× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

উৎসবে আনন্দে আর সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু নয়

সম্পাদকীয়

০৯ মে ২০২২, ১৮:৩১ পিএম । আপডেটঃ ০৯ মে ২০২২, ১৮:৩২ পিএম

প্রতীকী ছবি

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে উদযাপন করার জন্য আপনজনদের কাছে ছুটে গেলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে ১ থেকে ৫ মে পর্যন্ত পাঁচ দিনে ১১২টি সড়ক দুর্ঘটায় ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জনই মোটরসাইকেল আরোহী।

২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ১৭৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের। এদিকে গত ৭ মে নাটোরের বড়াই গ্রামের বনপাড়ার মহিষভাঙ্গা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরো ৭ জনের প্রানহানী ঘটেছে। ওই দিন বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ঢাকাসহ আরো ছ’জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে আরো ৬ জনের। এ নিয়ে চলতি ঈদ যাত্রায় গত ২৯ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ৯০ জন প্রান হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘনায়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘনায় প্রতিদিন ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যা মার্চের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৭৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এপ্রিলে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মোট ৫৪৩ জন। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ২০৬ জন। অর্থাৎ এপ্রিলে মোট দুর্ঘটনায় ৪৪ দশমিক ২৬শতাংশ মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায়। এ বছর এপ্রিল মাসে দেশে ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৫৪৩ জন নিহত হওয়া ছাড়াও আহত হয়েছেন ৬১২ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৭ ও শিশু ৮১ জন। মোট নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। এছাড়াও পথচারী নিহত হয়েছেন ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

আসলে কিশোর যুবক চালকদের বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালানো এবং অদক্ষতার কারণে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে। সেই সাথে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং চালকদের অদক্ষতা, অস্থিরতার কারনেও সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের ট্রাফিক আইন না জানা, আইন মানতে অনিহা দেখা দিলেও সংশ্লিষ্টদের নজরদারিতে শিথিলতা রয়েছে।

অন্যদিকে হাইওয়েতে চাঁদাবাজীর কবল থেকে বেপরোয়া গাড়ি চালানোও দুর্ঘটনার অন্যান্য কারনের মধ্যে একটি। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ কম হয় নি। কিন্তু দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সড়কে মৃত্যুর মিছিলও থামানো যায়নি। এখন আর তাত্বিক আলোচনা নয় কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। অসময়ে ঝরে যাওয়া প্রান বাঁচাতে হবে।

এজন্য সড়ক পরিবহন আইন -২০১৮ সুষ্ঠভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সাথে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। গন পরিবহন উন্নত করতে হবে। সড়ক, মহাসড়কে সড়ক বিভাজন নির্মাণ করতে হবে এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতা বড়াতে হবে।

দুর্ঘটনা হয়তো পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না তবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগের ফলে। আমরা আর সড়কে প্রানহানি চাই না। উৎসবে আনন্দে সবাই নিরাপদে আপন জনের কাছে যাবে আবার উৎসব শেষে নিরাপদে কর্মক্ষেত্রে ফিরবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.