× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ফরাসি প্রেসিডেন্ট দেখে গেলেন বঙ্গবন্ধুকন্যার উন্নত মানবতার বাংলাদেশ

কাজী সেলিম

৩১ অক্টোবর ২০২৩, ১৮:৩১ পিএম । আপডেটঃ ০১ নভেম্বর ২০২৩, ১৬:৫৩ পিএম

আমার এ লেখাটির উদ্দেশ্য হলো, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর বাংলাদেশ সফর (১০-১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩) ও প্রায় ৩০ বছর পূর্বের কম্বোডিয়ায় জাতিসংঘের অধীনে চাকরির শেষে ফরাসি পুমা হেলিকপ্টার পাইলটের সাথে একটি কথপোকথন প্রসঙ্গে। প্রসঙ্গটি ছিল তখনকার বাংলাদেশ সম্পর্কে।

১৯৯২-৯৩ এক বছরের জাতিসংঘের মিশনে দ্বায়িত্ব পালন শেষে দেশটির সর্বদক্ষিণে অবস্থিত কমপৎ প্রদেশ থেকে বিদায়কালীন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে, প্রাদেশিক জাতিসংঘের প্রধান কর্মকর্তা, নিউইয়র্কের প্রধান সদরদপ্তরের ওসমান হাছান অনুরোধ করেছিলেন পরদিন সকালে আমার রাজধানী নমপেন যাওয়ার প্রাক্কালে যেন আমি আমার গাড়ীতে সফরসঙ্গী হিসেবে দুইজন হেলিকপ্টার পাইলটকে সঙ্গী করি। ঐ দুইজন পাইলট কমপৎ অঞ্চলে ২/৪দিনের অবকাশকালীন ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। কমপৎ প্রদেশটি কম্বোডিয়ার সর্ব দক্ষিনের একটি অন্যতম বৃহৎ পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক বিশাল সুউচ্চ বোকর পাহাড়, সমূদ্র হতে প্রায় ১,০৭৫মিটার উ”চতায় অব¯ি’ত। পাহাড়ের অবস্থান কালে পশ্চিম দিকে দৃষ্টি নন্দন “গালফ অব থাইল্যান্ড” সাগরের নীল জলরাশিতে ভরপূর সমূদ্র। ঝড়না ও নৈস্বর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ প্রদেশ কমপৎ। সমূদ্র সৈকতে রয়েছে প্রসিদ্ধ চিংড়ি, কাকড়ার খাবারের দোকান সমূহ।

উল্লেখ করা যায় যে, ঐ বোকর পাহাড়ে আমার দুইবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কর্মরত জাতিসংঘের তরফ থেকে নিয়োজিত পাহাড়ে অবস্থিত ৪/৫শ খেমার ভোটারদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তভূক্ত করার নিয়োজিত টিমের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করার জন্য। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত ফরাসী শান্তি মিশনের একটি কোম্পানী কনটিনজেন্ট ক্যাপটেনের তত্ত্বাবধানে ও নিরাপত্তায় পাহাড়ায় আমি আমার জাতিসংঘের স্বীয় গাড়ীতে, আমার এক সহকর্মী ও খেমার দোভাষীসহ পাহাড়ের বিশাল সুউচ্চ পথে যাওয়ার প্রায় অর্ধেক পথেই গভীর জঙ্গলের গোপন আখরা হতে দুদিক থেকে সশস্ত্র অবস্থায় দুর্ধর্ষ, হৃদয় কাপানো খেমারুজ গেরীলাদের হঠাৎ আবির্ভূত ও মুখমুখি হওয়ার পর প্রথমেই কঠোরভাবে আদেশপ্রাপ্ত হলাম যেন, কোন ছবি তোলা না হয়। আমার পাশের গাড়ীর জানালাটি নীচে নামিয়ে ওদের সাথে কিছু বন্ধুত্ব মূলক সংক্ষিপ্ত কথোপকথন শেষ করলাম যেমন, কল্যাণমূলক খাওয়াদাওয়ার জীবনযাপনের উপর। খেমারুজ উক্ত গেরীলাদল ফরাসী ক্যাপ্টেনের নিকট কিছু ম্যালেরিয়া নাশক ঔষধ ও কয়েক বস্তা চাউল আবদার করায়, ফরাসী শান্তি সেনার উক্ত ক্যাপ্টেন নমপেন-কমপৎ মহাসড়ক হতে ঐ পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অবস্থিত উক্ত গেরীলাদের দ্বারা এক কাঠ ব্যবসায়ীর নিকট হতে মুক্তিপন অর্থের জন্য ছিনতাইকৃত একটি ট্রাক্টর প্রকৃত মালিককে ফেরত প্রদানের অনুরোধ বা নির্দেশ প্রদানের ফরাসী ক্যাপ্টেনের সাথে খেমার গেরীলাদের কথপকথন ও সংক্ষিপ্ত পথ যাত্রা বিরতি শেষে, পাহাড়ের সর্বোচ্চ গন্তব্যে পৌছে প্রায় দু’ঘন্টা অবস্থান করে আমার দায়িত্ব শেষ করে, পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত জায়গার কিছু দূর্লভ ছবি তুলে কনভয়সহ আবার আমি ও ফরাসী শান্তি সেনাদল ফিরেছিলাম যার যার দপ্তরে।

কম্বোডিয়ার এক বৎসরের দায়িত্বপালন শেষের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সেদিন রাতে ভদ্র, নম্র, সৌম্য ব্যাক্তিত্বের অধিকারী প্রাদেশিক সমন্বয়কারী ওসমান হাছানের অনুরোধে, ঐ দুইজন পাইলট যেন সকাল নয়টার মধ্যেই প্রস্তুত থাকেন এবং আমি দুজনকে আমার গাড়ীতে সফরসঙ্গী হিসেবে তুলে নিব, এই মর্মে ওসমান হাছানকে জানিয়ে দিয়েছিলাম। সময় ও ওসমান হাছানের কথা মোতাবেক পরদিন সকাল বেলায় দুই ফরাসী পাইলটকে আমার গাড়ীতে তুলে যাত্রা শুরু করলাম রাজধানী নমপেনের উদ্দেশ্যে। আমার ডান আসনে আমার খেমার দোভাষী ও পিছনের আসনে উপবিষ্ট দুই হেলিকপ্টার বৈমানিক। রাজধানী নমপেনে যাওয়ার তাড়া তাই, আমার গাড়িটির পঞ্চম গিয়ার ব্যবহার করে দ্রুত বেগে গতিসীমার মধ্যেই নমপেনের দিকে যাচ্ছিলাম। ১৫০-২০০ কিলোমিটার দূরত্বের সড়কটি প্রথমে ছিল এক বেহাল অস্থায়, পরবর্তীতে জাপানী শান্তি সেনার প্রকৌশলী কর্মীদের জাতিসংঘের আর্থিক সহায়তায় সড়কটিকে উন্নয়ন করে একটি আরামদায়ক মসৃন সড়কে পরিনত করা হয়েছিল।

