ছবিঃ সংগৃহীত।
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছে বর্তমান উপদেষ্টা সরকার। এসব ধারাকে ‘কুখ্যাত’ হিসেবে অভিহিত করে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, এই ধারাগুলোতে বিগত সরকার আমলে দায়ের হওয়া ৯৫ শতাংশ মামলাই এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
আজ (৬ মে)
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে
এসব তথ্য জানান ড. নজরুল। তিনি
বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলেছিলাম, এই আইন বাদ
যাবে। এখন আমরা একটি নাগরিকবান্ধব, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও প্রযুক্তি-সমন্বিত
আইন প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছি।
এর
আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, নতুন আইনটি প্রয়োগযোগ্য রূপ পাবে এই সপ্তাহেই।
নতুন
আইনে আগের বিতর্কিত বিধানগুলো বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংগীত ও পতাকা নিয়ে
বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের
বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান। এসব ধারায় অতীতে সাংবাদিক ও মতপ্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক
মামলা হয়েছিল। একইসঙ্গে মানহানি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন বক্তব্য এবং মিথ্যা ও আক্রমণাত্মক তথ্য
প্রচারের ধারা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।
আইন
উপদেষ্টা বলেন, আমরা সমালোচকদের সঙ্গে ২৫ বার খসড়া
সংশোধন করেছি। এমনকি তিন ঘণ্টা ধরে একসঙ্গে বসে এই আইন চূড়ান্ত
করেছি। এটি কোনো একপাক্ষিক কাজ নয়।
নতুন
আইনে স্পিচ অফেন্স বা মতপ্রকাশের মাধ্যমে
অপরাধের সংখ্যা সীমিত করে মাত্র দুটি অপরাধ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে— নারী ও শিশুদের যৌন
নির্যাতনমূলক কনটেন্ট এবং ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো। ধর্মীয় ঘৃণার সংজ্ঞা কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কেউ এই ধারার অপব্যবহার
করে হয়রানি করতে না পারে।
উল্লেখযোগ্য
পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধকরণ এবং সাইবার জগতে নারী ও শিশুদের যৌন
হয়রানি ও নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য
অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা। এছাড়াও, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে সংঘটিত সাইবার অপরাধকেও অপরাধ হিসেবে আইনে সংযোজন করা হয়েছে।
নতুন
আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ আদালতে গেলে বিচারক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
তা গ্রহণযোগ্য কি না, তা
মূল্যায়ন করতে পারবেন। মামলা গ্রহণযোগ্য না হলে, তা
প্রি-ট্রায়ালেই বাতিল করা যাবে।
নতুন
কাঠামো অনুযায়ী, সাইবার সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা কার্যকর করা হবে। তবে অপসারণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আদালত অনুমতি না দিলে কনটেন্টটি
পুনঃপ্রকাশ করতে হবে। তবে আদালত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
অপসারণের পক্ষে রায় দিলে তা কার্যকর থাকবে।
এ নিয়ে জনগণকে জানানো বাধ্যতামূলক থাকবে।
সংবাদ
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং যুব ও ক্রীড়া ও
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2025 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh