× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এখন থেকে দেশের বিমানবন্দরেই হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশনের সব প্রসেস: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আবদুল মজিদ

০৭ জুন ২০২২, ১৭:৩৫ পিএম । আপডেটঃ ০৭ জুন ২০২২, ১৯:০১ পিএম

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান

৪১০ বাংলাদেশি হজযাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট গত রোববার সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। সে সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বিমানবন্দরে হজ যাত্রার উদ্বোধন করেন। ফ্লাইটটি জেদ্দায় পৌঁছেছে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে।

গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী তার কার্যালয়ে এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার উপর দৈনিক সংবাদ সারাবেলাকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন সংবাদ সারাবেলার সম্পাদক আবদুল মজিদ।

সাক্ষাৎকারে হজ ব্যবস্থাপনা, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কেন কম সংখ্যক হজযাত্রী ও হজ করতে যাওয়ার ব্যয় কেন বাড়লো ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকারটি নিম্নে তুলে ধরা হলো:

আবদুল মজিদ: এ বছর পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশিদের মধ্যে কেমন আগ্রহ দেখেছেন এবং বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা কেমন ছিলো বলে আপনার মনে হয়?

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: স্বাভাবিকভাবেই সব ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদেরই পবিত্র হজ পালন করতে মন চায়। কার না মন চায়? একজন মুসলমান ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি জীবনে একবার হলেও পবিত্র হজ পালন করতে চান। যাদের ওপর হজ পালন ফরজ তারা অন্তত একবার হজ পালনের মধ্য দিয়ে আত্মিক প্রশান্তি অর্জন করতে চান। অতীতে এমনটাই দেখে এসেছি। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। 

বিগত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয় সারাবিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষ হজে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া, গত দুই বছর মানুষ হজে যেতে না পারলেও এই বছর হজ পালনের সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছে। এর জন্য আলহামদুলিল্লাহ!

গত রোববার ৪১০ জন বাংলাদেশি নিয়ে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদিতে পৌঁছেছে। আল্লাহ তাদেরকে সুন্দরভাবে হজ পালনের তৌফিক প্রদান করুক, তাদের হজ কবুল হোক। হজ শেষে তারা যেনো সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেন সেটাই কামনা করি।

এবার আসি হজ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে। আপনারা জেনে থাকবেন, ‘রুট টু মক্কা’ ইনিসিয়েটিভের আওতায় আমাদের ঢাকা রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যেসব বাংলাদেশি সৌদিতে হজ করতে যাবেন তাদেরকে সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই ‘রুট টু মক্কার’ আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ তাদের ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য সব প্রসেস দেশের বিমানবন্দেরেই হবে। এখান থেকে যাত্রা করার পর তাদেরকে আর কোথাও ইমিগ্রেশন ফেস করতে হবে না।  এই প্রসেসিংটা এ ভচর থেকেই আমরা চালু করেছি।

আবদুল মজিদ: আপনি বলতে চাচ্ছেন ইমিগ্রেশনের সব প্রসেস ঢাকাতেই হবে?

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: হ্যা, সব প্রসেস হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরেই হবে। শুধু এটাই নয়, আমাদের সাথে সৌদি সরকারের যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে ওই চুক্তি অনুসারে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার এবং  বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন, সর্বমোট ৫৭,৫৮৫ জন বাংলাদেশি পবিত্র হজ পালন করতে মক্কা যাবেন। 

আর হজযাত্রার ব্যয়ের বিষয়ে যেটা বলতে চাই তা হলো, হজযাত্রার বিমান ভাড়া, সৌদি আরবে যাওয়ার পর ওখানকার বাড়ি ভাড়া, সার্ভিস ফি, মোয়াল্লেম ফি, জমজমের পানি খরচ, খাবার খরচ ও অন্যান্য ফি হিসাব করে ২০২২ সালের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য দুইটি প্যাকেজ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার এজেন্সি সমূহের জন্য একটি প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে প্রস্তাব মোতাবেকই আমরা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। 

