মাগুরার
চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায়
সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকা
মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন
দমন ট্রাইব্যুনাল। আজ (৬ মে) মামলার
সাক্ষ্যগ্রহণের সপ্তম দিনে এই আদেশ দেন
ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) এম জাহিদ হাসান।
আদালত
আগামীকাল বুধবার (৭ মে) আবারও
সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। এর আগেও ওই
দুই চিকিৎসক আদালতে উপস্থিত হননি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জারি করা হলো। এ পর্যন্ত মামলায়
মোট ২৭ জন সাক্ষীর
সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মামলার
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী শিশু
নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনিরুল ইসলাম মুকুল জানান, আজ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য
ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মমতাজ আরা এবং ডা. দেবীকা রায়কে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তারা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিচারক আগামীকালকের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এর আগে দুবার
সমন জারির পরও তারা আদালতে না আসায় আজ
তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
গত ১৩ এপ্রিল মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২৩ এপ্রিল আসামিদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রসঙ্গত,
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রাম থেকে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে আট বছর বয়সী
শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে
হত্যার চেষ্টাও করা হয়। গত ৬ মার্চ
বেলা সাড়ে ১১টায় অচেতন অবস্থায় তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ১৩ মার্চ দুপুরে
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। ওই দিন সন্ধ্যায়
হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ মাগুরায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।