চলন্ত গাড়ীতে কিছু দূর যাওয়ার পর পাইলটদের জিজ্ঞেস করলাম, কি ধরনের হেলিকপ্টার চালাও তোমরা? বলেছিলেন, “পূমা হেলিকপ্টার”, আমি প্রতিউত্তরে বলেছিলাম, মাত্র সপ্তাহ পূর্বে আমি ও আমার কয়েকজন সহকর্মীসহ প্রথম রাজধানী নমপেন হতে জাতিসংঘের ঈ -১৩০ বিমানে উত্তরের সিয়েমরিয়েপের এ্যানকর ওয়াত পরিদর্শন শেষে ফিরলাম, বিশে^র অন্যতম বৃহৎতম স্থাপনা, যাহা জাতিসংঘের টঘঊঝঈঙ কর্তৃক ঘোষিত একটি ঐতিহ্যবাহি, দর্শনীয় প্রাচীনকালীন নির্মান প্রকৌশলের এক জ্বলন্ত আকর্ষনীয় স্থাপনা হিসেবে দন্ডায়মান এ্যানকর ওয়াত। যার চারিদিকে রয়েছে প্রকৃতির এক শান্ত স্থির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পাইলটদের বললাম, সিয়েমরিয়েপ থেকে আমরা দুদিন পূর্বে তোমাদের দেশে প্রস্তুত অর্থাৎ ফরাসী পূমা হেলিকাপ্টার যোগে রাজধানী নমপেনে ফিরেছিলাম, পথে বাতামবং প্রদেশে স্বল্প সময়ের বিরতী ছিল। বললাম, জানিনা সেদিন কি তোমরা উক্ত হেলিকপ্টারটি চালাচ্ছিল কিন? আমি জানালাম যে, পূমা হেলিতে এটাই আমার প্রথম যাত্রা ছিল, কিন্তু পূর্বে আমি পূর্বে রাশিয়ান তৈরী গও-৭ হেলিকপ্টারে বাংলাদেশে ভ্রমন করেছিলাম। এবার কথা প্রসঙ্গে ফরাসী একজন পাইলট আমার দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে জানতে চাওয়ায় আমি যখন তাকে বললাম যে, আমি বাংলাদেশী এবং একজন বাঙ্গালী। আমার শিক্ষকতা, পড়াশুনা এবং চাকুরীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা ও কথাবার্তার এক পর্যায়ে একটু নিরবতার পর মন্তব্য করে বলেছিল, “বাংলাদেশ একটি গরিব, বন্যা ও ঝড় ঝঞ্জার দেশ”। আমি আমার চলতি গাড়ির বেগ পঞ্চম গিয়ার থেকে পরিবর্তন করে তৃতীয় গিয়ারে কমিয়ে মন্তব্যকারী পাইলটদের দিকে ঘুরে চোখ রেখে বিনয়ের সাথে বলেছিলাম যে, তোমরা আমাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ভ্রান্ত ধারনা পোষন কর, প্রকৃতক্ষে ততটা সত্যি নয়, কারণ আমাদের বাংলাদেশ ১৯৭১ সনে, বাংলাদেশের ¯’াপতি তথা আমাদের বাঙ্গালী 

জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রাম ও ত্রিশ লক্ষ মানুষ ও তিন লক্ষাধিক মা-বোনে ইজ্জত ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। একটি সম্পূর্ণ ধ্বংশাবেশের ছাই ভস্মের উপর সম্পূর্ণ শুন্যহাতে গোটা বাংলাদেশেকে বঙ্গবন্ধুর সরকারকে সকল কিছুই নতুন করে সৃষ্টি ও পূণঃগঠন করতে হয়েছিল। আরও যোগ করে বলেছিলাম যে, আমাদের দেশটির উপর বৃটিশ দুইশত বৎসর ও পাকিস্তানের তেইশ বছরের শাসনের নামে শোষন, অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম, হত্যাকান্ড করে, বাংলাদেশের সম্পদ চুরি ও পাচার করে বৃটিশ রাজত্ব এবং পাকিস্তানের লাহোর, করাচি, পিন্ডিকে গড়ে তোলে বাংলাদেশের জনগনকে অভাব অনটন দূর্যোগ সৃষ্টি করে, অবশেষে বাংলাদেশকে অনুন্নত ও ভাগ্য বঞ্চিত করে বাংলাদেশ থেকে চীর বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিল ওরা। কারণ বৃটিশ-পাকিস্তানী শোষক ঘাতকদল বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন তথা দেশের কোন উন্নয়ন না করে আমাদের সকল সম্পদ লুটপাট করে দেশকে একটি অনুন্নত, গরিব দেশে পরিনত করে রেখে গিয়েছিল। বাংলাদেশে রয়েছে উর্বর মাটি, জনশক্তি, মূল্যবান গ্যাস, চা, চামড়া যেগুলো বিদেশে রপ্তানী করে অর্জিত বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে, আমাদের দেশকে উন্নত ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করে একদিন আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে নিজ পায়ে দাড়াতে সক্ষম হব। আমার এই কথাগুলো শ্রবন করার পর, দুই হেলি পাইলট নিরব, নিস্তব্ধ হয়ে কোন প্রকার মন্তব্য না করে নিথর নিশ্চুপ বসে ছিলেন। মন্তব্যকারী পাইলট বুঝতে সক্ষম হয়েছিল যে, একটি দেশ সম্পর্কে ভালভাবে না জেনেশুনে শুধুমাত্র পাশ্চাত্যের পত্র-পত্রিকা, মিডিয়ায় প্রচারিত অসৎ উদ্দেশ্যে প্রনীতভাবে প্রচারিত নেতিবাচক সংবাদ তথ্য বিশ্বাস করা ঠিক নয়। রাজধানী নমপেনে পৌছানোর পর,  তাদের গন্তব্য¯’ালের নিকটে আমার গড়ির ব্রেকটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে একটু চাপ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলাম বাংলাদেশ সম্পর্কে ওদের তখনকার বিরুপ মনোভাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবে। পিছনের দিকে হাত উঠিয়ে শুধু বলেছিলাম বিদায়, কম্বোডিয়ায় তোমাদের অবস্থান হউক নিরাপদ ও আরামদায়ক। 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ২০২১ সনের নভেম্বর মাসে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েলের আমন্ত্রনে ফ্রান্স সফর করেছিলেন। ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া মিতেরা ১৯৯০ সনের ২০-২৪ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েলের বাংলাদেশ সফরটি শুধুমাত্র কূটনৈতিক শিষ্টাচার পালনের একটি ফিরতি সফরই ছিল না, এই সফরটি ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক ভূ-রাজনীতিতে, ফ্রান্সের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচ্য ছিল। কারণ ফ্রান্স বর্তমান ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ সমূহের সাথে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করনের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে একটি অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে আকৃষ্ট করতে চায় ফ্রান্স, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অব¯’ানগত প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে। নিদর্শন স্বরূপ বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক একটি ভৌগলিক সারগর্ভের উত্থানে পরিনত হ”েছ, যেমন দুদেশের মধ্যকার বানিজ্য বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় তিন বিলিয়ন ইউরোতে 

