× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভারতে বিক্ষোভে নতুন মাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য দুইজন হলেন- সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইজিআই) থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক করার ঘটনায় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজধানীর যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষকে বিমানবন্দর থেকে আটক করার ঘটনায় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও আসতে শুরু করেছেন বহু তরুণ।

যদিও বিক্ষিপ্তভাবে আগত এই তরুণদের সেখানে কোনো ধরনের জমায়েত করা থেকে বিরত রেখেছে দিল্লি পুলিশ। আসা মাত্রই তাদের ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পার্লামেন্ট স্ট্রিটে উপস্থিত এক তরুণ বিবিসি হিন্দিকে বলেন, রাজা ভয় পাচ্ছে তাই সান্ত্রীকে এগিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এ দেশের তরুণরা আর পিছু হঠবে না। এটি একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

কলকাতা প্রতিনিধি আরও জানাচ্ছেন, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও অনড় ছিলেন।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন না করা, আগের কর্মসূচিতে পুলিশের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ এবং জননিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে উদ্বেগকে অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন পক্ষের অবস্থান আলাদা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দিল্লিতে আসা কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টও উদ্বেগ জানিয়েছে। বিক্ষোভের আশঙ্কায় গণপরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষকে অযথা ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে আদালত মন্তব্য করে। আদালত কর্তৃপক্ষকে বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিষেবা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে।

বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং নেতাদের বিমানবন্দর থেকে আটক করার ঘটনায় এখন রাজধানীর পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে। কর্মসূচির মূল আয়োজকেরা আটক থাকায় আন্দোলনকারীরা কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আটক তিন নেতার বিরুদ্ধে ঠিক কোন আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

রাজধানীতে বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক এখন একই সঙ্গে সামনে এসেছে। একদিকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি, অন্যদিকে প্রতিবাদের অধিকার এবং গণপরিবহণ সচল রাখার প্রশ্ন। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই দিল্লি প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.