প্রতি বছর সৌদি সরকার হজযাত্রীদের জন্য জনপ্রতি কত টাকা খরচ পড়তে পারে সে বিষয়ে একটি সম্ভাব্য খরচের বিবরণী প্রদান করে। কিন্তু এবার সৌদি সরকার ওই বিবরণ দিতে বিলম্ব করেছে। তাই আমাদেরকেও ওই সম্ভব্য খরচ হজযাত্রীদের কাছে তুলে ধরতে সময় লেগেছে। 

আবদুল মজিদ: আপনি নিজেই বললেন যে, হজযাত্রায় অন্যান্য বারের চেয়ে এবার খরচ বেশি বলে হজযাত্রীরা মনে করছেন। আপনার কি মনে হয়, এই ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই কি হজযাত্রীর সংখ্যা এবার কমেছে নাকি অন্যকোনো কারণে কমেছে?

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: না! না! না! অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার হজযাত্রী কমেছে, এ কথাটি সত্য নয়। যেমন, ২০১৯ সালে এক লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি সৌদিতে পবিত্র হজ পালন করতে ঢাকা থেকে মক্কা গিয়েছিলেন। সে সময় কোভিড ছিল না। এবার করোনা মহামারির কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে সৌদি সরকার নির্ধারন করেছে, ৬৫ বছরের বেশি কোনো হজযাত্রী হজ করতে যেতে পারবেন না। এ কারণে হজযাত্রীর সংখ্রা কমেছে। আর এখানে ব্যয়ের বিষয়টিও আবার সামনে চলে আসে। ধরেন, আগে সৌদিতে যাওয়ার পর বাংলাদেশিরা একটি ঘরে চারজন করে অবস্থঅন করতে পারতেন। এবার কিন্তু করোনার কারণে তা সম্ভব নয়। এ কারণে হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া বা হোটেল ভাড়া বেড়েছে। সৌদি সরকার কোভিড ১৯ মহামারির কারণে স্বাস্থ্যসেবার মানটা উন্নয়ন করেছেন। তারা কঠোরভাবে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়িয়েছেন। এ কারণে সেখানে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি অনেক কঠোর। এ কারণেই আমাদের হজযাত্রী কমেছে। তবে হজ যাত্রীদের সংখ্যাটা কমেছে। এটি সত্য। 

আবদুল মজিদ: প্রতিবারই হজযাত্রীদের সৌদিতে যাওয়া নিয়ে, ফ্লাইট মিশন ম্যানেজমেন্ট ও ফ্লাইট সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে থাকে। এই বিষয়গুলো নিয়ে হজযাত্রীরা প্রায়ই বিভিন্ন রকম সমস্যা সম্মুখীন হন, এ বিষয়গুলো আমরা আগে শুনেছি। এবার হজ ফ্লাইটের টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সমন্বয়ের য়ে বিষয়টি থাকে সে বিষয়টি এবং ফ্লাইট সময়মতো ছাড়া সম্ভব হবে কিনা এবং তারা সৌদিতে সময়মতো পৌঁছাতে পারবেন কিনা, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: গত রোববার বাংলাদেশ থেকে সময়মতো হজের প্রথম ফ্লাইট যাত্রা করেছে এবং সৌদিতেও সময়মতো ফ্লাইটটি পৌঁছেছে। আর প্রথম ফ্লাইটটি ৩১ মে রওনা দেওয়ার কথা ছিলো। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ৫ জুন প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনার কথা বলা হয়েছিলো। তাই ৫ জুন প্রথম হজ ফ্লাইট ছাড়া হয়েছে। এখন থেকে পরবর্তী ফ্লাইট সময়মতো ঢাকা ত্যাগ করবে এবং সৌদিতেও ইনশাল্লাহ সময়মতো পৌঁছাবে। 

