ছবি: সংগৃহীত।
‘হুই প্রোটিন’ কি শুধু শরীর বড় করার জন্য পুরুষদেরই? এমন প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। এই ধারণা আসলে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা, যার কারণে অনেক নারী প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ‘হুই প্রোটিন’ (দুধ থেকে তৈরি এক ধরণের উচ্চমানের প্রাকৃতিক প্রোটিন) থেকে দূরে থাকেন।
বিজ্ঞান যা বলে এবং প্রচলিত ধারণা যা বোঝায়, তার এই পার্থক্য নারীদের ব্যায়াম, পুনরুদ্ধার এবং শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
প্রতিদিন দুটি ডিম খেলেই কি যথেষ্ট প্রোটিন পাওয়া যায়?
প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা বোঝার ক্ষেত্রে প্রথমেই শরীরবৃত্তীয় বিষয়টি জানা জরুরি। প্রোটিন নারী-পুরুষভেদে আলাদা কোনো পুষ্টি উপাদান নয়। লিঙ্গ নির্বিশেষে মানবদেহের প্রতিটি কোষ টিস্যু মেরামত, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোন তৈরি এবং পেশির গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে।
নিউট্রিশন ও আয়রন বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তায় নয়; বরং শরীরের ওজন ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে। নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে ব্যায়াম করা নারী-পুরুষ উভয়েরই সাধারণত শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ দশমিক ২ থেকে ২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে। কাজ, পরিবার ও অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যায়াম করা নারীরা শুধু খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিন এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক সময় ব্যর্থ হন।
নারীদের পেশি কি অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়?
‘হুই প্রোটিন’ নিয়ে নারীদের অন্যতম ভয় হলো এটি খেলে শরীর অতিরিক্ত পেশিবহুল বা ভারী হয়ে যাবে। তবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পেশি বৃদ্ধির পেছনে টেস্টোস্টেরনের বড় ভূমিকা রয়েছে এবং নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই এই হরমোনের পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় অনেক কম।
চিকিৎসকদের ভাষায়, ‘হুই প্রোটিনের’ শেক পান করলেই শরীরে পেশি বড় করার কোনো প্রক্রিয়া হঠাৎ শুরু হয়ে যায় না। বরং এটি শরীরকে ইতোমধ্যে থাকা পেশি মেরামত ও ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে।
পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে নারীরা ব্যায়ামের পর দ্রুত পুনরুদ্ধার, তুলনামূলক স্থিতিশীল শক্তি এবং ওজন কমানোর সময় পেশি ধরে রাখার সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে শরীরের চর্বি কমানোর সময় শুধু চর্বি নয়, পেশিও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন এই সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
খাবারের বদলে ‘হুই’ কেন?
‘হুই প্রোটিন’ ব্যস্ত জীবনে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণের একটি সহজ উপায়। হুই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোটিন, যাতে নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডই রয়েছে। এটি শরীর সহজে ব্যবহার করতে পারে এবং দ্রুত হজম হয়। ব্যায়ামের পরের সময়ে এটি সুবিধাজনক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, সকাল ৮টার আগে ব্যায়াম করে কাজে যেতে হয়, দুপুরের খাবার কর্মস্থলে বসে খেতে হয় এবং সন্ধ্যায় পরিবারের জন্য রান্না করতে হয়—এমন নারীদের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ হুই প্রোটিন প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কার্যকর হতে পারে।
তবে খাবারই হওয়া উচিত প্রোটিনের প্রধান উৎস। সাপ্লিমেন্টের কাজ হলো খাবারের ঘাটতি পূরণ করা, নিয়মিত খাবারের বিকল্প হওয়া নয়।
দুধ সহ্য না হলে কী করবেন?
‘হুই প্রোটিন’ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা অন্যতম। যাদের দুধজাত খাবার হজমে সমস্যা হয়, তারা চাইলে মটরশুঁটি বা সয়া থেকে তৈরি প্ল্যান্ট-বেসড প্রোটিন ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোও প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ও হজমযোগ্যতার দিক থেকে কার্যকর বিকল্প হতে পারে। অর্থাৎ এসব বিষয় নারী-পুরুষভেদে নয়, বরং ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন ও সহনশীলতার ওপর নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞের মতে, প্রোটিনের প্রয়োজন নির্ধারিত হওয়া উচিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, লক্ষ্য এবং শরীরের গঠনের ভিত্তিতে; কে ব্যায়াম বা ভারোত্তোলন করবেন, তা নিয়ে পুরোনো ধারণার ভিত্তিতে নয়। তাই হুই প্রোটিন শুধু পুরুষদের জন্য—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে প্রয়োজন অনুযায়ী এর ব্যবহার বিবেচনা করা উচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