পরিনত হয়েছে। চলতি বৎসরের জুলাই প্রথম দিকে ফরাসী নৌ-বাহিনী একটি শুভেচ্ছা সফরে এসে, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সাথে একটি যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ গ্রহণ করেছিল। ঢাকাস্থ ফরাসি রাষ্ট্রদূত তার দেশের নৌ-বাহিনীর ঐ শুভেচ্ছা সফর ও উপস্থিতিকে গুরুত্ব আরোপ করে বলেছিলেন, “বাংলাদেশে ফরাসী নৌ জাহাজের উপস্থিতি, বাংলাদেশের প্রতি ফ্রান্সের রাজনৈতিক সমর্থনের একটি উৎস্বর্গ মাত্র”। এই সফর বিস্তৃত ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশল উপস্থিতির গুরুত্বকেও স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গী দমনে বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক সদস্য হিসেবে তার সফলতা আজ বিশ্বনন্দিত।

ফরাসী প্রেসিডেন্টের সফরটি ছিল যেমনি বাংলাদেশ ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ, ফ্রান্সের জন্য উক্ত অঞ্চলে তার দেশের প্রভাব ও সম্পর্ককে জোড়দার করার অন্যতম পদক্ষেপ, তেমনি বিশে^র চলমান বিষয় ও উদ্বেগকে মোকাবেলা করন যেমন, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা এবং ফ্রান্সের ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতা সঠিক পথে পরিচালনা করে বর্তমান জটিল অব¯’ানে উদ্বুদ্ধ নিজ দেশের উপস্থিতিকে প্রকাশিত করা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল বেশ ভালভাবেই অবগত ছিলেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের গর্বিত কন্যা শেখ হাছিনা, গোটা বাংলাদেশকে তার হৃদয়ে লালিত দেশ প্রেমিকতা, সততা, সাহসিকতা, প্রজ্ঞা, অদম্য সাহিসকতা ও আপোষহীন গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি উন্নত, জনগণের বান্ধব পরিকল্পনা ও কর্মসূচির ব্যাপক বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে, বিশ্বে একটি উন্নয়ন মডেলের রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করেছেন। ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল সম্পূর্নভাবে নিশ্চিত ও অবগত হয়েই এসেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার সরকার তাহার শক্তিশালী গতিশীল নেতৃত্বে গোটা দেশ ও জাতির ব্যাপক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহিত দেশটি বিশাল বড় বড় মেগা প্রজেক্ট বা প্রকল্প সমূহ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। গোটা বাংলাদেশে অর্থাৎ পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিন যেদিকেই চেখের নজর যায়, সকল দিকেই রয়েছে অপলক নয়নে বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার্রে উন্নয়নের ও অগ্রগতির মোহনীয় হাতের জাদুকর ছোয়ায় আজ গোটা বাংলাদেশ। উন্নয়ন অগ্রগতির এক জাগরণী, বিস্ময়কর সাফল্য অর্জনের চোখ ধাধানো প্রতি”ছবি বিশে^র বিস্ময়কর এসকল অর্জন ও সফলতার কোন তালিকা প্রকাশ করেই নয়, বরং স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অবলোকন করার  আলোড়ন সৃষ্টিকারির এক দারুন জাদুকারির প্রতীক হিসেবে আজ গোটা বাংলাদেশে বিদ্যমান।

দেশ ও জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহিত দশটি মেগা প্রকল্প দেশ ও মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐ সকল বিশাল ব্যায়বহুল প্রকল্পগুলো শেখ হাছিনার সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়নে প্রমান করে, বঙ্গবন্ধু কন্যার দূরদর্শি, বিচক্ষণ, সততা, বুদ্ধিমত্বা ও সাহসিক দেশ প্রেমিকতার মন্ত্রে দিক্ষিত তার শক্তিশালী নেতৃত্বের বর্তমান শান্তি, স্থিতিশীল, উন্নত বাংলাদেশের একজন আধুনিক দেশ উন্নয়নের রূপকারের কর্মযজ্ঞ গোটা বিশ্বকে আজ অবাক করেছে। অনেক উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে হয়তোবা এত সংখ্যক বিশাল 

বিশাল প্রকল্প বা পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নের অর্থের যোগান, পরিবেশ জনগনের জায়গা সম্পত্তি ইত্যাদিসহ অর্থনৈতিক সম্ভাবতা ও কার্যক্ষমতা কৌশল নির্ধারন, গবেষণা ও অধ্যায়ন করতেই হয়তোবা যুগ যুগ অতিক্রম করে সময় চলে যায়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার সকল প্রকারের বাধা বিপত্তিকে মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবাণীতে অত্যন্ত সফলতার সাথে অতিক্রম করে একের পর এক প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ায় দেশ ও জাতির কল্যানে উদ্বোধন করে উৎস্বর্গ করে দিচ্ছেন। যে মহা ১০টি প্রকল্প দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো হল, বৃহৎতম পদ্মা সেতু, এই সেতু নির্মান ও শুরুর প্রাক্কালে দেশ ও বর্তমান সরকার বিরোধী স্ব-শিক্ষিত ও তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিত মতলববাজচক্র, আদা-পানি, লাল পানি, লবন-চিনি খেয়ে পর্দার আড়ালে কাজ করছিল, যেন ব্রীজটি কোন ভাবেই না হয়, কিন্তু শেখ হাসিনার বিচক্ষনতা, দক্ষতা, সহসিকতা, আপোষহীন দেশ প্রেম ও সততার কাছে ঐসকল বদ খারাপ প্রকৃতির ভন্ড প্রতারকদল, দেশ ও জাতির ক্ষতি করনে নির্লজ্জভাবে পরাজয় বরণ করেছে। দেশ ও জাতির বিরোধী সকল পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র অবজ্ঞা করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার ও বাংলাদেশের বাঙ্গালী জাতির আদম্য সাহসিকতা দেশপ্রেম সততা ও আপোষহীন এক গর্বীত ও বিমুগ্ধ প্রতীক “পদ্মা সেতু” এখন একটি আইকন হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় অদম্য ও অনিয়ন্ত্রিত পদ্মা নদীর উপর নির্মিত দৃশ্যমান। এই সেতুটি নির্মান ছিল একটি অবিশ^াস্য, অবাস্তব ও অকল্পনীয় কান্ড। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাছিনা তার সরকার ও জাতি দেশ বিরোধী কিছু অপাংক্তেয়, অপরিনামদর্শী মতলববাজদের সকল অপচেষ্টা ও পরিকল্পনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সম্পূর্ণ নিজ খরচে দেশের দক্ষিন পশ্চিমের ২১টি জেলার জনগন, অর্থনীতি কর্মকান্ডের অভাবনীয় সুযোগ সুবিধার এক মহান দ্বায়িত্ব সম্পন্ন করে, আঞ্চলিক সংযোগ যোগাযোগ বা কানেকটিভিটির একটি ঐতিহাসিক দুঃসাহসিক ও বৈপ্লবিক কর্মকান্ডের বাস্তবায়ন করেছেন। 

