ছবি: সংগৃহীত।
এক চিলতে মুক্তোঝরা হাসি নিমেষেই বদলে দিতে পারে মানুষের ব্যক্তিত্ব। প্রবাদেই আছে, ‘ফার্স্ট ইমপ্রেশন ইজ দ্য লাস্ট ইমপ্রেশন’। কারো সাথে প্রথম দেখায় আপনার পোশাকের পাশাপাশি যা সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে, তা হলো আপনার মুখের হাসি। কিন্তু সুন্দর সেই হাসিতে যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায় দাঁতের অনাকাঙ্ক্ষিত হলদে বা কালচে ছোপ, তবে পুরোপুরি ম্লান হয়ে যায় পুরো রূপটাই! অতিরিক্ত চা-কফি পান, ধূমপান কিংবা নিয়মিত সঠিক যত্নের অভাবে দাঁতে এমন দাগ পড়তে পারে। দাঁতের উপরিভাগের এনামেল অক্ষত রেখে কীভাবে ঘরে বসেই এই সমস্যার সমাধান করবেন এবং পেতে পারেন আকর্ষণীয় হাসি, তা নিয়েই নিচে সহজ ও কার্যকরী গাইডলাইন দেওয়া হলো—
নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্রাশ করা: দাঁতের যত্ন নেওয়ার প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো প্রতিদিন অন্তত দু’বার নিয়ম করে ব্রাশ করা। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করে দিনে দুই মিনিট সময় নিয়ে ব্রাশ করতে হবে। খেয়াল রাখবেন, খুব জোরে ঘষে ব্রাশ করা যাবে না; এতে দাঁতের ক্ষতি হয়। তাই নরম ব্রিসলের (Soft bristle) ব্রাশ ব্যবহার করাই সবচেয়ে উত্তম। এর পাশাপাশি নিয়মিত জিভ পরিষ্কার করাও অত্যন্ত জরুরি।
ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা: শুধু ব্রাশ করলেই দাঁত শতভাগ পরিষ্কার হয় না। দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক ও খাবারের সূক্ষ্ম কণা সরাতে প্রতিদিন ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা উচিত। এটি দাঁতের ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করে দাগ পড়া আটকায় এবং মাড়ির স্বাস্থ্য উন্নত করে।
চা-কফির পর কুলকুচি করা: চা, কফি, কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত গাঢ় রঙের খাবার দাঁতে স্থায়ী দাগ সৃষ্টি করে। তাই এগুলো খাওয়ার পরপরই সাধারণ পানি দিয়ে ভালো করে মুখ কুলকুচি করে নেওয়া জরুরি। তবে এসব পানীয় অতিরিক্ত গ্রহণ করা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর।
কাঁচা ফল ও সবজি চিবিয়ে খাওয়া: আপেল, গাজর বা শসার মতো শক্ত ও তাজা ফল-সবজি চিবিয়ে খেলে মুখে প্রচুর লালা (Saliva) তৈরি হয়। এই লালা মুখের ভেতরের পরিবেশ স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এটি দাঁত ও মাড়ি মজবুত করে এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
ক্ষতিকর টোটকা এড়িয়ে চলা: দ্রুত দাঁত ফর্সা করার লোভে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ভুল পরামর্শ— যেমন লেবুর রস, ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে দাঁত ঘষা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন। এসব অ্যাসিডিক ও খসখসে উপাদান দাঁতের বাইরের সুরক্ষাকবচ ‘এনামেল’ ক্ষয় করে ফেলে। এর ফলে দাঁতে মারাত্মক শিহরণ বা সেনসিটিভিটি বাড়ে এবং অল্প বয়সেই দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে।
উপরে উল্লিখিত প্রাকৃতিক নিয়ম ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো মেনে চলার পরও যদি দাঁতের হলদে ভাব না যায়, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে হয়তো শরীরের ভেতরের কোনো জটিল কারণ বা ডেন্টাল সমস্যা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে দেরি না করে অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকের (Dentist) পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
