জম্মু
ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও
পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে
ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করেছে এবং পাকিস্তানের দিকে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি দৈনিক ডনের আজ (৬ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, ভারতের একতরফা এই পদক্ষেপের ফলে
পাকিস্তানে চেনাব নদীর পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমবার
পাকিস্তানের মাড়ালা হেডওয়ার্কসে চেনাব নদীর পানির প্রবাহ মাত্র ৩ হাজার ১০০
কিউসেক রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে আগের দিন রোববার তা ছিল ৩৫
হাজার কিউসেক। পাকিস্তানের সেচ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
বলেন, কোনও ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ভারত প্রায় পুরোপুরি চেনাবের পানি বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেটি নিজেদের বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে
জমা করছে। তিনি একে সিন্ধু পানি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডন
পত্রিকার হাতে আসা নথি অনুযায়ী, চেনাব নদীর ওপর ভারতের তিনটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে— পাকাল ডুল, বাগলিহার ও সালাল ড্যাম।
এগুলোর মধ্যে পাকাল ডুল ড্যামের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট,
বাগলিহার ড্যামের ৯০০ মেগাওয়াট এবং সালাল ড্যামের ৬৯০ মেগাওয়াট। এই ড্যামগুলোতে বিপুল
পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করার ফলে চেনাব নদীতে পাকিস্তানের দিকে পানির প্রবাহ কমে গেছে।
পাকিস্তানি
কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি ভারত এমনভাবে পানি আটকে রাখে, তাহলে পাকিস্তানকে আরও চার থেকে পাঁচ দিন পানিশূন্য অবস্থায় থাকতে হতে পারে। আবার হঠাৎ যদি ভারত পানি ছেড়ে দেয়, তাহলে চেনাব নদীতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেখা দেবে এবং তীরবর্তী জনপদগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য,
চেনাব নদী পাকিস্তানের সেচ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নদী থেকে
ইউসিসি এবং বিএরবি খালসহ বিভিন্ন খালের মাধ্যমে পাঞ্জাব প্রদেশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা হয়। ওয়াপদার প্রকাশিত দৈনিক পানির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোমবার চেনাবে ইনফ্লো ছিল মাত্র ৫ হাজার ৩০০
কিউসেক, কিন্তু নদী থেকে কোনো পানি ছাড়া হয়নি। আগের দিন মাড়ালায় ইনফ্লো ছিল ৩৪ হাজার ৬০০
কিউসেক এবং আউটফ্লো ছিল ২৫ হাজার ৪০০
কিউসেক।