সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় এখন বেশ জনপ্রিয় ওভারনাইট ওটস। আগের রাতে দুধ বা চিনি ছাড়া দইয়ের সঙ্গে রোলড ওটস ভিজিয়ে রেখে সকালে ফল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে খাওয়া হয়। সহজে তৈরি করা যায় বলে ব্যস্ত জীবনেও এটি অনেকের পছন্দের খাবার।
পুষ্টিবিদ ও গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে তৈরি করা ওভারনাইট ওটস টানা এক মাস খেলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ওটসে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার বিটা-গ্লুকান হজমের গতি ধীর করে, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বাড়তে দেয় না, ফলে সকালজুড়ে শক্তি বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ওটসে থাকা প্রচুর ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এতে হজমশক্তি উন্নত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। তবে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে অতিরিক্ত ফাইবার উলটো পেটের অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
ভিজিয়ে রাখা ওটস ও রান্না করা ওটস—দুটির পুষ্টিগুণ প্রায় একই। তবে ওভারনাইট ওটস নরম হওয়ায় অনেকের ক্ষেত্রে সহজে হজম হয়। এছাড়া ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিড কিছুটা কমে, ফলে কিছু খনিজ শরীরে শোষিত হতে সুবিধা হয়।
স্বাস্থ্যকর ওভারনাইট ওটস তৈরিতে রোলড ওটস, দুধ বা চিনি ছাড়া দই, তাজা ফল, বাদাম, চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিড এবং সামান্য দারচিনি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মধু, ফ্লেভারড সিরাপ, মিষ্টি দই বা চকোলেট স্প্রেড এড়িয়ে চলাই ভালো।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু ওটসের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।