অপর বৃহৎ মেগা প্রকল্পসমূহ হল পাবনার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেস সড়ক, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত এশিয়ার সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল, পদ্মাব্রীজ রেল সড়ক যোগাযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস মহাসড়ক, যমুনা নদীর উপর চলমান বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে ব্রীজ নিমান। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়াসরি রেল ব্যব¯’া ও কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন রেলষ্টেশনটি সমূদ্র সৈকতে ভ্রমনে যাওয়া দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য এ বৎসরই খুলে দেওয়া হবে। চট্টগ্রামের দূর্গম পাহাড়ের মধ্য দিয়ে আঁকা-বাঁকা, উঁচু-নিচু পথ অতিক্রম করে নির্মিতব্য এই রেল সড়কটি নির্মানও ছিল অত্যন্ত দূরুহ কর্মযজ্ঞের।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার গোটা পরিবার এর সদস্যরা ছিলেন আপাদমস্তক সৎ, দূনীতিমুক্ত ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কোন সদস্যদের ছিলনা কোন ব্যাংক, বীমা, টাকা-পয়সা, ব্যবসা-বানিজ্য,দেশ বিদেশে গ”িছত কোন অবৈধ ব্যাংক ব্যালেন্স বা একাউন্ট, ব্যাংক, বীমা, পরিবহন, বাড়ী, এপার্টমেন্ট ব্যবস্থার কোন প্রমান বা চিহ্নের অস্তিত্ব।

১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট একদল স্বাধীনতা বিরোধী সন্ত্রাসী ডাকাত ঘাতক খুনীরদল, বঙ্গবন্ধুকে তার গোটা পরিবারসহ হত্যা করার পর ঘাতক খুনী মাফিয়া চক্র কোন প্রকারেই সক্ষম হয় নাই দেশ ও জাতির সম্মুখে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে নূন্যতম একটি দূর্নীতির অভিযোগ প্রমানসহ উপস্থাপন করতে। 

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা ও স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাছিনা তার পিতা মাতা ভাই ভাবিদের হারিয়ে, নিঃসঙ্গ হয়ে দেশ ও জাতির ভাগ্য উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কর্মসূচী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক দ্বায়িত্ব গ্রহন ও সাহসিকতার সাথে আপোষহীন কঠিন সংকল্প হৃদয়ে ধারন করে দেশ ও জাতির অকল্পনীয় অগ্রগতি সাধন করার, বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোন সরকার বা রাষ্ট্রনায়কের অথবা দূরন্ত কোন কান্ডারীর নাম পাওয়া যাবে কিনা, যিনি এভাবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিজের জীবনের নিরাপত্তা, সুখ-স্বাচ্ছন্দকে অবজ্ঞা করে দেশের জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরনে বিশাল অলৌকিক অবদানে উৎস্বর্গ করেছেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার সততা, দেশ প্রেমিকতা, জ্ঞান, নির্লোভ নের্তৃত্বে গোটা বাংলাদেশ আজ বিশ^ দরবারে একটি ¯ি’তিশীল, শান্ত উন্নত উদার মানবিক গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রশংসিত ও গর্বের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। অপরদিকে বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তের উদাহরণস্বরূপ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, লিবিয়া, সুদান, কঙ্গো, মালি ও কতিপয় আফ্রিকান দেশ ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ হাইতিতে জনগনের চরম খাদ্যাভাব, ভঙ্গুঁর আইন-শৃঙ্খলা, ভয়াবহ দূর্যোগ, চরম অর্থনৈতিক নাজুক পরিস্থিতিসহ শাসক, উপশাসকদল গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রনাধীন যুদ্ধে ও সংঘর্ষে জনজীবন এক এক করে শুধুমাত্র ধ্বংশ ও দুঃখ কষ্টের নিরবিচ্ছিন্ন ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। পশ্চিমা বৃহৎ শক্তি সমূহের দীর্ঘদিনের অবৈধ প্রভাব, দল উপদলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ও সংঘর্ষকে প্রতিপালন করে ঐ সকল দেশকে ধ্বংশের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। নেতা ও নেতৃত্বহীন ঐসকল দেশ ও জাতির অস্তিস্ত আজ শংকায় প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ ঐ সকল দেশ সমূহে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ সঠিক ও যোগ্য নেতা ও নেতৃত্বের অভাবে চরম অস্থিতিশীলতা, গনতন্ত্র মানবাধিকার অকার্যকর পরিকল্পনাহীন জঙ্গী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধীনে, চরম অমানবিক কঠোর দরিদ্রতায় জর্জরিত, অশিক্ষা, কু-শিক্ষায় চিকিৎসাহীন এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে প্রতিনিয়তই মৃত্যুবরণ করছে। বিশ্ব মোড়লদের কেহই এখন ঐসকল দেশ ও জাতি সমূহের কথা চিন্তা করে না। কারণ, ঐ সকল মোড়লরাই তাদের স্বার্থ উদ্ধার হওয়ায়  অথবা ষড়যন্ত্র হত্যা অভূত্থান সংগঠিত করে প্রতিটি দেশেই অশান্ত ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নিজেদের জীবন রক্ষার্থে জঙ্গী সন্ত্রাসীদের সাথে আপোষ করে ঐসকল দেশ ত্যাগ করেছে। কিন্তু পাশ্চাত্যের তথাকথিত গণতন্ত্র মানবতা আইনের শাসনের প্রবক্তাগণ, ঐসকল দেশে স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় ঐসকল দেশের জঙ্গী সন্ত্রাসীদের সাথে আতাত ও চুক্তি করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ সমূহের জনগন রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংশ করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করে স্ব স্ব ব্যার্থতা ও চরম 

