× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অভিবাসী-কেন্দ্রিক রিপোর্টিং বিষয়ে সিএমএস এবং আইএলও এর গণমাধ্যম অ্যাডভোকেসি কর্মসূচি

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৯ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (CMS) যৌথভাবে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট হলে সকাল ১১:০০টা অভিবাসী-কেন্দ্রিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন বিষয়ক একটি অ্যাডভোকেসি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। এই কর্মসূচিতে নৈতিক ও অধিকারভিত্তিক গণমাধ্যম চর্চা, অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান স্বীকৃতি, পাশাপাশি তাদের পুনঃএকত্রীকরণ ও সুরক্ষা চাহিদার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

এই আয়োজনে নির্বাচিত সাংবাদিক, শিক্ষক-গবেষক, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও সংবেদনশীল গণমাধ্যম প্রতিবেদন জোরদার করা, বিশেষ করে প্রত্যাবর্তী অভিবাসী শ্রমিক এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল রিপোর্টিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা।

কর্মসূচির সূচনা হয় CMS ও SIPG-এর পরিচালক অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম. হক এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খানের স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে। অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম. হক একাডেমিয়া, গণমাধ্যম, ILO ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রমাণভিত্তিক অভিবাসন নীতি প্রণয়ন ও দায়িত্বশীল জনসংলাপ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অপরদিকে রাহনুমা সালাম খান অভিবাসী-কেন্দ্রিক ও প্রমাণভিত্তিক গণমাধ্যম সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, অভিবাসন, পুনঃএকত্রীকরণ ও অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে নৈতিক সাংবাদিকতাকে সংবেদনশীলতা নির্ভর প্রতিবেদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে কাঠামোগত বাস্তবতা, নীতিগত প্রেক্ষাপট এবং অভিবাসী ও প্রত্যাবর্তী শ্রমিকদের জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে হবে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর নাসার ইউ. আহমেদ উদ্বোধনী বক্তব্যে কর্মসূচির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন এবং অভিবাসন শাসনব্যবস্থা বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক সংলাপ ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নীতিনির্ধারণ-সম্পর্কিত জ্ঞান উৎপাদন ও দায়িত্বশীল জনসংলাপের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে হবে।

“একবিংশ শতাব্দীতে অভিবাসন” শীর্ষক একাডেমিক প্রতিফলন উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এবং সিএমএসের সমন্বয়ক ড. সেলিম রেজা। তিনি শ্রম অভিবাসনকে বৈশ্বিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শাসন কাঠামোর বৃহত্তর রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেন এবং বলেন, বৈষম্য, ভূরাজনীতি ও উন্নয়ন বৈষম্য অভিবাসনের গতিপথকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

পরবর্তীতে রাহনুমা সালাম খান শ্রম সংস্কার, শ্রম ইশতেহার, অভিবাসন প্রবণতা ও চালিকাশক্তি, এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রেক্ষাপটে অভিবাসন ও পুনঃএকত্রীকরণের গুরুত্ব বিষয়ে একটি বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই পুনঃএকত্রীকরণ কেবল সামাজিক ইস্যু নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, যার জন্য সমন্বিত নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং জনসচেতনতা প্রয়োজন।

অধিকারভিত্তিক সাংবাদিকতা বিষয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য আসিফ মুনীর। তিনি অভিবাসী-কেন্দ্রিক সাংবাদিকতার ভালো চর্চা তুলে ধরেন এবং অভিবাসন ও প্রত্যাবর্তন বিষয়ে স্টিগমা, ভুল তথ্য ও ঘাটতি-ভিত্তিক (deficit-driven) বর্ণনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকতাকে অবশ্যই অভিবাসী শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা ও অধিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে হবে।

প্রশ্নোত্তর, প্রতিফলন ও গণমাধ্যম দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ক সেশনটি পরিচালনা করেন ILO-এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মুইদ, যেখানে গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। 

পুরো কর্মসূচিজুড়ে আলোচনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের নানা দুর্বলতার বিষয় তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক সুরক্ষার সীমিত প্রবেশাধিকার, জীবিকায় পুনঃপ্রবেশের সংকট এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার অভাব, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে। অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, নৈতিক, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অধিকারভিত্তিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন স্টিগমা দূর করতে, অভিবাসীদের কণ্ঠকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতে এবং টেকসই পুনঃএকত্রীকরণ ও সামাজিক সংহতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই কর্মসূচিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন মিডিয়ার প্রায় ১৫ জন সাংবাদিক, CMS-এর শিক্ষক-গবেষক, ILO ও অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অভিবাসন খাতের পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী পর্বে নেটওয়ার্কিং ও সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে একাডেমিয়া, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক জনসংযোগ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.