× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অর্ধেক কবি অর্ধেক সাংবাদিক হেলাল হাফিজ

কামাল সিদ্দিকী বাবু

২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৫:৩৪ পিএম

কবি সাংবাদিক। প্রচুর কবিতা লিখেছেন এমনও নয়। তবে লেখার মতো লেখা হলে তার পরিমাপ করার দরকার পড়ে না। গুণগত মানে তা মানুষের মনের দরজায় আঘাত করে। তাইতো ‘যে জলে আগুন জ্বলে’- লিখেই বাংলা কবিতা সাহিত্যে নিজের আসন পাকাপোক্ত করে নিলেন। তিনি হেলাল হাফিজ। বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি যিনি স্বল্পপ্রজ হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

তার কবিতা সংকলন যে জলে আগুন জ্বলে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর ৩৩টিরও বেশি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ২৬ বছর পর ২০১২ সালে আসে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ কবিতা একাত্তর। তার অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’;- এ কবিতার দুটি পুঙ্তি ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ বাংলাদেশের কবিতামোদী ও সাধারণ পাঠকের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়ে থাকে।  তিনি সাংবাদিক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাজ করেছেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোণায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম খোরশেদ আলী তালুকদার । আর মাতার নাম কোকিলা বেগম। ১৯৬৫ সালে নেত্রকোণা দত্ত হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোণা কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। ওই বছরই কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে সাংবাদিকতায় যোগদান করেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য সম্পাদক। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি দৈনিক দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগদান করেন । সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের রাতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান হেলাল হাফিজ। সে রাতে ফজলুল হক হলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পড়ে সেখানেই থেকে যান। রাতে নিজের হল ইকবাল হলে (বর্তমানে জহুরুল হক) থাকার কথা ছিল। সেখানে থাকলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হতেন। ২৭ মার্চ কারফিউ তুলে নেওয়ার পর ইকবাল হলে গিয়ে দেখেন চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, লাশ আর লাশ। হলের গেট দিয়ে বেরুতেই কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে দেখা। তাকে জীবিত দেখে উচ্ছ্বসিত আবেগে বুকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকলেন নির্মলেন্দু গুণ। ক্র্যাকডাউনে হেলাল হাফিজের কী পরিণতি ঘটেছে তা জানবার জন্য সে দিন আজিমপুর থেকে ছুটে এসেছিলেন কবি গুণ। পরে নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের দিকে আশ্রয়ের জন্য দুজনে বুড়িগঙ্গা পাড়ি দেন।

সাহিত্য কর্ম ও পুরস্কার

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশিত হয়। কবিতার জন্য পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বৈশাখী মেলা উদ্যাপন কমিটির কবি সংবর্ধনা (১৯৮৫), যশোহর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৭), নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ, কবি খালেদদাদ চৌধুরী সাহিত্য পদক সম্মাননা,বাসাসপ কাব্যরত্ন - ২০১৯ প্রভৃতি। কবিতায় তিনি ২০১৩ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

হেলাল হাফিজের কবিতা যে কারণে সবার কবিতা 

 সৌমেন্দ্র গোস্বামী 

‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’—এই কালজয়ী পঙ্ক্তি লিখেছিলেন যিনি, আজ ৭ অক্টোবর সেই কবি হেলাল হাফিজের ৭৬তম জন্মদিন। তাঁর অনেক কবিতাই মানুষের মুখে মুখে, কিছু কবিতার পঙ্ক্তি দেয়াললিখন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। হেলাল হাফিজের কবিতা কেন এমন করে গ্রহণ করলেন সাধারণ মানুষ?

কবিতা লিখে মানুষের কাছে পৌঁছানো সহজ নয়। কিন্তু কবিরা এসব নিয়ে ভাবেন না, তোয়াক্কা করেন না। আপন মনে তাঁরা শব্দের মালা গেঁথে যান। চিরাচরিত এ পর্যালোচনা আপেক্ষিকভাবে সত্য হলেও কবি হেলাল হাফিজ ব্যতিক্রম। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জ্বলে আগুন জলে’ দিয়েই মানুষের হৃদয়ে আসন করে নিয়েছেন তিনি।

কেবল কবিতার পাঠকের নিরিখে নয়, যে ব্যক্তি অতটাও সাহিত্যের খোঁজখবর করেন না, এমন অনেকের হৃদয়েও দোলা দিয়েছে হেলাল হাফিজের পঙ্ক্তি। প্রথম কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে এ অসম্ভব কীভাবে সম্ভব হলো? আর কেনইবা ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’র কবিতা সবার হয়ে উঠল?

