কাধিক বৈঠকে যোগ দিতে মস্কো সফর করছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। মঙ্গলবার ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিমান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অবতরণ করেছে বলে খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম ওই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যদিও মস্কোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমান অবতরণের কোনও তথ্য নেই বলে মঙ্গলবার দাবি করেছিল ক্রেমলিন। এর কিছুক্ষণ পর মার্কিন একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সিআইএর পরিচালক র্যাটক্লিফ রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য মস্কো সফরে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে।
এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্রও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিআইএ প্রধান হিসেবে এটিই রাশিয়ায় তার প্রথম প্রকাশ্য সফর। পৃথকভাবে মার্কিন অপর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে এই সফরের বিষয়ে সিআইএ কিংবা হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এর আগে ফ্লাইটরাডারের ডেটায় দেখা যায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-১৭ বিমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাটভিয়া হয়ে মস্কোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বোয়িং গ্লোবমাস্টার মডেলের ওই বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত টেইল নম্বর ছিল। বিমানটি লাটভিয়ার রিগা থেকে গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টার দিকে যাত্রা শুরু করে মস্কোতে গিয়ে অবতরণ করে।
মঙ্গলবার এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা তাদের নেই।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর ডেটায় দেখা যায়, বিমানটি ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছের ক্যাম্প স্প্রিংস বিমানঘাঁটি থেকে রিগায় গিয়ে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে মেরিল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন বিমান বাহিনীর যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুস থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই ঘাঁটিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারি আকাশপথ ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করেন।
এর আগে, গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার যখন ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য অবতরণ করেছিলেন, তখন সর্বশেষ মার্কিন নিবন্ধিত কোনো ফ্লাইট সরাসরি ইউরোপ থেকে রাশিয়ায় গিয়েছিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান