× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জাতিসংঘে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনকে কঠোর বার্তা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিনের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা-বিরোধ নতুন করে সামনে এনেছেন। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত।

জাতিসংঘের অধিবেশনে মিলেই বলেন, ‘আমাদের কাছে মালভিনাস একটি জাতীয় ইস্যু।’ একই সঙ্গে দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনের প্রচেষ্টাকে তিনি ‘অবৈধ ও অবৈধভাবে পরিচালিত’ কার্যক্রম হিসেবে আখ্যা দেন।

১৮৩৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্য ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা দ্বীপগুলো দখলের চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ৭৪ দিন ধরে চলা ওই যুদ্ধে ব্রিটেন জয়ী হয়। এরপর কয়েক দশক ধরে বিরোধটি তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তেল অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আবার বেড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। ৪ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা সরকার জানায়, দ্বীপপুঞ্জে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ৪৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা সরকার দেশটির কংগ্রেসে আরও কঠোর আইন প্রস্তাব করে। এতে ফকল্যান্ডসহ আর্জেন্টিনার দাবি করা সামুদ্রিক এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিলেই দ্বীপগুলোর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার প্রসঙ্গও তোলেন। আর্জেন্টিনার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৮৩৩ সালে ব্রিটেন দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে ব্রিটিশ জনগোষ্ঠীকে বসতি স্থাপন করানো হয়। তাই মিলেই তাদের এমন একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখছেন, যারা ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বসতি গড়েছে। তাই ২০১৩ সালের এক গণভোটে দ্বীপবাসী বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ব্রিটেনের অধীনেই থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও সম্প্রতি নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপরই মিলেই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের দাবি আরও জোরালোভাবে সামনে আনেন।

তবে মিলেইয়ের বক্তব্যের সবচেয়ে তীব্র অংশ ছিল জাতিসংঘকে ঘিরে তাঁর সমালোচনা। তিনি জাতিসংঘকে একটি ‘অকার্যকর সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করা। এ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর আদর্শিক ব্যক্তিত্ব অর্থনীতিবিদ লুদভিগ ফন মিজেসের একটি বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন।
 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.