নোয়াখালীতে একটি আলোচিত পর্নোগ্রাফি মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে বাদি পক্ষকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এসময় মামলার বাদী শিক্ষক মামুন অর রশিদকে জোরপূর্ব একটা সাদা কাগজ ও ২টি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নিতে গেলে মামুন অর রশিদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিতে না পেরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট জিম্মি করে জোর পূর্বক তার কাছ থেকে লিখিত ২টি ও অলিখিত একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় মামলার বাদী মামুন অর রশিদ (শিক্ষক) জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বরাবর একটি লিখত অভিযোগ করেন এবং সুধারাম মডেল থানায় প্রাননাশের হুমকি ও অপহরণের অভিযোগে একটি অভিযোগ করেন।
গত সোমবার (২৬/১০/২৬ ইং) রাত ১০.৩০ মিনিটের সময় নোয়াখালী পৌরসভা মার্কেটের সামনে একটি ওষুধের দোকানের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের চর কৈলাশ গ্রামের মোহাম্মদ আবুল খায়ের তালুকদারের ছেলে মোঃ সোহরাব উদ্দিন, একই অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ও লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার জাঙ্গালিয়া গ্রামের মোঃ হানিফের ছেলে মোহাম্মদ মইন উদ্দিন, হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের বিরবিরি গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাইজদী কোর্ট এলাকার মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ আমজাদ হোসেন, হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ম্যাক পার্শ্বন গ্রামের মোহাম্মদ বাহার উদ্দিনের ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম, একই এলাকার মোহাম্মদ আবুল কালাম এর ছেলে মোহাম্মদ হাসান উদ্দিন বিপ্লব ও মৃত নাঈম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ নুরুদ্দিন তানভীর সহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলোচিত পর্নোগ্রাফির মামলার বাদী হাতিয়া উপজেলার ম্যাকপার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মামুন অর রশিদ। নোয়াখালীতে তাদের স্বামী- স্ত্রীর ব্যক্তিগত কিছু ছবি ও ভিডিও জিন্নাত আরার মাধ্যম সংগ্রহ করে তাদের থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছেন। তাদের দাবীকৃত চাঁদা না দিলে উক্ত ভিডিও ও ছবি গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়িয়ে দিবে বলে তাদেরকে সামাজিকভাবে মানহানি ও হেয় প্রতিপন্ন হুমকি করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছেন। এই ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ নোয়াখালীতে সুধারাম মডেল থানা একটি পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজি মামলা করেছেন। যাহা মামলা নং জি আর ২১০/২০২৪ ইং। উক্ত মামলায় আসামিরা জামিন চাইতে গেলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন। আসামিরা দুই মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আসে। পরবর্তীতে আসামিরা নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী মোঃ সোহরাব উদ্দিন ও কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার ইসরাত নাসিমা হাবিবকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ সাজিয়ে কোন প্রকার তদন্ত না করে এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূতভাবে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বরখাস্তের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করিলেও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তার দাখিলকৃত আপিলটি অদ্যাবধি পর্যন্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাননি।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়,গত ১৯/১০/২০২৬ ইং তারিখে হেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের নিকট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসরাত নাছিমা হাবিব, উচ্চমান সহকারী মোঃ সোরহাব উদ্দিন ও কম্পিউটার অপারেটর মঈন উদ্দিনের নামে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ দেয়। উক্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে উচ্চমান সহকারী সোহরাব উদ্দিন ও মহিন উদ্দিন তাকে সন্দেহ করে। তারা দুজনে পর্নোগ্রাফি মামলার আসামিদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে নোয়াখালীতে পরস্পর যোগসাজশে স্থানীয়ও বহিরাগত কতেক সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে পাঠিয়ে গত ২৬/১০/২০২৬ ইং তারিখে রোজ সোমবার রাত আনুমানিক ১০.৩০ মিনিটের সময় তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে এসময় অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে গলাচিপে ধরে প্রাননাশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ২টি লিখিত সাদা কাগজ ও ১টি সাদা খালি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তাকে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট আটকে রাখে। পরবর্তীতে উক্ত কাগজগুলো তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উচ্চমান সহকারে মোহাম্মদ সোরহাব উদ্দিন ও কম্পিউটার অপারেটর মঈন উদ্দিনকে হস্তান্তর করে তাকে উদ্দেশ্যেমূলক ভাবে হয়রানী করার চেষ্টা করতেছে বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া উক্ত আসামিরা বিগত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মামলার বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনায় মামুন বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযোগটি জিআর মামলায় দাখিল করে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী পর্নোগ্রাফি মামলার বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুবুর রশিদ বলেন, আমি ২০২৪সালে তাদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা করি যা মামলা নাম্বার ২১০/২০২৪ ইং এই মামলায় তারা জেল খেটে এসে,বলে আমি যদি মামলা না তুলি তাহলে তারা আমাকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই হুমকি দেন এবং আমাকে গত ২৬/১০/২৬ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১০.৩০ মিনিটের সময় অতর্কিত ভাবে হামলা চালায় এক পর্যায় তারা আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ১টি সাদা কাগজ ২টি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যায় পরে আমি জোর কন্ঠে চিৎকার দিলে ঘটনার স্থানে মানুষ চলে এসে আমাকে উদ্ধার করে এবং আসামীরা পালিয়ে যায়।পরে আমি সুধারাম থানায় একটি অভিযোগ করি।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এক শিক্ষক অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