উত্তর খোঁজার আগে ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো যে সময়ে লেখা হয়েছে, ওই সময়ের প্রেক্ষাপট ও কবির যাপিত জীবনের ঘটনাপ্রবাহ দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে। ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রতিটি কবিতার শেষে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী কবিতাগুলো লেখা হয়েছে ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে। 

কবিরা হয়তো এমনই। কবিতার বিশালতার মতো বিশাল হৃদয় দিয়ে তুমুলভাবে ভালোবেসেও জোর করে থেকে যাওয়ার দাবিটা শেষ পর্যন্ত করে উঠতে পারেন না। তাই কি কবি বলেছেন—‘ৃভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্জ্বল’। নাকি কবির মতো এই ভাবনা তাঁদেরও, যাঁরা প্রিয় মানুষকে কাছে পেয়েছেন এবং তাঁদেরও, কবি না হয়েও যাঁরা প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন। পঙ্ক্তিটি মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার নেপথ্যের এই কি কারণ?

আর এ সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাও ঘটেছে। বলাবাহুল্য, ঘটনাগুলো হেলাল হাফিজের মনে বেশ ভালোভাবেই রেখাপাত করেছে। 

উদাহরণ হিসেবে

১৯৬৯ সাল, গণ-অভ্যুত্থান চলছে। কবি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। একদিন রিকশা চেপে যাচ্ছেন। হঠাৎ সামনে মিছিল চলে আসায় রিকশাচালক ব্রেক কষে থামলেন। মিছিলকারীদের থামাতে পুলিশ ধাওয়া দিতে শুরু করলে উল্টো দিক থেকে মিছিলকারীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করল। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রিকশাচালক বললেন, ‘মার, মার শালাদের। প্রেমের জন্য কোনো কোনো সময় মার্ডারও করা যায়।’ কথাটা কানে পৌঁছাতে কবির মনে ভাবনার উদয় হয়। ‘আসলেই তো তাই! দেশপ্রেমের জন্যও তো মার্ডার করা যেতে পারে।’

পরবর্তী সময়ে এ ঘটনার সূত্রেই কবি রচনা করেন:

‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়..........

গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাসহ ওই সময়ের ঘনঘটা আমাদের প্রত্যেকেরই কমবেশি জানা। তাই আর এসব কথার বিস্তার না করে এবার হেলাল হাফিজের ব্যক্তিজীবনে দৃষ্টি দেওয়া যাক। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারান কবি। জীবনের অবলম্বন বলতে ছিলেন কেবল বাবা।

তিনিও ১৯৭৩ সালে নাফেরার দেশে পাড়ি দিলে পুরোপুরি একা হয়ে যান তিনি। সংসারে থাকতে অবলম্বন লাগে, অবলম্বন মানে মানুষএকান্তই আপন মানুষ। কিন্তু কেউ নেই। তাই জগৎসংসারকে তাঁর কাছে তুচ্ছ মনে হয়। কথায় আছে, খারাপ সময়ে পরপর খারাপ ঘটনা ঘটে। কবির ক্ষেত্রেও এটা ঘটেছে। পিতার মৃত্যুর মাসখানেক পর তাঁর যে প্রেমিকা হেলেন, তিনিও কবির সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান।

একদিন তাঁকে ডেকে বলেন, ‘আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। বাবা-মা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।’ প্রত্যুত্তরে কী বলেছিলেন হেলাল হাফিজ? তাঁর লেখা থেকে উদ্ধৃত করছি, ‘ছোটবেলা থেকে আমি খুব সহনশীল ছিলাম। প্রচণ্ড সহ্যশক্তি আমার। কথাটা শুনে ভেতরের ঝড় বুঝতে দিলাম না হেলেনকে। ওখান থেকে উঠে রিকশা নিয়ে চলে এলাম।’

জীবনে পরপর ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা কবি কাউকে বুঝতে না দিলেও ঘটনাদ্বয় ভেতরে- ভেতরে তাঁকে এলোমেলো করে দেয়। পিতার চলে যাওয়ায় কিছুই করার ছিল না তাঁর। কিন্তু হেলেন? যাঁকে ভালোবেসে সম্রাজ্ঞী করেছিলেন, তাঁকে কেন যেতে দিলেন, আটকাতে কি পারতেন না?

