মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতিতে এবার কূটনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে আজ বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) একটি বিশেষ খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। বাহরাইনের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি মূলত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে একটি সম্মিলিত প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাহরাইনের খসড়া প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা এবং প্রক্সি বা ছায়াগোষ্ঠীর মাধ্যমে উস্কানি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এটি কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্যও এক ভয়াবহ হুমকি।
নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটাভুটি নিয়ে বড় ধরণের নাটকীয়তা তৈরি হতে পারে। একদিকে বাহরাইনের প্রস্তাব যখন ইরানের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে, ঠিক অন্যদিকে রাশিয়া একটি পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে। রাশিয়ার প্রস্তাবে মূলত সামরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং সকল পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য, তাই বাহরাইনের প্রস্তাবটি তারা 'ভেটো' দিয়ে আটকে দেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং ওইসব আরব দেশগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন এবং ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলার পর থেকেই দেশটি এই প্রস্তাবটি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে।