× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে

ডেস্ক রিপোর্ট।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে পালিত হয় থাইরয়েড ক্যানসার সচেতনতা মাস। থাইরয়েড ক্যানসার অনেক সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে এবং শুরুর দিকে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রোগটি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ঘাড়ে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবরও এ রোগ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রোগের ধরন ও বিস্তারের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসায় থাইরয়েড গ্রন্থির কিছু অংশ বা পুরোটা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হতে পারে। পুরো গ্রন্থি অপসারণ করা হলে সাধারণত আজীবন থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ সেবন করতে হয়।

থাইরয়েড কী

থাইরয়েড গলার সামনের অংশে, কণ্ঠনালির নিচে অবস্থিত প্রজাপতির মতো আকৃতির একটি ছোট গ্রন্থি। আকারে ছোট হলেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

থাইরয়েড থেকে উৎপন্ন হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ খাবার থেকে শরীর কীভাবে শক্তি তৈরি ও ব্যবহার করবে, তা নিয়ন্ত্রণে এ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তচাপ, ওজন এবং শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও থাইরয়েড হরমোন ভূমিকা রাখে।

থাইরয়েডের হরমোন উৎপাদনকারী কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করলে সেখানে সাধারণত গুটি বা নডিউল তৈরি হয়। তবে থাইরয়েডে গুটি পাওয়া গেলেই তা ক্যানসার—এমন নয়। বেশির ভাগ থাইরয়েড নডিউলই ক্যানসারবিহীন।

শুরুতে কেন বোঝা কঠিন

থাইরয়েড ক্যানসারের অন্যতম সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি প্রায়ই কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না। অনেক সময় অন্য কোনো কারণে করা সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ঘটনাক্রমে থাইরয়েডে ক্যানসার শনাক্ত হয়।

তবে রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—গলার সামনের অংশে গুটি বা ফোলা, গলার লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা পরিবর্তন, খাবার গিলতে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘদিন গলা বা ঘাড়ে ব্যথা, কানে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা এবং সর্দি-কাশির সঙ্গে সম্পর্কহীন দীর্ঘস্থায়ী কাশি।

এসব লক্ষণ দেখা দিলেই থাইরয়েড ক্যানসার হয়েছে—এমন নয়। সংক্রমণ, সাধারণ থাইরয়েড নডিউলসহ বিভিন্ন সমস্যায়ও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে গলায় নতুন কোনো গুটি দীর্ঘদিন থেকে গেলে বা পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

যেকোনো ব্যক্তির থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে। তবে নারীদের মধ্যে এবং ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সসিদের এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া পরিবারে থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস, কিছু বংশগত জেনেটিক রোগ, মাথা বা ঘাড়ে বিশেষ করে শৈশবে রেডিয়েশনের সংস্পর্শ এবং কিছু বংশগত থাইরয়েড রোগ থাকলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যান্য অনেক ক্যানসারের মতো থাইরয়েড ক্যানসারের বেশির ভাগ ক্ষেত্রের সঙ্গে জীবনযাপনের অভ্যাসের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায় না। গত কয়েক দশকে রোগটি বেশি শনাক্ত হওয়ার একটি কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ছোট ক্যানসারও শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

কীভাবে শনাক্ত হয়

চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা বা কোনো পরীক্ষায় থাইরয়েডে গুটি শনাক্ত করলে আরও কিছু পরীক্ষা করা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং সূক্ষ্ম সূঁচের মাধ্যমে বায়োপসি।

আল্ট্রাসাউন্ডে শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে থাইরয়েডের গঠন ও গুটির বৈশিষ্ট্য দেখা হয়। রক্ত পরীক্ষায় থাইরয়েডের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অনেকেরই থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

ফাইন-নিডল অ্যাসপিরেশন বায়োপসিতে সূক্ষ্ম সূঁচ দিয়ে গুটি থেকে কিছু কোষ সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। গুটিটি ক্যানসারযুক্ত কি না নির্ধারণের জন্য এটি সবচেয়ে প্রচলিত পরীক্ষাগুলোর একটি।

চিকিৎসা কী

থাইরয়েড ক্যানসারের ধরন, আকার, শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে কি না এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই প্রধান চিকিৎসা।

ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী থাইরয়েডের একাংশ বা পুরো গ্রন্থি অপসারণ করা হতে পারে। পুরো থাইরয়েড অপসারণ করা হলে শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের ঘাটতি পূরণে প্রতিদিন থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ সেবন করতে হয়।

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর তেজস্ক্রিয় আয়োডিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জটিল বা বিরল ধরনের থাইরয়েড ক্যানসারে নির্দিষ্ট ওষুধ, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কাজে লাগানো চিকিৎসা বা বাহ্যিক রেডিয়েশন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

থাইরয়েড ক্যানসারের চিকিৎসার ফল সাধারণত ভালো। প্যাপিলারি থাইরয়েড ক্যানসার এ রোগের সবচেয়ে সাধারণ ধরন এবং এটি মোট আক্রান্তের প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়। রোগটি শরীরের অন্যত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগে শনাক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার হার খুবই ভালো।

চিকিৎসার পরও রোগীদের নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হয়। এ সময় শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষা করা হয়, যাতে ক্যানসার আবার ফিরে এসেছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

গলার বেশির ভাগ গুটি ক্যানসার নয়। তারপরও গলায় নতুন কোনো গুটি বা ফোলা দেখা দিলে, কয়েক সপ্তাহ ধরে কণ্ঠস্বর ভাঙা থাকলে, খাবার গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে, দীর্ঘস্থায়ী ঘাড়ের ব্যথা থাকলে কিংবা লিম্ফ নোড ফুলে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

থাইরয়েড ক্যানসার অনেক সময় নীরবে বেড়ে ওঠে। তাই সম্ভাব্য লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ঘাড়ে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই রোগটি দ্রুত শনাক্ত ও সফলভাবে চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে পারে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.