আবদুল মজিদ: আমি জানতে চাচ্ছি, হজের ফ্লাইট পরিচালনায় বিগতবারের তুলনায় এবার আরও পরিপক্ক ও গোছারো হয়েছে কিনা।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: হজে ফ্লাইটের সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা অবশ্যই আগের তুলনায় এবার আরও বেশি উন্নত হয়েছে এবং সেটি সামনে আরও বেশি উন্নত হবে। কেননা, পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে সবর্ত্র বাংলাদেশে এখন ডিজিটালাইযেশন চলে এসেছে। এর ধারাবাহিকতায় হজ ব্যবস্তাপনায়ও ডিজিটালাইজড হচ্ছে। আগে  ভিসা পেতে সাত ৭ দিন সময় লাগতো এরপর ৫ দিন সময় লাগতো আর এখন ভিসা করার জন্য আমাদের যে পাসপোর্ট আছে সে পাসপোর্ট আর পাঠাতে হয় না। ই-পাসপোর্টের সিস্টেমেই কাজটা শুরু হয়েছে। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবেই ভিসা হয়ে যাচ্ছে। যখন আমরা ভিসার জন্য সৌদিতে আমরা পাসপোর্ট প্লেস করি তখন তাৎক্ষণিকভাবে ভিসাটা বের হয়ে আসছে। এই সিস্টেম করার কারণে আজকে হজযাত্রীদের অনেক ভোগান্তি কমেছে। সবকিছু একটা সিস্টেমের মধ্যে চলে এসেছে। সামনে সব প্রক্রিয়া আরও ডিজিটালাইজড হবে, আরও গোছানো হবে। হজ ব্যবস্থঅপনা আরও সুন্দর হবে।

আবদুল মজিদ: অতীতে হজযাত্রীদের সৌদিতে যাওয়া নিয়ে বিড়ম্বনার অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো- হজ এজেন্সিদের কার্যক্রমের মধ্যে নানা ধরণের অস্বচ্ছতা বিরাজ করা। এখন থেকে হজ এজেন্সিগুলোর সাথে মন্ত্রণালয় কিভাবে কাজ করছে?

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: আপনারা জেনে থাকবেন, ২০২১ সালে হজ আইন পাশ হয়েছে। সে আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে, কোনও হজযাত্রীর যদি মনে হয় তার সাথে কোনও হজ এজেন্সি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে বা অন্যায় করছে তিনি যদি অভিযোগ করেন এবং তার অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় তাহলে ওই এজেন্সিকে ওই হজযাত্রীকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করতে হবে এবং ওমরাহ হজের জন্য ২০ লাখ টাকা জরিমানা করতে হবে। 

এজেন্সিগুলো যদি কোনও অসাধু কর্মকাণ্ড করে আর হজ যাত্রীরা যদি বিরক্ত হয়ে মামলা দায়ের করেন সেক্ষেত্রে সরকার ওই এজেন্সিকে এই শাস্তি স্বরূপ সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। 

সে কারণে এখন যেসব হজ এজেন্সি রয়েছে তারা আগের চেয়ে অনেক সজাগ হয়েছে এবং সুন্দরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছে।

আবদুল মজিদ: এখন পর্যন্ত কোনও এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে কি?

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী: এখন পর্যন্ত এরকম কোনো অভিযোগ আসেনি। গত শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করার সময় তারা বলেছেন, ‘এবারের মতো এতো সুষ্ঠু ও সুন্দর হজ ব্যবস্থাপনা তারা অতীতে দেখেননি ও শুনেননি। 

এটাই আমাদের কাছে বড় পাওয়া। তবে ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’। তাই শেষ পর্যন্ত দেশের সব হজযাত্রীরা মক্কা থেকে হজ করে সুস্থভাবে দেশে ফিরতে পারেন সেই দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সফল হওয়ার তৌফিক দান করুক।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.