সময়ের মেধাবী ফ্যাশন ডিজাইনার সময় খান। মিডিয়া পাড়ায় যিনি মাসুদ রানা নামে পরিচিত। নিজ মেধা যোগ্যতা এবং অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে এই সময়ের মধ্যে নিজের কাজের আলাদা একটা পরিচিতি তৈরি করেছেন। দেশের ফ্যাশন জগতে সংশ্লিষ্টদের কাছে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন।
তরণ ফ্যাশন ডিজাইনার সময় খান। রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় জন্ম সময় খানের। মতিঝিল মডেল হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন । সময় খানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।
তিনি জানান, শুধু ফ্যাশন নয়, মতিঝিল থিয়েটারের মাধ্যমে তিনি অভিনয়চর্চার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। প্রায় তিন দশক ধরে শখের বসে অভিনয় শেখার পাশাপাশি তিনি কিছু সিনেমা, টিভিসি এবং নাটকেও কাজ করেছেন। তবে এসব কিছুকে কখনোই তিনি পেশা হিসেবে পুরোপুরি গ্রহণ করেননি, বরং নিজের আগ্রহ ও ভালো লাগা থেকেই এগিয়ে গেছেন আরেক জগতে আর সেটা হলো ফ্যাশন।

সময় খান জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের কাজের শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার ডিজাইন করা পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও টপস নিয়ে শুরুটা ছিল মেলা কেন্দ্রিক অংশগ্রহণ দিয়ে। হাতে তৈরি কাজ নিয়ে স্টল সাজিয়ে মেলায় অংশ নেওয়াই ছিল তাঁর প্রথম পরিচয় গড়ে ওঠার পথ।
শুরুর সেই যাত্রা সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয় আরও বড় পরিসরে। এক পর্যায়ে তিনি মুভি, টিভিসি ও মিউজিক ভিডিওর কস্টিউম ডিজাইনে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শীর্ষ ফ্যাশন হাউজ ও ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত হন, যেখানে তাঁর সৃজনশীলতা আরও বিকশিত হয়।
নিজের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রচার বা নিজেকে বড় করে দেখানোর প্রবণতা তাঁর নেই। বরং আড়ালে থেকে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। জীবনের পথে বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তাঁর, যাদের কাছ থেকে ভালো-মন্দ দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই শিখেছেন। তাঁর ভাষায়, ভালো মানুষের কাছ থেকে ভালো কিছু আর খারাপ অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেওয়াই তাঁর জীবনের অংশ।
মানুষের কাছ থেকে তাঁর কোনো প্রত্যাশা নেই বলেও জানান সময় খান। তবে সুন্দর ব্যবহার বা মিষ্টি হাসিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে।
মিডিয়াপাড়ার অনেক তারকার সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ, চিত্রনায়িকা শাবনুর এবং বিপাশাসহ অনেকের সঙ্গেই তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি। সবাইকে তিনি বন্ধু, ভাই-বোন হিসেবে দেখেন এবং আন্তরিকভাবে ভালোবাসেন। মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং তাদের সহযোগিতা নিয়ে সময় খান এগিয়ে যাবেন তার ক্যারিয়ারের অভিষ্ট গন্তব্যে। এমনটাই প্রত্যাশা শুভাকাঙ্খিদের। তার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।