সিরিয়া ও তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই ধ্বংসযজ্ঞের পুরো চিত্র এখনো পরিষ্কার না। মানে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত তুরস্কে ১৭ হাজার ৬৭৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে সিরিয়ায় উদ্ধার হয়েছে ৩ হাজার ৩৭৭টি মরদেহ।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ বলছে, তুরস্ক, সিরিয়া, সাইপ্রাস ও লেবানন, ইসরায়েল ও মিশরেও অনুভূত হয় ভূমিকম্প। ৭ দশমিক ৫ মাত্রার কম্পনসহ শত শত আফটারশক তুরস্কে আঘাত হানে। এই ধাক্কার ধারাবাহিকতা ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তবে এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় ভূমিকম্পে কেঁপেছে বিশ্ব। প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িছে হাজার থেকে লাখে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘর-বাড়ি, অফিস-আদালত থেকে ধর্মীয় স্থাপনা। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে এক মুহূর্তে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের ভয়াবহ আরও ৫ ভূমিকম্প সম্পর্কে-
ইন্দোনেশিয়া ২০০৪
ভূমিকম্পের সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার একটা সম্পর্ক রয়েছে, এটাই সুনামি নামে পরিচিত। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সুনামি বলা হয় ২০০৪ সালে, একটি ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর। এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার ১৪টি দেশে অনুভূত হয়েছিল এই ভূমিকম্প ও সুনামি। এই সুনামিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইন্দোনেশিয়া; এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ এতে প্রাণ হারায়। অনেক মৃতদেহই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মৃতের সংখ্যা নিরূপণ করতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। ইন্দোনেশিয়ার মৎস্য শিল্প ও কারখানার প্রায় ৬০ শতাংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এই সুনামিতে।
জাপান ২০১১
জাপানের হোনশুর পূর্ব উপকূলের কাছে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে অনেকের মৃতদেহের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওই ভূমিকম্পের ফলে ভয়াবহ সুনামিও আঘাত হানে দেশটির উপকূলে। কিছু পারমাণবিক চুল্লিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই ভূমিকম্পটি জাপানে রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প।
হোনশু দ্বীপে আফটারশক অব্যাহত ছিল বেশ কয়েকদিন। আফটারশকগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫০টিরও বেশি মাত্রার ৬ বা তার বেশি এবং তিনটি ছিল ৭ মাত্রার উপরে। প্রশান্ত মহাসাগর ও উত্তর আমেরিকার টেকটোনিক প্লেটের মধ্যবর্তী সীমানা জাপান ট্রেঞ্চের কাছে থ্রাস্ট ফল্টিংয়ের কারণে ভূমিকম্পটি হয়েছিল। থ্রাস্ট ফল্টিং ঘটে যখন একটি টেকটোনিক প্লেট অন্যটির নিচে ডুবে যায়।
চীন ২০০৮
২০০৮ সালের ১২ মে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে চীনের সিচুয়ান প্রদেশ। এই ভূমিকম্পে সিচুয়ান প্রদেশে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়, আহত হয় তিন লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধবংস হয় বেশিরভাগ বাড়িঘর। হাজার হাজার মানুষ এসময় গৃহহীন হয়েছিলেন।
ইরান ১৯৭৮
নব্বই শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের মধ্যে একটি এটি। ১৯৭৮ সালে ইরানের ইয়াদ ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। মারা যান ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। ৮৫ শতাংশ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ শহরের। যে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ইরানের সময় লেগেছিল বেশ অনেকটা বছর।
নেপাল ২০১৫
নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে আট হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে। ১৯৩৪ সালের পর দেশটিতে ওটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা। নেপালের কয়েকটি পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৯৮ শতাংশ ঘরবাড়িই ধ্বংস হয়ে যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
