যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে আর হামলা চালাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শনিবার (০৭ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা আর তাদের ওপর হামলা চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন হামলার কারণেই ইরান এই প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আজই ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ হামলা চালানো হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর হামলা চালানো হবে না। তবে সেসব দেশ থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু হলে জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব সামরিক ঘাঁটি এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, ইরানের খারাপ আচরণের কারণে এমন কিছু এলাকা ও গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যেগুলো আগে হামলার তালিকায় ছিল না।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান কেন্দ্র এবং একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আল ধাফরা আবুধাবির কাছে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। এ জায়গাটিতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযানের জন্য এটি একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।