ছবি: সংগৃহীত।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও সামরিক সংঘাত এড়াতে আলোচনার পথে এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশই জানিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছাতে পারস্পরিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে আলোচনা করছে। ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলোচনার প্রস্তুতি এগোচ্ছে বলে জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর এ প্রতিক্রিয়া এসেছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ইরানকে এমন একটি চুক্তিতে রাজি হতে হবে যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। যদিও তেহরান এতে সম্মত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
ট্রাম্প বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। গুরুত্বপূর্ণভাবেই কথা বলছে। তিনি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে ইরানের দিকে অগ্রসরমান মার্কিন নৌবহরের কথাও উল্লেখ করে বলেন, আমাদের খুব বড় ও শক্তিশালী জাহাজ ওই দিকেই যাচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, কৃত্রিমভাবে তৈরি করা মিডিয়া যুদ্ধের বর্ণনার বিপরীতে, আলোচনার একটি কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আলোচনায় না বসলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সহিংসতা ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে। হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী নৌ মহড়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার বা বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি বন্ধ করলেই তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইরানের উপকূলের বাইরে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের এলাকায় মহড়া চালাবে, তা নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, যে বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, সেন্টকম সেই বাহিনীর কাছেই আবার ‘পেশাদারিত্ব’ প্রত্যাশা করছে। এটাই বিস্ময়কর বিষয়।
আল জাজিরার জানিয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি শনিবার তেহরানে আলি লারিজানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক ইরানে কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে এবং সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