হয়তো পারতেন অথবা পারতেন না কিংবা কবিরা হয়তো এমনই। কবিতার বিশালতার মতো বিশাল হৃদয় দিয়ে তুমুলভাবে ভালোবেসেও জোর করে থেকে যাওয়ার দাবিটা শেষ পর্যন্ত করে উঠতে পারেন না। তাই কি কবি বলেছেন,‘ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্জ্বল’। নাকি কবির মতো এই ভাবনা তাঁদেরও, যাঁরা প্রিয় মানুষকে কাছে পেয়েছেন এবং তাঁদেরও, কবি না হয়েও যাঁরা প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন। পঙ্ক্তিটি মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার নেপথ্যের এই কি কারণ?

আবার ‘পৃথক পাহাড়’ শিরোনামের কবিতায় দ্বিধাহীন কণ্ঠে হেলাল হাফিজ যখন বলেন, ‘আমি আর কতটুকু পারি?/ এর বেশি পারেনি মানুষ।’ এ কথা কি কেবল কবির একার নাকি আমরা যারা কবির মতো করে বলতে পারি না, তাদেরও?

‘এখন তুমি কোথায় আছ কেমন আছ, পত্র দিয়ো। কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে/ কোন স্মৃতিটা উস্কানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে/ পত্র দিয়ো, পত্র দিয়ো।’ ‘প্রস্থান’ শিরোনামের এ কবিতার শেষে গিয়ে যখন কবি বলেন, ‘এক জীবনে কতটা আর নষ্ট হবে,/ এক মানবী কতটা আর কষ্ট দেবে’; তখন কথাগুলো কি সবার হয়ে যায় না? প্রিয় মানুষকে অনুভব করে এ উচ্চারণ কি কবির মতো সব প্রেমিকের নয়! সব প্রেমিকই তো এ কথা বলতে চায়।

শুধু প্রেম-ভালোবাসা-বিরহ নয়, জীবনের কঠিন কথাও সহজ ও সুন্দরভাবে বলেছেন হেলাল হাফিজ। বলেছেন, ‘একটা কিছু করুন/ এভাবে আর কদিন চলে দিন ফুরালে হাসবে লোকে/ দুঃসময়ে আপনি কিছু বলুন/ একটা কিছু করুন।’ এ কথাও কি তোমার-আমার-আপনার-আমাদের নয়?

এ ছাড়া ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও উপলব্ধি করা যায়, হেলাল হাফিজের ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’র বেশির ভাগ কবিতা কোনো না কোনোভাবে সবার হয়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণ হলো, কবির সহজভাবে বলে যাওয়া। সহজ কথা সহজ করে বলা কঠিন। তার চেয়ে কঠিন কবিতায় সবার কথা বলতে পারা। কবি ও কবিতার শক্তি এখানেই।

একমাত্র কবিতার মাধ্যমেই সবার কথা বলে ফেলা যায়। ‘আগুন পোড়ালে তবু কিছু রাখে/ কিছু থাকে/ হোক তা শ্যামল রং ছাই,/ মানুষে পোড়ালে আর কিছুই রাখে না/ কিচ্ছু থাকে না,/ খাঁ খাঁ বিরান, আমার কিছু নাই।’ ‘মানবানল’ শিরোনামের এ কবিতার মতো ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’র অধিকাংশ কবিতাতেই হেলাল হাফিজ সবার কথা বলতে পেরেছেন। এ কারণেই তিনি অনন্য। এ কারণেই তাঁর কবিতা সবার কবিতা এবং বহুল পঠিত তিনি।

‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থই হেলাল হাফিজকে দিয়েছে অসাম্য খ্যাতি। এরপর দীর্ঘদিন আর কোনো বই বের করেননি তিনি। ২০১২ সালে ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের কবিতার সঙ্গে কিছু কবিতা যুক্ত করে প্রকাশ করা হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। সবশেষ ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় তৃতীয় কবিতার বই ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। 

বাংলা সাহিত্যে হেলাল হাফিজ

একটি স্বাক্ষাৎকার

সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি হেলাল হাফিজ। মাত্র ২টি কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ও ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ৩৩টির বেশি মুদ্রণ হয়েছে। ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ সালে।

 প্রশ্ন: কবি হেলাল হাফিজ সম্পর্কে মানুষ জানেন, জানার কৌতূহল আছে। কিন্তু, আপনার পরিবার সম্পর্কে মানুষ জানেন না বা কম জানেন।

 হেলাল হাফিজ: পরিবার কী? আমার তো পরিবার নেই। আমি একা মানুষ। ছোটবেলায় আমার মা মারা যান। কিছুদিন পর বাবা আবার বিয়ে করেন। দুই ঘর মিলিয়ে আমাদের ৪ ভাই, ৩ বোন। তারা সব সময় আমার খবর রাখে। বোনরা একটু বেশি রাখে।

 প্রশ্ন: করোনা মহামারির এই সময় কিভাবে কাটছে, কোথায় থাকলেন?

 হেলাল হাফিজ: আমি তো ছিলাম সেগুনবাগিচায় কর্ণফুলী হোটেলে। গত ৯ বছর যাবত এই হোটেলে। ২০২০ সালের মার্চে সরকার যখন লকডাউন দেয় তখন হোটেল থেকে সব বর্ডার চলে যায়। আমি একা, কী একটা বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা বোঝানো যাবে না। কোথায় খাব, থাকবো! সে সময় আমার ভাই বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন। টেলিভিশনে দেখেছেন প্রেসক্লাব বন্ধ হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমার বড়ভাই তার মেয়েকে পাঠান। রিনি আমার ভাতিজী, গাড়ি দিয়ে হোটেল থেকে নিয়ে যায়। তারপর প্রায় মনে হতো- এই বুঝি আগামী মাসে খুলে দিবে। কিন্তু না- পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় না। এভাবে প্রায় ১৫ মাস কাটে ভাইয়ের বাসায়।

 প্রশ্ন: শোনা গিয়েছিল আপনি অসুস্থ ছিলেন?

হেলাল হাফিজ: হ্যাঁ, আমি অনেকদিন ধরেই কিছুটা অসুস্থ। মাঝে একটু বেশি অসুস্থ ছিলাম।

প্রশ্ন: জীবনের এই বয়সে এসে মৃত্যু চিন্তা হয়?

হেলাল হাফিজ: হয়। হবে না কেন? আগে হতো না। বিশেষ করে ২ দফায় অসুস্থ হওয়ার পর থেকে। বছর দুয়েক আগে ল্যাবএইডে ভর্তি ছিলাম ১৫ দিন। এবারও পিজিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলাম। তারপর কাগজে, নিউজে দেখে সিএমএইচ থেকে এক ডাক্তার ফোন দেন। তারপর বেবী মওদুদের ছেলে ফোন করেন। নিয়ে যান সিএমএইচে। পিএম'র নির্দেশে বা আদেশে।

প্রশ্ন: সেখানে কেউ আপনাকে দেখতে গেছেন?

হেলাল হাফিজ: অনেক মানুষ। এলাকার এমপি সাহেবও খোঁজ নিয়ে সরাসরি গেছেন সিএমএইচে। সে আমার গ্রামের। কবিতাপ্রেমী শিক্ষার্থীরা বেশি গেছেন।

প্রশ্ন: একা হোটেল জীবন কেমন?  

হেলাল হাফিজ: ভালোই তবে আমার ইচ্ছে দেহ দান করে দেওয়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজে লাগুক। আমি তাই চাই। কিন্তু, এটা তো চাইলেই হবে না। কাগজ করে দেওয়া দরকার। লিখে রেখে যেতে চাই।

প্রশ্ন:পরিবারের সদস্যরা মেনে নেবে?

