ইসরায়েল
গাজা উপত্যকার পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২০ মে) বার্তাসংস্থা
এএফপির এক প্রতিবেদনে এই
তথ্য জানানো হয়। নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন
সময় এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে জোরালো অভিযান শুরু করেছে, যার ফলে বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে,
দুই মাসের বেশি সময় পর গাজায় প্রথমবারের
মতো সামান্য পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করেছে। তবে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার
সংস্থা বলছে, এই ত্রাণ একেবারেই
প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, “সীমান্তে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী অপেক্ষমাণ। অথচ সেগুলো কাছেই থাকা ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। মানবিক সহায়তা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।”
অবস্থা
এতটাই উদ্বেগজনক যে, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং কানাডার নেতারা ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, ত্রাণ অবরোধ এবং সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক স্থানচ্যুত করার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এক
যৌথ বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, “নেতানিয়াহুর সরকার যদি এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখে, তবে আমরা চুপ করে বসে থাকব না।”
চাপের
মুখে ইসরায়েল সোমবার সীমিত পরিসরে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয়। প্রথম ধাপে মাত্র ৯টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে শিশুদের খাবারসহ কিছু জরুরি সামগ্রী ছিল। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেন,
“এই পরিমাণ ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। এখনো সেগুলোর কোনো বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি নিরাপত্তা ও অন্ধকার পরিস্থিতির
কারণে।”
নেতানিয়াহু
তার বক্তব্যে স্বীকার করেন, “বাস্তব ও কূটনৈতিক কারণেই
এই সীমিত ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বে দুর্ভিক্ষের ছবি ছড়িয়ে পড়লে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বৈধতা হারাতে পারে।”
জাতিসংঘের
মানবাধিকার সংস্থা ওসিএইচআর এক বিবৃতিতে জানায়,
ইসরায়েলের চলমান অভিযান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং তা জাতিগত নির্মূলের
পর্যায়ে চলে যেতে পারে। হামাসবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে স্থানচ্যুত করা, বসতি ধ্বংস এবং ত্রাণ আটকে রাখার মতো কার্যকলাপ গভীর উদ্বেগের বিষয়।
এদিকে,
গাজার মানবিক পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফ্রান্স, জার্মানিসহ ২২টি ইউরোপীয় দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে
বলেছে, “গাজার মানুষ অনাহারে ভুগছে—তাদের জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা দিতে হবে।”
সূত্রঃ এএফপি।