নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ সাংবাদিকতায় জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব ও পরিবর্তনশীল ভূমিকা নিয়ে একটি ওয়েবিনার আয়োজন করেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিভাগের এমসিজে রিসার্চ টক সিরিজের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
“হাউ জেনারেটিভ এআই ইজ শেপিং জার্নালিজম: দ্য প্যারাডক্সেস অব এফিশিয়েন্সি, প্রফেশনাল আইডেন্টিটি অ্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি” শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেন চীনের সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনের সহযোগী অধ্যাপক ড. শুয়েচিং (আইভরি) লি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনএসইউর মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সৌমিক পাল।
অধ্যাপক শুয়েচিং (আইভরি) লি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক সংবাদকক্ষে কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। কম্পিউটারনির্ভর সংবাদ সংগ্রহ থেকে জেনারেটিভ এআই ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এআই সংবাদকক্ষের কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারে। তবে মূল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে পাঠক কমে যাওয়া, স্থানীয় ভাষায় এআইয়ের সীমাবদ্ধতা, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্যের সত্যতা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি তথ্য, সূত্র ও প্রেক্ষাপট সাংবাদিকদের যাচাই করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সাংবাদিকতায় মানুষের বিচারবোধ ও সম্পাদনার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “অগ্রগতির বিচার শুধু গতি ও উৎপাদনের ভিত্তিতে নয়, সাংবাদিকতার মান ও জনস্বার্থের ভিত্তিতেও হওয়া উচিত।”
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এনএসইউ’র স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এআই কীভাবে শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত কাজের ধরন পরিবর্তন করছে, সে বিষয়ে ভাবার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
এনএসইউর মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. হারিছুর রহমান বক্তাকে ধন্যবাদ জানান। পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম পরিবেশে পেশাজীবন শুরু করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাভিত্তিক এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে এআই ও সাংবাদিকতা বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও একাডেমিক বিনিময় ও যৌথ গবেষণার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।