হেলাল হাফিজ: পরিবার মানে- পরিবার কনসেপ্ট কিন্তু বউ-বাচ্চা, নাতি পর্যন্ত। কিন্তু, তা তো আমার নেই।

প্রশ্ন: ভাই-বোনরা?

হেলাল হাফিজ: মুখের কথা মানতেও পারেন, নাও পারেন। তার জন্য কাগজ করে রাখা দরকার।

প্রশ্ন:আপনার কবিতার লাইন 'আমার জীবন ভালোবাসাহীন গেলে কলঙ্ক হবে তোর'- তিনি কে?

হেলাল হাফিজ: সবাই জানে। আর কিছু বলার নেই।

প্রশ্ন: অসুস্থ হলে মনে হয় বিশেষ কেউ পাশে থাকলে ভালো লাগতো?

হেলাল হাফিজ: জীবনের এই শেষ বেলায় মন তো চায়, কেউ একজন পাশে থাকুক। এটা যতটা না শারীরিক, তার চেয়ে বেশি মানসিক।

প্রশ্ন:জীবনের কোনো অপ্রাপ্তি কাজ করে মনে? হাহাকার বা না পাওয়ার বেদনা?

হেলাল হাফিজ: কবিতায় একবার বলেছিলাম,বেঁচে আছি একা নিদারুণ সুখে। 

মানুষ যতই পায়, আরও থাকে চাহিদা। তৃপ্তি মিটে না। আবার কিছু কিছু মানুষ অনেক কিছুই না পেয়েও তৃপ্ত।

প্রশ্ন:আপনি কোন দলে?

হেলাল হাফিজ: আমি মনে হয় দুইটার মধ্যেই আছি। আমার মতো সৌভাগ্যবান কবি বাংলা সাহিত্যে নেই। এতো অল্প লিখে এতো ভালোবাসা কেউ পায়নি। আমার দুই বই মিলিয়ে ১০০ কবিতাও হবে না। তাও মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা, প্রাপ্তি আমায় মুগ্ধ করেছে। বাংলা সাহিত্যে তাকিয়ে দেখ, দ্বিতীয় কেউ নাই।

প্রশ্ন: আপনাদের সময়ে আবুল হাসানও অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি অকালে চলে গেছেন।

 হেলাল হাফিজ: হ্যাঁ, আবুল হাসান আমার বন্ধু। আবুল হাসান আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি। অর্থাৎ ষাটের দশকের শ্রেষ্ঠ কবি আবুল হাসান। নির্মলেন্দু গুণসহ আমরা যারা লেখালেখি শুরু করেছি আসাদ চৌধুরী সিনিয়র, রুদ্র আরও পরে। এর মধ্যে আবুল হাসানের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি ছিল। বাংলা সাহিত্যে সে গুরুত্বপূর্ণ কবি। বলা যায় মৌলিক ও জাত কবি।

প্রশ্ন: কিছুদিন আগে আমরা আপনাকে নিয়ে একটা লেখার শিরোনাম করেছিলাম 'প্রেমে ও বিপ্লবে প্রাসঙ্গিক হেলাল হাফিজ'। যথার্থ ছিল?

হেলাল হাফিজ: অবশ্য যথার্থ। প্রেম ছাড়া বিপ্লব হয় না। বিপ্লব ছাড়া প্রেম হয় না। পারস্পরিক যুক্ত। দেখবে একজন ছেলে মা-বাবার অমতে বা পরিবারের বিরুদ্ধে যে বেরিয়ে যায়, বিয়ে করে এটা এক ধরনের বিপ্লব। দেশের জন্য বিপ্লব করতে হলেও প্রেম দরকার।

 কবিতা 

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়- 

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

মিছিলের সব হাত কণ্ঠ

পা এক নয় ।

সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,

কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।

কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার

শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে

অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে

অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,

কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে

কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।

যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান

তাই হয়ে যান

উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।

যেভাবে লেখা হলো ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’

কালজয়ী এই কবিতা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কীভাবে লেখা হয়েছিল এ কবিতা, কেমন করে সেটি ছড়িয়ে গেল? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ নামে বিখ্যাত এই কবিতার রচয়িতা হেলাল হাফিজের মুখে। 

দীর্ঘ ৫৩ বছরের বেশি সময় ধরে একটি কবিতা এ দেশের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। কবিতাটির প্রথম দুই পঙ্ক্তি, ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ প্রেরণা জুগিয়েছিল উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধীসহ প্রগতিশীল সব আন্দোলনে। বলছি কবি হেলাল হাফিজের লেখা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ শিরোনামের কবিতাটির কথা।

কীভাবে লেখা হয়েছিল বিখ্যাত এই কবিতাখানি?

প্রশ্ন করতেই হেলাল হাফিজ ফিরে গেলেন উনসত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে, ‘উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থান যে কতটা সর্বগ্রাসী ও সর্বপ্লাবী ছিল, সেটা যাঁরা না দেখেছেন, তাঁদের বোঝানো দুষ্কর। তো গণঅভ্যুত্থান চলাকালে একদিন সন্ধ্যায় আমি পুরান ঢাকা থেকে ইকবাল হলে (এখন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ফিরছিলাম। তখন আমি বাংলা অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ায় আমার রিকশাটি থামল। সেখানে তখন সমানে মিছিল চলছে। ইপিআর (এখন বিজিবি) ও পুলিশ মিছিলকারীদের পেটাচ্ছে, ধাওয়া দিচ্ছে। মিছিল থেকেও ছোড়া হচ্ছে ইটপাটকেল। এর মধ্যে বয়স্ক এক রিকশাচালক বয়স্ক বলে উঠলেন, “মার, মার শালাদের। প্রেমের জন্য কোনো কোনো সময় মার্ডারও করা যায়।” রিকশাওয়ালারা মাঝেমধ্যে টুকটাক ইংরেজি শব্দও বলে। কথাটা আমার মগজে ও মনে গেঁথে গেল। আসলেই তো তাই! দেশপ্রেমের জন্যও তো মার্ডার করা যেতে পারে। ওই ঘটনা থেকেই কবিতাটির জন্ম।’

পুরোনো দিনের স্মৃতি খুঁড়ে কবিতার জন্মকথা শোনাচ্ছিলেন কবি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তারপর কী হলো? কবিতাটি মানুষের হয়ে উঠল কীভাবে? 

‘আহমদ ছফা আর হুমায়ূন কবির-এই দুজন আমাকে তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান-এর সাহিত্য সম্পাদক কবি আহসান হাবীবের কাছে নিয়ে গেলেন। কবিতাটা হাবীব ভাইয়ের হাতে দিয়ে তাঁরা বললেন, ‘হাবীব ভাই, এ আমাদের এক তরুণ কবি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়ে।’ হেলাল হাফিজের চোখে এখন সমস্যা আছে, তবে স্মৃতি যে খুবই তরতাজা, বোঝা গেল তাঁর কথা থেকেই, ‘আহসান হাবীব কবিতাটা পড়লেন। আমার দিকে তাকালেন। অবাক চোখে দেখছেন আমাকে। আমার তখন কীই-বা বয়স। একবার পড়া শেষে হাবীব ভাই আরও এক-দুবার পড়লেন। পরে ছফা ভাইকে বললেন, ‘এই কবিতা আমি দৈনিক পাকিস্তান-এ ছাপতে পারব না। দৈনিক পাকিস্তান সরকারি কাগজ। আর এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লেখা। সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান জানানো হয়েছে এই কবিতার মাধ্যমে। এটা ছাপলে আমার চাকরি তো যাবেই, কাগজটাও বন্ধ হয়ে যাবে, আরও কতকী যে হবে! তাই আমি কবিতাটা ছাপতে পারলাম না। তবে হেলালের আর কবিতা না লিখলেও চলবে।’

এর পরের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। আহসান হাবীব যখন কবিতাটি ছাপতে পারলেন না, তখন এক রাতে আহমদ ছফা ও হুমায়ূন কবিরএই দুই মিলে কবিতাটির প্রথম দুই লাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে দিলেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এত ভবন ছিল না। মূলত কলা অনুষদ ও কার্জন হল। মাত্র দুই রাতেই গোটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে স্লোগান হিসেবে এই পঙ্ক্তি ছেঁয়ে গেল, ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।’

চিকা মারা কী, তা নিয়ে মজার কথা বললেন ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’-এর কবি, ‘এখনকার প্রজন্ম অবশ্য চিকা মারা কী, সেটার মর্ম বুঝতে পারবে না। গভীর রাতে ভীতিকর পরিবেশে দেয়াললিখনরত তরুণদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘ তোমরা কী করছ?’ উত্তরে ওরা বলেছিল, “চিকা (ছুঁচো) মারছি।” সেই থেকে দেয়াললিখনের কাজকে বলা হতো চিকা মারা।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কবিতা রণাঙ্গনের মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। স্বাধীনতার পরে, বিশেষত যাঁরা বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন,হক, তোয়াহা ও সিরাজ সিকদারের দল, তাঁরা কবিতাটিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে শুরু করলেন। ‘কবিতাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছিল। এরপর এই একটি কবিতাই আমার জীবনধারা আমূল বদলে দিল।’

 হেলাল হাফিজের জীবনে কবিতাটি কী বদল ঘটিয়েছিল, তা–ও খোলাসা করলেন তিনি, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তা-করিডর দিয়ে চললেই ছেলেমেয়েরা আঙুল দিয়ে আমাকে দেখিয়ে বলত, ‘ওই যে কবি হেলাল হাফিজ যায়, দ্যাখ! দ্যাখ!’অনেক সময় আমার নাম না নিয়ে এটাও বলত যে এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। মোটকথা, যেখানেই যাই, একটু অতিরিক্ত পাত্তা পাই। রোজ দুপুরে আমাকে কে খাওয়াবে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। আমাকে কোনো বিল দিতে হয় না।’

 দেয়াললিখন হিসেবে এ কবিতার প্রথম দুই চরণ প্রচারিত হওয়ার পর ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় একটি ছোট কাগজে। সে কাগজের নাম এখন আর বয়োবৃদ্ধ হেলাল হাফিজের মনে নেই। তিনি বললেন, ‘সেকালে একুশে ফেব্রুয়ারির সময় প্রচুর লিটল ম্যাগাজিন বের হতো। তার কোনো একটিতে।’

কবিতাটি ইংরেজি, হিন্দি, জার্মান, ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। অনেকেই এটি আবৃত্তি করেছেন। গোটা তিনেক গানও হয়েছে, এসব তথ্য দিতে দিতে কবি বললেন ভিন্ন কথা, ‘গানের সুরগুলো যে আমার মনমতো হয়েছে, তা না। আসলে কবিতাটা তো স্লোগানধর্মী।’

না, এটুকু বলেই থামলেন না বর্তমানে অসুস্থ হেলাল হাফিজ। যেন আরও কিছু বলার দায় আছে,এমনভাবে তাঁর মুখে শোনা গেল, ‘আমি বেসিক্যালি যুদ্ধবিরোধী লোক। কিন্তু আমার হাত দিয়েই বেরোল এই কবিতা। সেকালে বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ছিল দুটো,একটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বাসভবন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোড এবং দ্বিতীয়টি ইকবাল হল। এই হলে তখন থাকতেন সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখনের মতো ডাকসাইটে ছাত্রনেতারা। আমি তাঁদের অমূল্য স্নেহ পেয়েছি। সে-ও এই কবিতার বদৌলতেই বলতে পারো।’ 

জীবনসায়াহ্নে এসে আপনি কি এমন পঙ্ক্তির কবিতা আর লিখবেন?এবার হেলাল হাফিজের কথা ছিল, ‘এখন যৌবন যার...” এই দ্যুতিময় পঙ্ক্তির যিনি স্রষ্টা, তিনি চিরনবীন। বাস্তবে তাঁর বয়স যতই হোক না কেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যত দিন সমাজে অন্যায়-উৎপীড়ন, অনিয়ম-অনাচার থাকবে, এই পঙ্ক্তিমালাকে আশ্রয় করে প্রতিবাদী কিছু মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে।’

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । [email protected], বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.