× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে দেড় হাজার, হঠাৎ বন্যায় মৃত ৪০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ জুন ২০২২, ১৯:১৯ পিএম

আফগানিস্তানের চিকিৎসকরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বুধবার ভোরের ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পটিতে বহু শিশু নিহত হয়ে থাকতে পাওে, যাদেও মৃতদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, এখ নপর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মৃত্যুও রেকর্ড পাওয়া গেছে। তবে অনেক দূর্গম এলাকা থেকে এখনও তথ্য আসতে শুরু করেনি। খবর বিবিসি, পাকিস্তান অবজারভার, টলো নিউজ এর। 

তালিবান নেতারা অবশেষে এই দূর্যোগ মোকাবেলায় বিদেশি সাহায্য চেয়েছেন। আক্রান্ত এলাকার টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি বিদ্ধস্ত হয়ে গেছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তা দিতে শুরু করেছে। এগিয়ে এসেছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন আর জাপানও।  ভারী বৃষ্টি ও সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কারণে উদ্ধারকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ ও উদ্ধারকারীরা বিবিসিকে বলেছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে থাকা গ্রামগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। মুঠোফোনের টাওয়ারও নষ্ট হয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তালেবান সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুল কাহার বালখি বলেন, আফগানিস্তান চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বালখি আরও বলেন, তালেবান সরকার জনগণকে যতটা প্রয়োজন আর্থিকভাবে ততটা সহায়তা করতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, ত্রাণ সংস্থাগুলো, প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো সহায়তা করছে। তবে সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। কারণ, গত দুই দশকে এমন ভয়ংকর ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা হয়নি।

জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবিলায় পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য, জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে দেশটিতে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে চীন। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েবিন আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে হতাহতে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান চীনের প্রতিবেশি বন্ধু এবং আফগানের পক্ষ থেকে চাহিদা মোতাবেক জরুরি মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বেইজিং’। ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে থাকা কোনও চীনের নাগরিক এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন চীনা মুখপাত্র।

সংকট নিরসনে দেশটিতে জরুরি সহায়তা পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে জাপান।গতকাল জাপানের উপ-প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব সেইজি কিহারা বৃহস্পতিবার একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আফগানিস্তানে অতি শিগগিরই প্রয়োজনীয় সাহায্য পাঠানো হবে। এছাড়াও পরস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে আফগানদের সর্বাত্মক সহায়াতার আশ্বাস দেন সরকারের এ মুখপাত্র।

পাকতিকা প্রদেশের গায়ান ও বারমাল এলাকায় ভূমিকম্পে হতাহত বেশি হয়েছে। ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া সাবির নামের এক ব্যক্তি বিবিসিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় বিকট শব্দ হয়। আমার বিছানা কাঁপতে থাকে। ছাদ পড়ে যায়। আমি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে যাই। তবে আমি আকাশ দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার কাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। মাথায় আঘাত লেগেছিল। তবু আমি বের হতে পেরেছিলাম। আমি জানতাম, আমার সঙ্গে একই ঘরে থাকা আমার পরিবারের ৭ থেকে ৯ সদস্য মারা গেছে।’ পাকতিকা প্রদেশের এক চিকিৎসক বলেন, ‘ভূমিকম্পে হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। ভূমিকম্পের আগেও আমাদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ছিল না। তবে এবার আমাদের হাতে যেটুকু ছিল, তা–ও গেছে। আমি এখনো জানি না, আমাদের কতজন সহকর্মী বেঁচে আছেন।’ 

এদিকে আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম তোলোনিউজ জানিয়েছে, বুধবার আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ১৮টিতেই দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা। এই বন্যায় দেশজুড়ে এ পর্যন্ত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। আফগানিস্তানের বন্যা উপদ্রুত প্রদেশগুলো হলো কুনার, নানগারহার, নুরিস্তান, লাঘমান, পানশির, পারওয়ান, কাবুল, কাপিসা, ময়দান ওয়ার্দাক, বামিয়ান, গজনি, লোগার, সামানগান, সার-ই-পুল, তাখার, পাকতিয়া ও দাইকুন্দি। কুন্দুজের অধিবাসী আহমাদুল্লাহ তোলোনিউজকে বলেন, ‘কুন্দুজের শত শত একর জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এখনও বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। নানগারহার প্রদেশেল আর্চিন জেলার বাসিন্দা হামিদুল্লাহ শিনওয়ারি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। অতি বর্ষণে বাড়ির ছাদ ধসে আর্চিন জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।’

আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলাউই শরফুদ্দিন মুসলিম তোলো নিউজকে বলেন, ‘অতি বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় আহতদের অধিকাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বন্যার কারণে যাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁবু দেওয়া হয়েছে।’



Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.