ছবি: সংগৃহীত।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শুরু হচ্ছে আজ (১ নভেম্বর)। আগ্রহী পরীক্ষার্থীরা আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে উত্তরপত্র যাচাই ও নম্বর সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এ কার্যক্রমের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে আবেদনসংক্রান্ত ডাটা সংগ্রহ করা হবে। পরদিন ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সেল থেকে উত্তরপত্রের তথ্য ও বিষয়ভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে।
পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৯ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে। এরপর ১৩ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষকদের ব্রিফিংয়ের পাশাপাশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলবে। পরীক্ষকদের স্বাক্ষর করা বিবরণী ও উত্তরপত্র কম্পিউটার সেলে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর।
পরবর্তী ধাপে ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত কম্পিউটার সেলে পরিবর্তিত নম্বর এন্ট্রি ও উত্তরপত্রের লিথোকোড যাচাই করা হবে। এরপর ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত পরিবর্তিত উত্তরপত্রের চূড়ান্ত যাচাই সম্পন্ন হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৭ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
এদিকে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সাপ্লিমেন্টারি বা মানোন্নয়ন পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টিও কর্মপরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ৩ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত এ পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং ১ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলবে। প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষার ফল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বোর্ডের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যমান বিধিমালায় এ ধরনের পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পরই পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, গতকাল (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
ফলাফলে পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্ররা। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রীরা ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছেন ৬৪২ জন।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা বোর্ডে, ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার বরিশাল বোর্ডে, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