মানবাধিকার লংঘনের ব্যার্থতা ও কলঙ্কের গ্লানি নিয়ে, স্বীয় দেশ ও বিদেশে স্বরচিত গণতন্ত্র মানবতার বানী প্রচারে হীন উদ্দেশ্য ও মতলবকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ তথা গোটা বিশ্বে ভয়ংকরভাবে অস্থিতিশীল, অশান্ত, জঙ্গী ধংসাত্মক পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বাংলাদেশসহ একটি স্থিতিশীল শান্তদেশে অসৎ উদ্দেশ্য ও মতলববাজি আকাঙ্খা বাস্তবায়নে মত্ত। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন-বৃটিশ ও কতিপয় ইউরোপীয়ন দেশের চরম ব্যার্থতা ও জঙ্গী কার্যক্রমকে আরও শাক্তিশালী করে গোটা আফগানিস্তানকে ধংশ করে গোটা জাতিকে ক্ষূধার্থ, অনাহার, রোগ ব্যাধিতে জর্জরিত করে, ভয়ঙ্কর দুর্ধর্ষ জঙ্গী সন্ত্রাসীদের সাথে আপস চুক্তি করে পলায়ন করার বর্তমান শতাব্দীর নিকৃষ্টতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। 

বাংলাদেশের অজ্ঞ জাতি ও জনগণকে আজ কৃতজ্ঞ উদার চিত্তে স্বীকার করতে হবে যে, বুদ্ধিমত্তা, দেশপ্রেমিকতা, শিক্ষা, জ্ঞান অভিজ্ঞতা ও পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রদর্শিত সৎ ও সততার উজ্জল আদর্শে উদ্ভুদ্ধ হয়ে, গোটা বাংলাদেশ ও জাতিকে পরিচালনার এক দুঃসাহসী কান্ডারীর দায়িত্ব পালন করে আধুনিক বাংলাদেশকে যুগান্তকারী এক সফল রুপান্তরের মহা বিশাল বিশাল প্রকল্প ও পরিকল্পনাকে একের পর এক বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। । ফলে তার বাস্তব সুফল ভোগ করছেন বাংলাদেশের গোটা জনসংখ্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার সরকারের এই বিশাল কৃতসম্পন্ন সাফল্য সুবিধাদি বাংলাদেশ যুগ যুগ ধরে বংশ পর্যায়ক্রমে জনগন ব্যবহার করে, শুধু উপকৃতই হবে। বাংলাদেশে আজ গোটা দেশ ব্যাপী নিরবছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক, মহাসড়ক, এক্সপ্রেস সড়ক জনসাধারনের জন্য বিভিন্ন প্রকারের সামাজিক সরকারি ভাতার ব্যবস্থাকরণ যেমন, ছাত্র বৃত্তি, বিনা পয়সায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই পুস্তক সরবরাহ প্রদানসহ দেশের আপামর জনগনের মৌলিক ব্যবস্থা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা ও তার সরকার। গোটা বিশ^ অবাক তাকিয়ে শুধু, বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চায়, প্রশ্ন করে বাংলাদেশের এই সকল বিস্ময়কর বিমোহিত অবিনশ্বর উন্নয়নের চোঁখ ধাধানো সফলতায় ইর্ষাকাতর ও আগ্রহী হয়ে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনাকে স্বীয়দেশ ও রাষ্ট্রে অবকাঠামো, অর্থনীতি সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতীক হিসেবে গোটা বিশে^ একজন সৎ, সাহসী, শক্তিশালী নেতৃত্বের আপোষহীন নেত্রী হিসেবে সম্মান করে থাকে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, দারিদ্রতা দূরীকরনের একটি বিশেষ মডেল হিসেবে সদা সর্বদা উল্লেখ করে, সুউচ্চারিত হয় শেখ হাছিনার সততা, সাহসিকতা, দেশপ্রেমিকতা ও সদি”ছার বলে বলীয়ান হয়ে, সরকার পরিচালনার মাধ্যমে দেশ উন্নয়নে আদম্য, নিরবিচ্ছিন্ন, নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের কাহিনীর।

সাবেক মার্কিন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী, বাংলাদেশের মহান মুক্তি সংগ্রামের বিরোধীতাকারি হেনরী কিসিঞ্জার কর্তৃক স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সরকার বিরোধী অপপ্রচার মূলক তথাকথিত তলাবিহীন ঝুড়ি আজ সৃষ্টিকর্তার অপার রহমতে পরিপূর্ণ হয়ে, স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করায় কিছু অংশ বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র সমূহেকে বিভিন্নভাবে তাদের আপদকালীন দূর্যোগ ও অর্থনৈতিক দূরবস্থায় সমর্থন ও সাহায্য হিসেবে 

অর্থনৈতিক ও ত্রাণ সাহায্য সামগ্রী প্রদান করে মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত ও নজীর সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা। মার্কিন অপপ্রকৃতিস্ত অচল হেনরী কিসিঞ্জার যদি আজ, বাংলাদেশ ভ্রমন করে শুধু মাত্র দেশের আদম্য পদ্মা নদীর উপর স্বখরচে নির্মিত “পদ্মা সেতুটি” পরিদর্শন করে পদ্মার প্রতিকূল আদম্য পানিতে অবগাহন করে যেতে পারে, তা হলেই তার হৃদয়ে ৭১ এর  লালিত বাংলাদেশ বিরোধী ঈর্ষাপরায়ন হিংসাত্মক বিষাক্ত অভিরুচির মহাপ্রয়ান ঘটাবে। বাংলাদেশের বর্তমান স্থিতিশীল শান্ত, সন্ত্রাস, জঙ্গী বিরোধী বাংলাদেশের জনগন শান্তিপ্রিয়, তারা মনে প্রাণে কামনা করেন, তাদের স্ব স্ব সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যতের একজন সুযোগ্য শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। কোন প্রকার সন্ত্রাসী কার্মকান্ড , অগ্নিসন্ত্রাস, হত্যাকান্ড, ধ্বংশ যজ্ঞে সরকার ও জনসম্পত্তি ধ্বংশ বিনষ্টের বিরুদ্ধে প্রতিহত করার দৃঢ়সংকল্পে আবদ্ধ এবং কোন ভাবেই ২০১৩-১৪ সনের পূণরাবৃত্তি দেখতে চায়না। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন, ঘন্টায়, সপ্তাহে, মাসে ও বৎসরে হাজার হাজার নিরীহ নিরপরাধ মানুষ বিনা বিচারে নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করে থাকে, এমনকি গর্ভবতী মহিলাকে ও গাড়ীতে থাকা অবস্থায় গুলিকরে হত্যা করন অথবা বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে হত্যা করার হুমকি প্রদানের অপরাধে অভিযোগ কোন প্রকারের গ্রেফতার বা আদলতে বিচার না করেই একজন মানসিক প্রতিবন্ধী পঙ্গুত্ব বরণকারিকে তার বাড়ী ঘেরাও করে হত্যা করার কলঙ্কজনক কালো ইতিহাস রয়েছে। সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার সরকার বাংলাদেশকে একটি শান্ত, স্থিতিশীল সন্ত্রাস, জঙ্গী, মাদক বিরোধী মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যব¯’ায় গোটা দেশকে একটি শান্তির নীড় হিসেবে বজায় রাখতে নিরবিচ্ছিছন্নভাবে অটল হয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, মানবাধিকার ঘোষনার সর্বজনীন জাতিসংঘের ঘোষনা মোতাবেক। 

বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দেশের সংবিধানের নির্দেশ মোতাবেক এই আসন্ন নির্বাচনে, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনভুক্ত দল অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। কোন দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহন না করতে চায়, সে বিষয়টি সেসব দল সমূহের ইচ্ছা বা স্বাধীনতা। কিন্তু সংবিধান মোতাবেক নির্বাচনে বাধা প্রদান করে, ২০১৩-২০১৪সনের ন্যায় সন্ত্রাসী ধ্বংশযজ্ঞে লিপ্ত থেকে  দেশের সার্বিক নিরাপত্তা শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে, বিশৃংখলার চেষ্টাকে যেকোন দেশের ন্যায়, বাংলাদেশ সরকারও বদ্ধপরিকর থাকবে, কঠোরভাবে দমন করতে।

বিশে^ চলমান ঈষরসধঃব ঈযধহমব বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এর সাথে মোকাবিলা করার বর্তমান সরকার প্রণীত দূর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতি ঘুর্ণিজলচ্ছাস, সাইক্লোন বা ঝড় তুফানের আক্রমন হতে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে দূর্যোগ মোকাবিলার নীতি ও প্রস্তুতি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গৃহিত পদক্ষেপ জাতিসংঘসহ সর্বত্র প্রশংসিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিনিয়তই ঝড়, বৃষ্টি, বন্যায় শহর, নগর লোকলয়কে প্লাবিত করে, ঘর-বাড়ীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। গত ২০২১-২২সনের কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ আক্রমনে গোটা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে বর্তমান সরকার। করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯), থেকে গোটা বাংলাদেশের জনগনকে রক্ষা করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা করে বিশ^ সারিতে ১২১টি দেশের মধ্যে পঞ্চম, এবং দক্ষিন এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে সর্বোচ্চস্থানে। (সূত্র : (ঘওককঊও ঈঙঠওউঊ-১৯ জঊঈঙঠঊজণ ওঘউঊঢ) এই সফলতার সম্ভব হয়েছিল একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা ও তার সরকারের দূরদর্ষিতামূলক পূর্বপ্রস্তুতি ও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাবলীর কার্যকরন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইতালীসহ বিভিন্ন ইউরোপীয়ান, ধনী অস্ত্র ব্যবসায়ী দেশ সমূহে কয়েক মিলিয়ন বা কয়েক কোটি লোক, একটি সুষ্ঠু কভিড-১৯ মোকাবেলার প্রস্তুতি বা ব্যবস্থাপনা ও ঔষধপত্র চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে, অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। 

বাংলাদেশে রয়েছে মতামত প্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা, দৈনিক প্রায় ২০০ পত্র পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্নজনের লেখা ও সংবাদসহ, ৩৫টি ব্যক্তি মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল নিজস্ব প্রোগ্রামে পরিচালিত হচ্ছে।  প্রতিদিন রাত্র, মধ্যরাত্র, ভোররাত পর্যন্ত বিভিন্নজন সরকার ও বিভিন্ন বিষয় বিভিন্ন মতামত এমনকি মাত্রাতিরিক্ত অবান্তর, আক্রমনাত্মক অশ্লিল কথাবার্তা ও মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছে। কোন টিভি চ্যানেল বা পত্র পত্রিকা বন্ধ করা হয় নাই। এছাড়া প্রতি মূহুর্তে ফেইসবুক, ইউটিউবে বিভিন্ন কূরুচি সম্পন্ন সমাজ বিরোধী দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধীগণ অশ্লীল অশ্রব্য কূরুচি ভাষায় কথাবার্তা ও হুমকি ধমকি প্রদান করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে। ঐ সকল কূচক্রী গোষ্ঠী তাদের কথাবার্তা বাণী ফেইসবুক ও ইউটিউবে নিয়মিত অপপ্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তার বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশের অভ্যন্তরে সমাজবিরোধী ধর্মবিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী, দেশের দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে তৃতীয় শক্তি বা অন্যকোন মোড়লদের বাংলাদেশে অভ্যন্তরীন বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপর সুযোগ প্রদানের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের কথাবার্তা প্রচার এর মূল লক্ষ্য হত্যাকান্ড ঘটিয়ে, জঙ্গী তৎপরতা বৃদ্ধি, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার বিরুদ্ধে গোটা দেশের মানুষকে উস্কিয়ে ও উৎসাহিত করে তুলে, গোটা দেশের শান্ত, ¯ি’তিশীল উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধ্বংশাত্মক পরিস্থিতি ও ঘোলা পানি সৃষ্টি করে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের।

ঐ সকল দেশ ও জাতি ধ্বংশের মতামত ও কথাবর্তা “মতামত প্রকাশ”, বাক্যের নীতি আদর্শের নীতি ও আদর্শের ঘোরতর পরিপš’ী। বিশে^র কোন দেশের সরকারই কোন প্রকার রাষ্ট্র বিরোধী, দেশ ও স্বাধীনতা সমাজ বিরোধী প্রচারনা বা উস্কানিমূলক ধ্বংশাত্মক জঙ্গী মতামতকে কঠোরভাবে নিস্ক্রিয় না করে নিরবতা পালন করে না। বাংলাদেশে জনৈক মতলববাজ আদিলুর রহমান ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দন্ড ছিল যথাযথ ও প্রয়োজনীয়, তাহার পক্ষে ওকালতি কথাবার্তা বক্তব্য অর্বাচিন। 

