× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্রাস পাচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থী

‎হ্লাথোয়াইছা চাক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

২২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩০ পিএম

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেখা যাচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে পিছিয়ে পড়ছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

‎ক্যাম্পাসে মানসম্মত আবাসনের ঘাটতি, প্রশাসনিক ভর্তি প্রক্রিয়ায় নানাবিধ জটিলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ধারাবাহিকভাবে কমছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমনকি সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

‎বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক সেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে স্নাতক পর্যায়ে তিনজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ফার্মাসি বিভাগে দুজন এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে একজন ছিলেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। এরপর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

‎পরবর্তী দুই শিক্ষাবর্ষে অবশ্য বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে আটজন বিদেশি শিক্ষার্থী স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। তাঁদের সবাই ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে ভর্তি হন। এরপরের শিক্ষাবর্ষে, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে। তাঁদের মধ্যে একজন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এবং বাকি আটজন ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে ভর্তি হন।

‎এরপর আবারও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমে যায়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। তিনি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

‎বর্তমানে রাবিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৬ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন (জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগে ২, ভেটেরিনারিতে ৩ এবং কেমিস্ট্রিতে ১ জন)। এছাড়া এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে সোমালিয়া ও ভারতের ৬ জন গবেষক অর্থনীতি, ফোকলোর, ইতিহাস ও আরবি বিভাগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‎ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমার পেছনে মূলত সুযোগ-সুবিধার অভাব ও জটিল প্রক্রিয়াকে দায়ী করছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। নেপাল থেকে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে পর্যাপ্ত সুবিধা নেই।

‎ফলে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে অনেকে ভর্তি হয়েও ফিরে যান। এর পাশাপাশি ভিসা পাওয়ার জটিলতা এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের অভাবকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‎ভর্তি সংক্রান্ত কাগজের জটিলতা ব্যাখ্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জানান, বিদেশি আবেদনকারীদের সনদের স্পষ্টতা না থাকা একটি বড় সমস্যা। কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইংরেজিতে অনুবাদ করে পাঠালে যাচাই সহজ হয়।

‎তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার্থীদের মতো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় না; বরং ফ্যাকাল্টিভিত্তিক নির্দিষ্ট গাইডলাইন পূরণ সাপেক্ষে বিভাগ গ্রহণ করলেই ভর্তি নেয়া হয়।

‎তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকেই বাধা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে আগে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থী না থাকার পেছনে মূলত মাঝখানের সময়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি দায়ী। বিশেষ করে আন্দোলনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে তখন অনেক শিক্ষার্থী হয়তো এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়নি বা ভর্তিপ্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, বিষয়টি প্রশাসনেরও নজরে রয়েছে। একাডেমিক প্রশাসন এ বিষয়ে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করছে এবং কীভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবারও আকৃষ্ট করা যায়, সে বিষয়টি একাডেমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’ 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.