× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এবার ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিল বাংলাদেশ

২৫ মার্চ ২০২২, ১০:৫৪ এএম

রাশিয়ার আক্রমণে কার্যত নরকে পরিণত হয়েছে ইউক্রেন।  যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রমের সুযোগ দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের বিশেষ জরুরি অধিবেশন প্রস্তাবটি ১৪০ ভোটে পাস হয় বলে জানিয়েছে ইউএন নিউজ।

সেই সঙ্গে ঠিক এক মাস আগে শুরু হওয়া রুশ আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেনে যে গুরুতর মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, সেজন্য রাশিয়ার সমালোচনা করা হয় ওই প্রস্তাবে।   

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ইউক্রেনের তোলা ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪০টি দেশ। রাশিয়া, বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া ও সিরিয়া- এই পাঁচটি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ৩৮টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরির পর্যায়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল ৬৭ দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার আনা আরেকটি প্রস্তাবের ওপরও ভোটাভুটি হয়েছিল, যেখানে রাশিয়ার নামই আনা হয়নি। শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট ভোট না পাওয়ায় সেটি আর চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে যায়নি।  

বাংলাদেশের আগের অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ওই প্রস্তাবের লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার সমালোচনা করা, যুদ্ধ বন্ধ করা নয়।

“আপনি যদি প্রস্তাবটা পড়েন, দেখবেন যে সেখানে যুদ্ধের অবসান চাওয়া হয়নি। ওটা ছিল কাউকে দোষারোপ করার জন্য।

“আমরা শান্তি চাই, সেজন্য আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমরা। যুদ্ধের সপক্ষে আমরা ভোট দিইনি।” 

২০১৪ সালে রাশিয়া সামরিক অভিযান চালিয়ে ইউক্রেইনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেওয়ার পর থেকে যুক্তরষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ইউক্রেইন।

ওই সময় থেকে গত আট বছরে ইউক্রেইনের পূর্ব সীমানের দনবাস অঞ্চলে রাশিয়া সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় সেনাদের লড়াইয়ে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দেশের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইউক্রেইনকে তাদের নেটোতে যোগ দেওয়ার আশা ত্যাগ করতে বললে উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে গত বছরের শেষ দিকে। শেষ পর্যন্ত গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া, পুতিনের ভাষায় যা হল ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেইনের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা বলে আসছে বাংলাদেশ। সরকারের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছে সব পক্ষকে। ‘সংযম’, ‘কূটনীতি’, ‘আলোচনা’ এসব শব্দ ব্যবহার করে উত্তেজনা প্রশমনের কথা বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।     

দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ ভারত এখন পর্যন্ত সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা করেনি কিংবা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানায়নি। গত ২ মার্চের মত বৃহস্পতিবারও তারা জাতিসংঘে ভোটদানে বিরত ছিল। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানও একই পথে হেঁটেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড সম্প্রতি তার বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফরে ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রসঙ্গও তোলেন।  


Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.