দলীয় ভাঙন ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা ব্যানার্জি। বয়স নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেছেন, এখনও তার দলকে নতুন করে গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে এবং বিজেপির পতন না দেখা পর্যন্ত তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
আজ ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার ফেসবুক বার্তায় ৭১ বছর বয়সী মমতা বলেন, বয়স নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের কর্মক্ষমতা। আমার বয়স নিয়ে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। মন, শরীর ও মানসিক শক্তিই বয়স নির্ধারণ করে। আমি কি কখনও প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজেপির অনেকেই চেয়েছিল আমি হৃদরোগে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যতদিন না বিজেপির পতন দেখি।
রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই এমনটাই স্পষ্ট করে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা যেতে চায়, তারা চলে যেতে পারে। যারা থাকবে, তারাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালের মতো ২০২৬ সালেও আমি নতুন করে শুরু করতে পারি। সেই সাহস আমার আছে। আমি তিন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করেছি এবং যারা এখন আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য ছায়া হয়ে থাকব।
সাম্প্রতিক সময়ে টিএমসিতে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছেন মমতা ব্যানার্জি। দলটির একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ও ভারতের সংসদে টিএমসির অবস্থান দুর্বল হয়েছে। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে দলের অধিকাংশ বিধায়ক অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে লোকসভার ২০ জন টিএমসি সাংসদ একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, টিএমসির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ২১ জুলাইয়ের ‘শহীদ দিবস’ সমাবেশকে সামনে রেখে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবার একই দিনে কলকাতায় মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করবে টিএমসির দুই পক্ষ। এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট মমতা ব্যানার্জিপন্থী টিএমসি শিবিরকে ভিক্টোরিয়া হাউসের পরিবর্তে বীরলা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছাকাছি স্থানে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে আন্দোলনের সময় নিহত ১৩ কর্মীর স্মরণে প্রতিবছর ২১ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সময়ের সঙ্গে এটি দলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।