× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

‘সহিংসতা নয়, শান্তিই মানুষের দাবি’ চার দিনব্যাপী বহুদলীয় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচারণা

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০২ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

সম্মানিত ময়মনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থীবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমের সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ,  ময়মনসিংহের  নাগরিকবৃন্দ এবং ভোটারবৃন্দ সবাইকে মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম, সম্প্রীতি-টিম এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আমাদের এই আয়োজনে সম্প্রীতি টিমের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গন অধিকার পরিষদ, গন সংহতি আন্দোলন, এবং গন ফোরামের নেতৃবৃন্দ। 

আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি খুবই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত জরুরি একটি দাবিকে সামনে রেখে—আর সেটি হলো- সহিংসতা নয়, শান্তিই মানুষের দাবি। ময়মনসিংহের মানুষ রাজনীতি বোঝে। তারা ভোটের গুরুত্ব বোঝে। কিন্তু তারা ভয় নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। দুঃখজনক হলেও সত্য, চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় আমরা উদ্বেগজনক চিত্র দেখছি। কিছু এলাকায় নারী ভোটাররা বলছেন— “ভোট দিতে যাব, কিন্তু পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।”

ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৮, ময়মনসিংহ-৯ এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ভাংচুর, সংঘর্ষ,  এবং চরম পর্যায়ের খবর (মৃত্যু) আমরা সবাই কমবেশি শুনেছি। এই ঘটনাগুলোকে আমরা যেভাবেই বিশ্লেষন করি না কেন এটা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে যা ভোটারকে ভোগকেন্দ্রে যেতে নিরোৎসাহিত করতে পারে, এর প্রভাব খুব গভীরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ যে কোনো সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। ফলে সাধারণ মানুষেরা যারা কোনো দলের কর্মী নয়,  কিন্তু ভোট দেয়ার অধিকার রাখে,তাদের ভোট দেয়ার আগ্রহ কমে যায় এবং রাজনীতি বিমুখতা তৈরি হয়। প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণরা বিভ্রান্ত হয়। বয়স্ক মানুষ দ্বিধায় পড়ে যায়। প্রান্তিক জনগোষ্টির ভোটার এবং  নারীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিবেশ হতে পারে না। এই কারণেই আজকের এই মঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করছি। 

আজ এখানে মযমনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থীগন উপস্থিত আছেন, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আছেন, আপনারা সব সময় বলে আসছেন যে,একটা গনতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকতে হবে, ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে হবে কিন্তু কোন অবস্থাতেই প্রতিহিংসা থাকতে পারেনা, কোন   সহিংসতা থাকতে পারে না, কোন ঘৃণা থাকতে পারে না, জনগনের স্বার্থে সবাই এক। আমরাও এগুলিই প্রত্যাশা করি, জনগনও এটাই চায়। তাই আমরা সম্প্রীতির বন্ধনকে ছড়িয়ে দিতে বহুদলীয় সম্প্রীতির ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি , যা ৪দিনে ১১ টি আসনেই পরিচালিত  হবে। আমরা আপনাদেরকে অনুরোধ করছি যে, এই ক্যাম্পেইনের প্লাটফর্মে দাড়িয়ে জনগনের উদ্দেশ্যে আপনারা/প্রার্থীগন কিছু শান্তিপূর্ণ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে যাবেন যা জনগনকে আশ্বস্থ করবে, জনগন ভোটকেন্দ্রে শান্তিপ্রিয়ভাবে নিরাপদ পরিবেশে নিজের ভোটদানের অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবে।  আমরা চাই—

১. নির্বাচনী সময়ে কোনো প্রকার সহিংসতা বা উসকানিমূলক আচরণ আমরা কেউ করবো না এবং অন্যকেও  বিরত থাকার আহবান করছি এবং করবো।

২. পারস্পরিক সম্মান ও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবো। 

৩. সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তা প্রশমিত করবো।

৪. গণমাধ্যম ও জনসমক্ষে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা প্রচার করবো।

৫. নারীদের প্রতি সকল সহিংসতা (অনলাইন এবং অফলাইন) প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবো।

৬. নির্বাচনী আইন মেনে চলবো এবং ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রাখবো। 

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের আহ্বান— আপনারা নিরপেক্ষ থাকুন,

দৃশ্যমান থাকুন, মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনুন।

এই চার দিনের প্রচারণা শুধু অনুষ্ঠান নয়। এটা একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আমরা শুধু মঞ্চে করব না। আমরা এটা নিয়ে যাব— পথসভায়, পাড়ায়, চায়ের দোকানের আড্ডায়, মিডিয়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনের মানুষ একটাই কথা বলছে— “আমরা ভোট দিতে চাই, নিরাপদে।” এই দাবি অযৌক্তিক নয়। এই দাবি মৌলিক। আজ যদি আমরা শান্তির পক্ষে দাঁড়াতে না পারি, আগামী প্রজন্ম আমাদের প্রশ্ন করবে, তখন আমাদের উত্তর থাকবে না। চলুন, আমরা এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করি— যেখানে ময়মনসিংহ পরিচিত হবে সহিংসতার জন্য নয়, বরং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য। আজ এই সস্প্রীতির উদ্বোধন করবেন  আগামী ১২-ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ময়মনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থীগন । আমরা তাদের প্রত্যেকের জন্য সুস্বাস্থ্য এবং শুভকামনা করছি। বিজয়ী হোক- “সহিংসতা নয়— শান্তিই মানুষের দাবি”।  পরমতে সম্মান করি, সম্প্রীতির দেশ গড়ি।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.