ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি জাহাজ হরমজু প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ অতিক্রম করেছে বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, পর্যবেক্ষণে থাকা সব জাহাজই কনটেইনারবাহী। এর মধ্যে তিনটি ইরানের পতাকাবাহী এবং চতুর্থটি কোমোরোসে নিবন্ধিত।
সোমবার ব্রিটিশ সময় বিকাল ৩টা থেকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর যে জাহাজগুলো এটি অতিক্রম করেছে বলে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেগুলো হলো—
‘আজারগুন’— ইরানের শহীদ রাজাই বন্দর থেকে যাত্রা করে প্রায় বিকাল ৪টার দিকে অবরোধ অতিক্রম করে এবং বর্তমানে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কাণ্ডলা বন্দরের দিকে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘আশকান ৩’— ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় চাবাহার বন্দর থেকে দুপুর ১২টার কিছু পর রওনা হয়ে বর্তমানে পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থান করছে বলে দেখাচ্ছে।
‘শাবদিস’— এটিও চাবাহার থেকে যাত্রা করে রাত প্রায় ৯টার দিকে অবরোধ অতিক্রম করে এবং বর্তমানে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, কেরালার কাছে অবস্থান করছে বলে তথ্য দিচ্ছে। এর গন্তব্য চীনের ঝুহাই শহর।
‘টাভা ৪’— ইরানের বন্দর ইমাম খোমেনি থেকে যাত্রা করে দুপুর ১টার দিকে অবরোধ রেখা অতিক্রম করে এবং বর্তমানে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এটি মুম্বাইয়ের নিকটবর্তী জওহরলাল নেহরু বন্দরের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
তবে এই বিশ্লেষণ জাহাজগুলোর নিজস্ব ট্র্যাকিং ডেটার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় জাহাজগুলো তাদের ট্র্যাকার বন্ধ করে দেয় বা ভুয়া অবস্থান দেখায়, যাকে ‘স্পুফিং’ বলা হয়।
এদিকে, এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো অবরোধ কার্যকর রাখছে। জাহাজগুলো কখন অবরোধ অতিক্রম করেছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তাদের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বাইরে নতুন করে কিছু যোগ করার নেই।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বর্তমানে মোট শক্তির ১০ শতাংশেরও কম ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে।
তবে জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটার এসব তথ্য মার্কিনিদের এসব দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণ করে।