বাইরে থেকে ঘেমে ঘরে ফিরেই ফ্রিজ খুলে এক ঢোক বরফ ঠান্ডা পানি না খেলে অনেকেরই শান্তি হয় না। গলা ভিজিয়ে স্বস্তি পাওয়ার এই অভ্যাস কমবেশি আমাদের সবারই আছে। তবে এর পাশাপাশি এই বরফ ঠান্ডা পানি খাওয়া নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই জল্পনা—ঠান্ডা পানি খেলে কি আদৌ ওজন বাড়ে?
চলুন জেনে নেওয়া যাক পুষ্টিবিদরা এ বিষয়ে কী বলছেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, ঠান্ডা বা গরম পানির সঙ্গে ওজন বাড়া বা কমার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে, শুধু গরম পানি খেলেই হু হু করে মেদ ঝরে যাবে—এই ধারণাও পুরোপুরি ভুল।
আসলে ওজন পানির তাপমাত্রার জন্য বাড়ে না, বরং কম পানি পানের কারণে বাড়ে।
শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে বিপাকহার বা মেটাবলিজম কমে যায় এবং হজমে সমস্যা দেখা দেয়। আর এই দুইয়ের ফলেই ওজন বাড়তে শুরু করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সারাদিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি খাওয়ার অভ্যাস করতেই হবে।
তবে কাজের ব্যস্ততায় সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পানের কথা অনেকেরই মনে থাকে না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে কিছু সহজ ও কার্যকরী টিপস অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. শুধু পানি পানে বিরক্ত হয়ে গেলে ডালের পানি, ডাবের পানি কিংবা ফলের রস বা সবজির স্যুপ রাখতে পারেন ডায়েটে। এতে পানির অভাবও মিটবে, সঙ্গে মিলবে পুষ্টিগুণও। তবে পানির বিকল্প হিসেবে কখনোই কোমল পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া যাবে না।
২. বাজার করার সময় একটু সচেতন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। খাবারে বেশি করে তরলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখুন। শসা, কমলালেবু, লেটুসপাতা, পালংশাক ও মুলার মতো খাবারগুলো শরীরে পানির চাহিদা মেটাতে দারুণ সাহায্য করে।
৩. চোখের সামনে পানির বোতল থাকলে পানি খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই পড়ার টেবিল, অফিসের ডেস্কে কিংবা বাইরে বের হওয়ার সময় ব্যাগে সব সময় পানির বোতল রাখুন। এতে তৃষ্ণা পেলেই হাতের কাছে পানি পেয়ে যাবেন।
৪. কাজের চাপে পানি খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়ার স্বভাব থাকলে মুঠোফোনে অ্যালার্ম সেট করে নিতে পারেন। নির্দিষ্ট সময় পর পর অ্যালার্ম বাজলে পানি পানের কথা মনে পড়ে যাবে।
৫. আপনি পানি পানের ক্ষেত্রে নানা ধরনের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। সারাদিনে আপনার কতটুকু পানি পান করা উচিত এবং কতটা পান করলেন, তার নিখুঁত হিসাব রাখতে এই অ্যাপগুলো দারুণ কাজে দেয়।
তাই ঠান্ডা পানি পান করা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা না করে, নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন এবং সুস্থ থাকুন।