কারণ তার একটি ভূয়া, ভিত্তিহীন, উস্কানীমূলক প্রচারনা ২০১৩ সনের সংগঠিত ভয়াবহ ধর্মীয় ধ্বংশাত্মক ধ্বংশযজ্ঞ শুরু করার নিমিত্তে সরকার বিরোধী প্রচারনার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত ছিল। অষ্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক ও উইকিলিংক্সের প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরাক আফগানিস্তান ও বিশে^র বিভিন্ন দেশে মানবতা বিরোধী অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্যাদি প্রকাশ করার অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে, বৃটেনের কারাগারের অন্ধ, নিঃস্বঙ্গ প্রকোষ্ট থেকে যেকোন ভাবেই যুক্তরাষ্টের মাটিতে আনায়ন বা প্রত্যর্পন করে মৃত্যুদন্ড প্রদানের আইনী লড়াইতে জুলিয়ানের আইনী টিম, বৃটিশ সরকারের সাথে এক মরণপণ কঠিন যুদ্ধে লিপ্ত। জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জের আইনি টিম, তাকে মার্কিন আদালতে কঠোর সাজার রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হবে কিনা, বিষয়টি একমাত্র কথাবলার অবাধ স্বাধীনতার ভন্ড মতলববাজরাই ভাল সঙ্গা প্রদান করবে। একই অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক সদস্য, চেলসি ম্যানিংকে সাজার সময় কমিয়ে দিয়েছিলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব থেকেই একদল মার্কিন-ইউরোপিয়ান মানবতাবাদি, নিরপেক্ষতা, স্বাধীন মতামত প্রচারনার মহান নিবেদিত উৎস্বর্গকৃত প্রজ্ঞা সম্পন্ন যাজক প্রায়শই বাংলাদেশে একই ভাঙ্গা রেকর্ড, তজবী তাবিজে সজ্জিত হয়ে বাংলাদেশে আগমন করে বিএনপি, জামাতসহ কিছু সংখ্যক বর্তমান সরকার বিরোধীদের সাথে দহরম মহরমে মত্ত হয়ে, বিভিন্ন প্রকারের নসিহত ও কূ-পরামর্শ বা সু-পরামর্শ প্রদানের হিযরতি সফরে ঘনঘন আসা যাওয়া করছেন। পর্দার অন্তরালে তাদের সরকারের মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনাকে যেকোন পন্থায়ই হউক না কেন, ক্ষমতা থেকে সরানো। দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত ভূ অব¯’ান অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, বৃহৎ শক্তি বিশেষকরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চীন-রাশিয়া বিরোধী একটি শক্তিশালী অব¯’ান সৃষ্টি করতে বাংলাদেশকে তার মজবুত ঘাটিতে পরিনত করতে চায়, যা বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ব্যবহার করে সম্ভব হবে না বিধায়, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার আরও বিভিন্ন ধূয়া ও মন্ত্রের দাওয়াই দিয়ে গোটা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে “শাসন পরিবর্তন করার পায়তারায় লিপ্ত, যেমনটি করেছে ইরাক, পাকিস্তান, লিবিয়ায়। ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাঁস এখন বিএনপি নেতাদের নিকট এক ভয়ঙ্কর দেবতাতুল অবতার, ৭৫এর ঢাকা¯’ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড বোষ্টারের ন্যায় একই ভয়ঙ্কর ভূমিকায় কাজ করছে। তাকে সহায়তা করে যা”েছ স্বাধীনতা বিরোধী, বিএনপি-জামাত, ৭১-৭৫-২০০৪ সনের পলাতক ফেরারী ঘাতক ও রাজনৈতিক নামধারী গণতন্ত্রের তথাকথিত নব্য মুখোশধারী ধর্ম ব্যবসায়ী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী একটি অসুর মাফিয়া সিন্ডিকেট দেশ ধ্বংশকারী ভয়ঙ্কও চক্র।

বাংলাদেশে সফরকারি মার্কিন-ইউরোপিয়ানদের কিছু কিছু দেশের রয়েছে দেশ-বিদেশে মানবাধিকার ধ্বংশ-ভঙ্গের জঙ্গী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কলঙ্কজনিত ঘটনার ভয়ঙ্কর ইতিহাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 

১১

রয়েছে চলমান, বর্তমান ও সাবেক দুই মহা পন্ডিতদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন যুদ্ধে লিপ্ত থাকার। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ প্রতিনিয়তই আদালতে হাজিরা দিয়ে জবাবদিহি দিচ্ছেন। ঐ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দূর্নীতি ও চরিত্রে কালিমাযুক্ত হওয়ার অভিযোগে। প্রথম অভিযোগ- এক সাবেক যৌন কর্মীকে প্রচুর টাকার মাধ্যমে মুখে কুলুপ দিয়ে তার অপকর্মের প্রচার বন্ধ করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছেÑ ২০২০ সনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষে নির্বাচনের ফলাফলের পরিবর্তন করার লক্ষ্যে কংগ্রেস ভবনে (ক্যাপিটলহিল) ভয়াবহ সন্ত্রাসী দাঙ্গা হাঙ্গামার নির্দেশ প্রদান। তৃতীয় অভিযোগ- হোয়াইট হাউজের অত্যন্ত রাষ্ট্রীয় গোপনীয় মূল্যবান নথীর অপব্যবহার ও পাচারের। এটা ছাড়া অপর অসংখ্য অভিযোগের তদন্তের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে হাজির হওয়ায় ট্রাম্প আজ হয়রান ও দিশেহারা। 

