ছবি: সংগৃহীত।
স্মার্টফোনের দিকে তাকাতেই মুহূর্তের মধ্যে খুলে যায় স্ক্রিন। পাসওয়ার্ড বা পিন মনে রাখার প্রয়োজন নেই—শুধু মুখ দেখালেই আনলক হয়ে যায় ফোন। কিন্তু কীভাবে ফোন নিশ্চিত হয় যে স্ক্রিনের সামনে থাকা ব্যক্তিই তার প্রকৃত মালিক?
এর পেছনে কাজ করে ক্যামেরা, ইনফ্রারেড আলো এবং ত্রিমাত্রিক ফেস-রেকগনিশন প্রযুক্তির সমন্বয়। এই প্রযুক্তি শুধু মুখের ছবি দেখে পরিচয় শনাক্ত করে না, বরং মুখের গঠন ও গভীরতার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে।
শুধু ছবি দেখে মুখ শনাক্ত করে না
ফেস আইডিকে সাধারণ সেলফি ক্যামেরার সঙ্গে তুলনা করলে ভুল হবে। উদাহরণ হিসেবে আইফোনের ফেস আইডি ব্যবস্থায় রয়েছে ট্রুডেপথ ক্যামেরা সিস্টেম। ব্যবহারকারীর মুখের ত্রিমাত্রিক কাঠামো শনাক্ত করতে এতে একাধিক প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করে।
ফোনের ইনফ্রারেড ক্যামেরা মুখের তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি একটি ডট প্রজেক্টর মুখের ওপর হাজার হাজার অদৃশ্য ইনফ্রারেড বিন্দুর প্যাটার্ন ছড়িয়ে দেয়। নাক, চোখ, গাল, কপালসহ মুখের বিভিন্ন অংশে এসব বিন্দুর অবস্থান কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয় মুখের একটি গভীরতার মানচিত্র।
ফলে ফোনের কাছে শুধু একটি সমতল ছবি নয়, ব্যবহারকারীর মুখের ত্রিমাত্রিক গঠন সম্পর্কেও তথ্য থাকে।
প্রথমবার মুখ শনাক্ত করার সময় কী ঘটে?
ফেস আইডি সেটআপ করার সময় ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন দিকে মুখ ঘোরাতে বলা হয়। এ সময় ফোন মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সেগুলোর একটি গাণিতিক রূপ তৈরি করে।
এই তথ্য সরাসরি সাধারণ ছবি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয় না। অ্যাপলের ক্ষেত্রে ফেস আইডির মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য তৈরি তথ্য ডিভাইসের সুরক্ষিত অংশে রাখা হয়। ফলে অন্য অ্যাপগুলো সাধারণভাবে এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পায় না।
পরেরবার কীভাবে মুখ মেলানো হয়?
পরবর্তী সময়ে ফোনের দিকে তাকালে ট্রুডেপথ সিস্টেম আবারও মুখের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর নতুন পাওয়া তথ্যকে আগে সংরক্ষিত গাণিতিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
দুই তথ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় মাত্রায় মিল পাওয়া গেলে ফোন ধরে নেয়, সামনে থাকা ব্যক্তিই অনুমোদিত ব্যবহারকারী। তখনই ডিভাইসটি আনলক হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে শুধু চোখ, নাক কিংবা মুখের অবস্থান বিবেচনা করা হয় না। মুখের গভীরতা ও সামগ্রিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই সাধারণ একটি ছবি দেখিয়ে ফেস আইডিকে ফাঁকি দেওয়া তুলনামূলক কঠিন।
চেহারায় পরিবর্তন এলে কী হয়?
দাড়ি রাখা, চশমা ব্যবহার, মেকআপ করা কিংবা চুলের ধরন বদলে ফেললেও অনেক ক্ষেত্রে ফেস আইডি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে পারে। কারণ এই প্রযুক্তি শুধু বাহ্যিক চেহারার ওপর নির্ভর না করে মুখের সামগ্রিক গঠন বিশ্লেষণ করে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে মুখে স্বাভাবিক পরিবর্তন এলে সিস্টেম সেই পরিবর্তনের সঙ্গে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে মানিয়ে নিতে পারে। তবে মুখে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে কিংবা কোনো কারণে ফেস আইডি ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে ফোন পাসকোড চাইতে পারে।
অর্থাৎ, ফোন মূলত আপনার একটি ছবি মনে রেখে দেয় না। বরং মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও গভীরতার তথ্য থেকে তৈরি গাণিতিক পরিচয়ের সঙ্গে প্রতিবার নতুন করে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখে, ফোনের সামনে থাকা ব্যক্তিই প্রকৃত মালিক কি না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
