আবেগঘন নীরবতা। পাশে দাঁড়িয়ে বাহিনীর পরিচালক (ওয়েলফেয়ার) জনাব এনামুল খাঁনও যেন দেখছিলেন মহাপরিচালকের সহানুভূতিশীল উদ্যোগ ও এক বিপন্ন পরিবারের স্বস্তির দৃশ্য।
এই অনুদান শুধু কল্যাণ তহবিলের টাকা নয়, এটি আসলে এক অনন্য মানবিক সহায়তা। মহাপরিচালকের এই মানবিক উদ্যোগে মৃত জয় গাইনের রেখে যাওয়া পরিবারটি ব্যাংকের দায় থেকে মুক্তি পেল। মণিষার চোখভরা জল আর কৃতজ্ঞতা বুঝিয়ে দিচ্ছিল—পৃথিবীতে এখনও নিঃস্বার্থ সহায়তা ও সহানুভূতি বেঁচে আছে।
জীবন কখনো কখনো সিনেমার চেয়েও মানবিক চিত্রনাট্য লেখে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ প্রমাণ করল, সহযোদ্ধা হারিয়ে গেলেও তার পরিবারকে একা ফেলে দেওয়া হয় না, পাশে দাঁড়ায় বাহিনী। দিনশেষে মানুষ মানুষের জন্যই, গল্পটা আসলে চিরন্তন মায়া, মমতা ও মানবিকতার।