বর্তমান ভারসাম্যহীন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১৭সনে ব্যাপকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে বাইডেনের পারিবারিক ব্যাংক একাউন্টে ২০ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন শেল তৈল কোম্পানীর তরফ থেকে জমাসহ ১৫০টি অর্থ আদান প্রদান করা হয় বাইডেন পরিবারের ব্যবসায়িক কোম্পানীতে। ৬০ শতাংশ আমেরিকানদের মতামত, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সুযোগ্য আদরের পুত্র হান্টার বাইডেন এর ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তিতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট যো বাইডেন জড়িত। বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার ছেলে হান্টার বাইডেনের সাথে বিদেশী, বিশেষ করে চীন, ইউক্রেন ও রোমানিয়ার সাথে ব্যবসায় লাভবান হয়েছেন। 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর দেশ সমূহের সদস্যভুক্ত কিছু দেশের সদস্যরাও প্রায়শই বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবতার একই ভাঙ্গা রেকর্ড সম্বলিত অপাঠ্য, অপার্থিব মতামত, স্বরচিত শংকা, আশংকা ও নির্বাচন সংক্রান্ত অভিভাবক ও অভিভাবিকার ন্যায় অথবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীন কালের এক ধরনের শিক্ষক শিক্ষিকার ভীতিকর ও চোঁখ রাঙ্গানো আচরনের একটি ক্রমাগত অহরহ মানষিক চাপ ও অমর্যাদাকর অবৈধ অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপ যেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের উপর নির্লজ্জ্য হস্তক্ষেপের সামিল। অথচ ঐ সকল ইউরোপিয়ান দেশ সমুহের বিরুদ্ধে রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী আফ্রিকানদের উপর জুলুম, নির্মম অত্যাচার ও নৃশংসভাবে হত্যার এক ভয়াবহ কলঙ্কিত ইতিহাস। বৃটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্কের বিরুদ্ধে, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ সমূহ যেমন, এন্টিগুয়া, বারমুডা, বাহামাস, বারবাডস, কিউবা, ডমিনিকা ও ডমিনিকা রিপাবলিকানসহ প্রায় ১৩টি দেশে কাল আফ্রিকান ১৯ মিলিয়ন মানুষদের দাস বা দাসত্বের শিকলে আবদ্ধ রেখে হত্যা করার বিরুদ্ধে, ক্যারিবিয়ান দেশ সমূহের জনকল্যাণমূলক আইনী সং¯’া ঈঅজওঈঙগ কর্তৃক দায়েরকৃত অভিযোগ মামলায় ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার সমান অর্থ ক্ষতিপূরন হিসেবে দাবি করেছে আদালতে।

বাংলাদেশে জামাত, বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী বঙ্গবন্ধু, জেলহত্যা, আগষ্ট গ্রেনেড হত্যাকান্ড ও ২০১২-২০১৩সনের পেট্রোল বোমা ব্যবহার করে, মানুষ হত্যাকারী জঙ্গী সন্ত্রাসীচক্র বাংলাদেশের পরবর্তী 

১২

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, বিদেশী মদদপ্রাপ্ত অবৈধ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার নীল নক্সা মোতাবেক দেশে আবারও সন্ত্রাসী জঙ্গী কার্যকলাপ চালিয়ে বাংলাদেশের শান্ত স্থিতিশীল উন্নয়নগামী সচল অবস্থাকে অচল ও ধ্বংশ করার চক্রে লিপ্ত। বাংলাদেশর শান্তি-শৃঙ্খলা পরায়ন জনগন ঐক্যবদ্ধ হয়ে চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রকারী দেশী-বিদেশীদের যেকোন ষড়যন্ত্র, নীলনকশাকে নস্যাৎ করে দেশ, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে অনুসরন করে পরবর্তী নির্বাচনে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহন করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলকে আবারও নির্বাচিত করে, গোটা বাংলাদেশকে গোটা বিশ্বের নিকট একটি শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নতি, উন্নয়নের সততা ও মানবতার জলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করে, বাংলাদেশকে সর্ব সফলতার উচ্চ শিখরের আসনে প্রতিষ্ঠিত করবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষের কোটি কোটি জনতা, রাজনৈতিক দল, দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থকদের নির্বাচনের পূর্বে শক্তিশালী মজবুত অভেদ্য ঐক্যবদ্ধ ’৭১ এর ন্যায় একটি দূর্গ হয়ে কাজ করতে হবে। দলীয় মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেকোন প্রতিযোগীতা, অবজ্ঞার পরিস্থিতি সৃষ্টিকারিদের ভয়ঙ্কর ও কঠোর ভাবে মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে জনগনকে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটিগুলোকে দিনরাত স্ব স্ব এলাকায় অবস্থান করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন দেশ সমূহকে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে অযাচিত অনৈতিক, অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে শান্ত, স্থিতিশীল উন্নয়নের গতিপথকে বন্ধ করে একটি অস্থিতিশীল অশান্ত ও চরম বিশৃংখলা সৃষ্টি করার হীন কার্যকলাপে লিপ্ত না থেকে, বর্তমান ইসরাইল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ ও আরও ভয়াবহ ধ্বংশ ও হত্যাকান্ড রোধে এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার একটি মহা প্রয়াস নিয়ে বিশ^ সম্প্রদায়কে  সঙ্গে নিয়ে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করার কাজে স্ব স্ব মার্কিন-ইউরোপিয়ানদের এখন প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকা উচিত। অন্যথায় ইসরাইল-প্যালেস্টাইন, রাশিয়া-ইউক্রেনের এই চলমান যুদ্ধ সংঘর্ষে যদি বিশ্বে একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হয়, তার দায়ভার সকল কিছুই এই তথাকথিত ভন্ড গণতন্ত্র, মানবাধিকারের লেবাসধারীদের বহন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, স্থিতিশিলতা নষ্টকারী প্যালেস্টাইনদের ভূমি, আবাসস্থল দখলকারী ইসরাইল ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত ইউক্রেনকে মার্কিন-ইউরোপিয়ান রাষ্ট্র সমূহ কর্তৃক বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ, অস্ত্র, গোলাবারুদ প্রদান না করে, যতদ্রুত সম্ভব, ঐ অঞ্চল সমূহে যুদ্ধ বিরতির ব্যবস্থা করে মানুষ, মানবাধিকার রক্ষার্থে ও একই ভয়াবহ পারমানবিক যুদ্ধ পরিহার করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহন করে, বিশ্বকে একটি ধ্বংশাত্মক পরিনতির দিকে না নিয়ে, প্যালেস্টাইন গাজার পশ্চিম তীরের প্যালেস্টাইন জনগনের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ব্যবস্থা সৃষ্টি করাই হবে, এখন পশ্চিমের মানবাধিকার, গণতন্ত্রের ভূয়া লেবাসধারী, প্রচারদের একটি মাত্র মহৎ কাজ ও উদ্দেশ্য।

তাদের জন্য এখন উৎকৃষ্ট সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন শান্তি, স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অসৎ চেষ্টায় অযথা লিপ্ত না হওয়ার পরিবর্তে, নিজেদের চরকায় তেল দিয়ে নিজেদের আগে ঘর সামলানো ও বিশে^ শান্তি, মানবতা ও যুদ্ধ সংঘর্ষের চীর অবসানের লক্ষ্যে, একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার।


লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কলামিস্ট

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । সম্পাদক: 01703-137775 । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.