× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

১৮ মিলিয়ন ডলারে মার্কিন মামলা মেটাচ্ছেন আদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

১৬ মে ২০২৬, ১৮:০৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দায়ের করা একটি দেওয়ানি জালিয়াতির মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি এবং তার ভাতিজা সাগর আদানি সম্মিলিতভাবে ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। 

২০২৪ সালে মার্কিন এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা আদানিদের বিরুদ্ধে ভারতে বড় ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের কাজ পেতে সে দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া এবং বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের সময় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। 

প্রস্তাবিত এই রফাদফা চুক্তিটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তবে এই ইতিবাচক খবরের জেরে শুক্রবার (১৫ মে) ভারতীয় শেয়ার বাজারে আদানি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম চাঙ্গা হতে দেখা গেছে। জ্বালানি, অবকাঠামো ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসার অন্যতম শীর্ষ ভারতীয় এই শিল্পগোষ্ঠী অবশ্য শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছিল।

প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় আদানিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। তবে এর ফলে তারা ভবিষ্যতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করা, সিকিউরিটিজ জালিয়াতি এবং বাজার কারসাজি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন জালিয়াতি বিরোধী আইনগুলো লঙ্ঘন করতে পারবেন না বলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। 

২০২৪ সালের ওই মামলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি অভিযোগ করেছিল যে আদানিরা তাদের প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’র দুর্নীতিবিরোধী আইন মেনে চলার বিষয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। 

বর্তমানে ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সী গৌতম আদানি প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির মালিক, যা তাকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনীর তালিকায় স্থান দিয়েছে।

এই দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তির পাশাপাশি আদানিদের জন্য আরও একটি বড় স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ জানায়, মার্কিন বিচার বিভাগ গৌতম আদানির বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগগুলো তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জানা গেছে, আদানি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ল ফার্মের প্রধান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনি উপদেষ্টা রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রের নেতৃত্বে একটি নতুন আইনজীবী দল নিয়োগ করার পরই মার্কিন বিচার বিভাগ এই অবস্থান পরিবর্তন করেছে। জিউফ্রা মূলত ট্রাম্পের হাশ-মানি মামলার আপিলের অন্যতম আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনজীবী জিউফ্রা গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই মামলা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রসিকিউটররা যদি আদানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তুলে নেন, তবে আদানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন এবং প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। 

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর পরই আদানি ট্রাম্পের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আইনজীবী মূলত সেটিই পুনর্ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়ে আসার একটি ব্যাপক নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই ফৌজদারি অভিযোগ বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিবিসির পক্ষ থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ ও আদানি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.