ইরানযুদ্ধ, এলপিজি সংকট, পেট্রল-ডিজেলের দাম, হরমুজ প্রণালি উত্তেজনা- এসব ভুলে যান! আপনি যদি উড়েই যান, তো এসবে আর কী আসে যায়? হ্যাঁ, তেমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার লম্বা এক দানব সাইক্লোনের দেখা মিলেছে!
এখন এমন এক সময় যখন বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ভয়াবহতায় কাঁপছে। ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের আঘাতে জর্জরিত পশ্চিম এশিয়া। ঠিক তখনই ওই অঞ্চলটির উপরে আরও এক নতুন বিপদের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত দুদিন ধরে ভয়ংকর অস্থির এক আবহাওয়ার সাক্ষী হয়ে আছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
একটি বিরল ও শক্তিশালী ঝড় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে, যা শুষ্ক মরুভূমিকে বরফে ঢাকা প্রান্তরে পরিণত করেছে এবং জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান স্যাটেলাইট দৃশ্য অবিশ্বাস্য। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। নিম্নচাপ কেন্দ্রের দক্ষিণ-পূর্বে ১৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সিস্টেমের সবচেয়ে শক্তিশালী 'সুপারসেল'গুলি (তীব্র ঝড় সৃষ্টিকারী মেঘপুঞ্জ) সবেমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপর আছড়ে পড়েছে। এবং পুরো দেশটিকে ব্যতিক্রমী এক শীতল বজ্রঝড়ে ঢেকে ফেলেছে।
প্রায় -৯০° সেলসিয়াস (-১৩০° ফারেনহাইট) তাপমাত্রার প্রচণ্ড শীতল এবং বিদ্যুতায়িত মেঘের চূড়া সরাসরি দুবাই ও আবু ধাবির উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। ফলে এই দুই মরু-মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ ও ঝোড়ো রাত অতিবাহিত হয়েছে।
ঘনীভূত মেঘের কারণে আবহাওয়া বর্তমানে অস্থির ও প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ন্যাশনাল সেন্টার অফ মেটিওরোলজি দেশ জুড়ে হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত এবং বিদ্যুৎ চমকানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয়, পূর্ব এবং উত্তরের অঞ্চলগুলিতে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বেশি অনুভূত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: জিনিউজ