× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গ্যাস-বিদ্যুতে কেন ভর্তুকি দেব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:২৩ এএম । আপডেটঃ ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:২৫ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করি তা উৎপাদন করতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয় ১২ টাকা। বিপরীতে আমরা নিচ্ছি ৬ টাকা। তাতেই অনেক কথা শুনতে হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে বিদ্যুতের দাম ১৫০ শতাংশ বেড়েছে, এটা সবার মনে রাখতে হবে। আমরা সেই পর্যায়ে যাইনি। গ্যাস, বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া যাবে যদি খরচ যা হয় সেটা সবাই দেয়। কত ভর্তুকি দেওয়া যায়? আর এই ক্ষেত্রে কেন ভর্তুকি দেব? ভর্তুকি দিচ্ছি আমরা কৃষিতে, খাদ্য উৎপাদনে। 

রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিডার চেয়ারম্যান, সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমারা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত করতে চেয়েছিলাম। অত্যন্ত সফলভাবে সেটা আমরা করতে পেরেছি। তিনি বলেন, আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি। আমরা বিদেশি বিনিয়োগ চাই, তার সঙ্গে সঙ্গে চাই আমাদের দেশের যুব সমাজ নিজেরাই বিনিয়োগকারী হবে। আমাদের যুব সমাজের জন্য স্টার্টআপ প্রোগ্রাম করে দিয়েছি। সেজন্য আলাদা বাজেটও আছে। কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে এক ব্যক্তি কোম্পানি করতে পারে সেই ব্যবস্থাটাও আমরা নিয়েছি। যাতে আমাদের নিজেদের ছেলেমেয়েরা উঠে আসতে পারে। 

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রেখে গিয়েছিলাম। ২০০৯ সালে এসে দেখলাম সেটা কমে ৩০০০ মেগাওয়াটের দিকে নেমে গেছে। আমি জানি না কোনো দেশ পেছনের দিকে যায় কি না। আজকে দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের প্রত্যক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব, আমরা পৌঁছে দিয়েছি। 

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জেনারেটরের ওপর যে ট্যাক্স ছিল, সেটা আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। প্রতিটি ছোট কোম্পানি যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে সে ব্যবস্থাও করেছিলাম, যাতে নিজেরা উৎপাদন করে নিজেরা ব্যবহার করে, আবার অন্যদের দিতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে ভালোভাবে চলে, বিনিয়োগ আসে সেই চেষ্টা আমরা করি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মৎস্য ভবনের একটি ফ্লোরে একটি অফিস ছিল। আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাই। বিদেশিরা আসবে, দেখবে, বিনিয়োগ করবে। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আলাদা একটি ভবন করে দেব। সেখানে যারা কাজ করবেন তারা যেন মনের শান্তিতে কাজ করতে পারেন। 

করোনার সময় বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা চালু থাকে সেজন্য এ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনা দেওয়ার ফলে অর্থনীতির গতি সচল রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশ এখন ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পারে। বাঙালি পারে। একটা চ্যালেঞ্জ ছিল পদ্মা সেতু নিয়ে। এ সেতু তৈরিতে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। আমি বলেছিলাম নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু করব, করেছি। জনগণ আমাকে সমর্থন করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতি যত উন্নত হবে এবং মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে, দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে। কাজেই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। 

শেখ হাসিনা বলেন, করের হার নয়, করদাতার সংখ্যা বাড়াতে চায় বর্তমান সরকার। 

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। যার হাওয়া আমাদের দেশেও লেগেছে। এজন্য করহার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। এতে অর্থনৈতিক চাপ কমবে। 

তিনি বলেন, শুধু সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ী না, প্রধানমন্ত্রীকেও কর দিতে হবে, সংসদ সদস্যদের কর দিতে হবে। নিজেরা আগে কর দিলে তবেই সবাই কর দিতে উৎসাহিত হবে। 

তিনি বলেন, মানুষকে জানাতে হবে, বুঝাতে হবে যে আপনি যে কর দেন তা আপনার কাজেই লাগে। আজকে দেশের যে উন্নয়ন তার সবই হয়েছে করের টাকায়। তাই যারা এই সুফলটা ভোগ করছেন তাদের তো কিছু না কিছু দিতে হবে। রাষ্ট্র তো আর সব নিজ থেকে দিতে পারবে না। কর ফাঁকির বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা কর ফাঁকি দেন, বা দেয়ার চিন্তা করেন তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। কর দেয়ার পদ্ধতি ডিজিটাল হয়ে গেলে সেটা আর পারবেন না। তিনি আরও বলেন, এখন মানুষের হাতে টাকা বেড়েছে। ফলে উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে করদাতা মানুষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই প্রচার বাড়াতে হবে, মানুষকে সচেতন করতে হবে যে, আপনি যে সেবাটা ভোগ করছেন তা আপনাদের টাকায়। সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে কর দিলে সামনে সেবা আরও ভালো পাবেন।

রাজস্ব বোর্ড দেশের ৮৬ শতাংশের বেশি কর আহরণ করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে স্মার্ট দেশে রূপান্তরিত করতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য। রাজস্ব বোর্ড দেশের ৮৬ শতাংশের বেশি আহরণ করেছে। সামনে আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে আনছে সরকার। ভর্তুকি দিয়ে কমমূলে আমরা দেশের মানুষকে দিচ্ছি। কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছি। করোনার সময়ে আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। সরকার যাতে রাষ্ট্র চালাতে পারে সেদিকে মানুষকে দৃষ্টি দিতে হবে। যাতে মানুষের কষ্ট না হয় সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি। রাজস্ব আয় বাড়াতে কাজ করতে হবে। মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যত বাড়বে, দেশ ততো এগিয়ে যাবে। রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন ভবন করে দিয়েছি। সেই ভবনে বসে বেশি বেশি রাজস্ব আহরণে কাজ করবেন।


আরও পড়ুন

সক্ষম সবাইকে কর প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । [email protected], বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.